November 21, 2018

গুইমারায় গলা কাটা লাশ নিয়ে চাঞ্চল

684
আল-মামুন,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: গুইমারায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যবসায়ীর গলা কাটা লাশ নিয়ে চা লের সৃষ্ঠি হয়েছে। হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে জোসনা বেগম (৫০)মো: হারুন,পারভিন আক্তার(২২) মো:খালেদ প্রকাশ(৩৫),নুর মোহাম্মদ (৪৫) নামের ৫ জনকে দুই দফায় আটক করে ৫জনকে ৩দিনের রিমান্ডে নিয়েছে গুইমারা থানা পুলিশ।

জানাযায়, গ্রেফতারের পর সন্দেহ ভাজনদের আদালতে আসামীদের হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ১৯শে ফেব্রুয়ারী ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। নিহতের লাশ গুইমারা উপজেলার কবুতরছড়া এলাকা থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারী উদ্ধার করে গুইমারা থানা পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের কোন পরিচয় না থাকায় লাশ খাগড়াছড়ি পৌর সভার মাধ্যমে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়।

এ ব্যাপারে গুইমারা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা গত ৬ ফেব্রুয়ারী পুলিশ বাদী হয়ে করা হয়েছে। মামলা নং ১/১৬। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ধা-ছুড়ি উদ্ধার করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত রাসেল নামের ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন যাবত গ্রেফতারকৃত জোসনা বেগমের বাসায় বসবাস করত জোসনা বেগমকে খালা পরিচয় দিয়ে। সে চট্রগ্রামের আ লিক ভাষায় কথা বলত। তার বাড়ী চান্দগাও থানার বদ্দারহাটহাট এলাকার বাসিন্দা বলে গ্রেফতারকৃত জোসনা বেগমের স্বামী ইলিয়াস মিয়া জানান, তার স্ত্রীর সাথে খালা পরিচয়ের সুত্র ধরে তাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

নিহত রাসেল দীর্ঘদিন বিদেশে থাকত। পরিবারের সাথে মনোমালিন্যের কারনে রাসেল বিদেশ থেকে অর্জিত টাকা দিয়ে এখানে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গরুর ফার্ম প্রতিষ্টার সরঞ্জমাদী সংগ্রহ করছিল। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে গ্রেফতারকৃত নুর মোহাম্মদ ও খালেদ প্রকাশকে নিয়ে গরু কেনার জন্য জোসনা বেগমের বাড়ীতে আলাপ আলোচনা হয়। তার পর সাপ্তাহিক মঙ্গলবার গুইমারা বাজারের দিন নুর মোহাম্মদ ও খালেদ প্রকাশ গরু কেনে। তারপর থেকেই রাসেলের খোজ পাওয়া যাচ্ছিলনা।

নিখোজের ৩দিন পর গত ৫ই ফেব্রুয়ারী উপজেলার কবুতরছড়া এলাকা থেকে নিহতের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামী জোসনার স্বামীর দাবি নিহত রাসেল ঘটনার  সপ্তাহ খানেক আগে তাদের বাড়ীতে আসা যাওয়া বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এলাকাবাসী বলছে ঘটনার ২/৩দিন আগেও জোসনা বেগমের বাড়ী হাজাপাড়ায় নিহত ব্যবসায়ীকে দেখা গেছে। হত্যাকান্ডের ১৭দিন পরও নিহতের পরিচয় সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। সচেতন মহল এটিকে পুলিশের ব্যর্থতা বলেই মনে করে। এলাকার জনসাধারনের অভিযোগ একটি অচেনা লোককে কি করে জোসনার পরিবার বাড়ীতে আশ্রয় দিল। তারা অবশ্যই লোকটির পরিচয় জানত।  বাড়ী থেকে অচেনা একটি লোক নিখোজ হওয়ার পরও পুলিশকে অবগত করায়নি। এটাইতো সন্দেহ ও ভাববার বিষয়।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, নিহত লোকটির সাথে জোসনার বড় মেয়ে পাখি আক্তারের আগে থেকেই জানাশোনা ও পরিচয়ের সুত্র ধরে রাসেল গুইমারায় আসে বলে এলাকাবাসীর ধারনা। পাখি চট্রগ্রামে একটি পোষাক তৈরীর কারখানায় কাজ করে। এখানে বসবাসরত অবস্থায় জোসনার ছোট মেয়ে পারভিন আক্তারের সাথে নিহত রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক ঘরে উঠে।

ঘটনার কয়েকদিন আগে পারভিন আক্তারের সাথে নিহতের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নানান রকমের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এলাকাবাসী জানায়,পারভিন আক্তারের সাথে এরকম আরো ছেলেদের সম্পর্ক ছিল। প্রেম সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরেই হত্যাকান্ডটি ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারনা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মশিউর রহমান জানান,নিহতের নাম পরিচয় জানার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে চেষ্ট চলছে। রিমান্ড এবং মামলার ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts