September 19, 2018

গুজরাটকে হারিয়ে ফাইনালে বেঙ্গালুরু

স্পোর্টস ডেস্কঃ  ১৫ বলে ১৫ দরকার! ৩৬ বলে যা ছিল ৬৩! টানা তিন বাউন্ডারিতে আট নম্বর ব্যাটসম্যান ইকবাল আব্দুল্লা এই ব্যবধানও টেনে কমালেন। ম্যাচ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হাতের মুঠোয়। বিরাট কোহলিরা ডাগ আউটে তার আগেই উৎসবে মেতেছেন। গুজরাট লায়ন্স কিংকতর্ব্যবিমুঢ়!

এরপর আব্দুল্লার ব্যাট থেকেই আসে জয়সূচক রান। কোহলিরা দল বেধে মাঠে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবি ডি ভিলিয়ার্সের ওপর! ২৯ রানে ৫ উইকেট হারানো আরসিবিকে যে ফাইনালে নিলেন ডি ভিলিয়ার্সই। ৪৭ বলে ৫টি করে চার-ছক্কায় অপরাজিত থেকেছেন ৭৯ রানে। দুটি পার্টনারশিপ গড়ে আক্ষরিক অর্থেই সুরেশ রায়নাদের হাত থেকে ম্যাচটা ছিনিয়ে নিয়েছেন এই প্রোটিয়া। আব্দুল্লা মৌসুমে প্রথম ব্যাট করতে নেমে ২৫ বলে ৩৩ রান করে আরসিবির বড় নায়ক। ১০ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয়ে আরসিবি ফাইনালে। শাসরুদ্ধকর ম্যাচ জিতে। এলিমিনেটর জয়ীদের সাথে খেলে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ থাকলো নবাগত গুজরাটের সামনে।

৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল গুজরাট। বেঙ্গালুরুতে সেই পতন থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৫৮ রান করেছিল তারা। সেখানে ৪১ বলে ডোয়াইন স্মিথের ৭৩ রানের বীরত্বটা আলোচিত। ব্যাটিং বারুদে ভরা আরসিবির জন্য খুব বড় টার্গেট না। কিন্তু তাদের সেরা তিন ব্যাটসম্যান শূন্য রানে বিদায় নেন। এর একজন কোহলি নিজে! অন্য দুজন মিলে করেন ১০। সেখান থেকে ম্যাচ জেতার কথা ভাবা যায়? ডি ভিলিয়ার্স সেই অকল্পনীয় ব্যাপারটিকে সম্ভব করেছেন। ম্যাচের সেরা তিনি।

পেসার ধাওয়াল কুলকার্নি জয় দেখিয়েছিলেন গুজরাটকে। যেন ফাইনালই দেখিয়ে দিলেন। কোহলি এই প্রথম শূন্য হাতে বিদায় নিলেন। ধাওয়ালের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে বোল্ড হয়েছেন। ম্যাচ তো অর্ধেক জেতা হয়ে গেলো! ক্রিস গেইলের (৯) ব্যর্থতা অপ্রত্যাশিত না। চতুর্থ ওভারে গেইলের সাথে পরের বলে বোনাস হিসেবে লোকেশ রাহুলকে (০) শিকার করেছেন ধাওয়াল। এরপর ফিরে নিয়েছেন শচীন বেবির (০) উইকেট। শেন ওয়াটসন মাঝে (১) রবিন্দ্র জাদেজার শিকার। ৩ ওভারে ৮ রানে ৪ উইকেট ধাওয়ালের! আরসিবির স্বপ্ন চূরি করা শুরু করেছিলেন তিনি।

ডি ভিলিয়াসর্কে এরপরও ম্যাচ জেতাতে হবে! স্টুয়ার্ট বিনি শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান। তিনি দিলেন ২১। ইনিংস মেরামত হলো। ৬৮ রান পর্যন্ত গেলো আরসিবি। ডি ভিলিয়ার্স এরপর সঙ্গী হিসেবে পেলেন আব্দুল্লাকে। সঙ্গীকে আড়াল করে নিজে বড় বড় শট নিতে চেয়েছেন ডি ভিলিয়ার্স। এভাবেই ব্যবধান কমিয়ে চলেছেন। সুযোগ দেননি। হিসেব করে এগিয়েছেন। ডি ভিলিয়ার্সের সেই কোমল অথচ কঠিন ব্যাটিংয়েই সর্বনাশটা হয়েছে গুজরাটের। সপ্তম উইকেটে ৯১ রানের ম্যাচ জেতানো অবিচ্ছিন্ন জুটি হয়েছে। ২৫ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে প্রশংসায় ভেসেছেন আব্দুল্লা।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপদে পড়েছিল গুজরাট। প্লে অফে এসেছে তারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল হিসেবে। কিন্তু ৩.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারানোর চেয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর কি খারাপ হতে পারতো!

দ্বিতীয় ওভারে বাঁ হাতি স্পিনার ইকবাল আব্দুল্লা চার বলের মধ্যে দুই উইকেট নিয়ে নিলেন। তুলে মেরে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে কভারে ক্যাচ দিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (১)। এক বল পরে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে স্লিপে ক্রিস গেইলের হাতে বন্দী হয়ে ফিরলেন অ্যারন ফিঞ্চ (৪)। এক ওভার পর শেন ওয়াটসনের শর্ট বলে পুল করে ইন ফর্ম অধিনায়ক সুরেশ রায়নাও (১) ফিরে এলেন। তিন বিপজ্জনক টপ অর্ডারকে হারিয়ে দিশেহারা অবস্থা গুজরাটের।

ইনিংস মেরামত করার কাজ করতে করতে হামলা চালালেন স্মিথ। সঙ্গ দিলেন দিনেশ কার্তিক। তাতে ৮৫ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি দিলো গুজরাটকে। স্মিথ কেড়ে নিয়েছিলেন উৎসবে শুরু করা আরসিবি বোলারদের হাসি। আব্দুল্লা-চাহালদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছেন। তবে ২৬ রান করা কার্তিকের বিদায়ের পর ৮ রানের মধ্যে আরো ২ উইকেট তুলে নেয় আরসিবি। ৩১ বলে ফিফটি করেছিলেন স্মিথ। তার ৭৩ রানের দারুণ ইনিংসে ৫টি চার ও ৬টি ছক্কা। স্মিথের মহা মূল্যবান উইকেটটি নিয়েছেন লেগ স্পিনার যুযভেন্দ্র চাহাল।

শেষ ৫ ওভারে ৫১ রান তুলেছে গুজরাট। হারিয়েছে ৬ উইকেট। ১৯তম ওভারে ২ উইকেট নিয়েছেন ওয়াটসন। তবে টেল এন্ডারদের আক্রমণে এই ওভারে তাকে দিতে হয়েছে ২১ রান। তার আগের ৩ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়েছিলেন! তবু ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ওয়াটসনই সবার চেয়ে সফল। ২টি করে উইকেট আব্দুল্লা ও ক্রিস জর্ডানের। চাহালের শিকার ১ উইকেট। ওয়াটসন ও চাহালের এখন আইপিএল সর্বোচ্চ ২০ উইকেট।

গুজরাট লায়ন্সঃ  ১৫৮ (২০ ওভার)
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু : ১৫৯/৬ (১৮.২ ওভার)
ফলঃ  রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ৪ উইকেটে জয়ী।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৫ মে ২০১৬

Related posts