September 19, 2018

গান লেখা, গাওয়া, শোনা লা’নতগ্রস্ত এবং জাহান্নামী হওয়ার কারণ

954

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমি বাদ্যযন্ত্র ও মূর্তি ধ্বংস করার জন্য প্রেরিত হয়েছি।’

পবিত্র সামা শরীফ উনার মাহফিল অর্থাৎ পবিত্র হামদ শরীফ, পবিত্র না’ত শরীফ ও পবিত্র ক্বাছীদা শরীফ পাঠ করা, শোনা ও লেখা প্রত্যেকটাই সুন্নত এবং অশেষ ফযীলত হাছিলের কারণ।

অপরদিকে গান লেখা, গাওয়া, শোনা এবং গান-বাজনা ও নাচের অনুষ্ঠান করা, দেখা, শোনা প্রত্যেকটাই হারাম, কুফরী ও লা’নতগ্রস্ত এবং জাহান্নামী হওয়ার কারণ।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ’ উনার মধ্যে ঈমানদার, নেককার ও আল্লাহওয়ালা কবি ও উনাদের কবিতার ছানা-ছিফত করে পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন।

বুখারী শরীফ উনার মধ্যে হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, ‘নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতা (ক্বাছীদা) হিকমতপূর্ণ।’ সুবহানাল্লাহ!

, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে, “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিশিষ্ট ছাহাবী কবি হযরত হাসসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জন্য মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে একটি মিম্বর শরীফ স্থাপন করেছিলেন। তিনি উনার উপর দাঁড়িয়ে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ হতে গৌরবময় ক্বাছীদা শরীফ অর্থাৎ না’ত শরীফ অথবা কাফিরদের কুফরীমূলক এবং অশ্লীল ও অশালীন বক্তব্যের জওয়াবস্বরূপ ক্বাছীদা শরীফ অর্থাৎ না’ত শরীফ পাঠ করতেন। আর ফখরে মওজুদাত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলতেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত হাসসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার দ্বারা সাহায্য করেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ হতে গৌরবময় ক্বাছীদা শরীফ অর্থাৎ না’ত শরীফ অথবা কাফিরদের কুফরীমূলক এবং অশ্লীল ও অশালীন বক্তব্যের জওয়াবস্বরূপ ক্বাছীদা শরীফ অর্থাৎ না’ত শরীফ পাঠ করতে থাকেন।”

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত বর্ণনা দ্বারা এটাই প্রতিভাত হয় যে, হামদ শরীফ, না’ত শরীফ ও ক্বাছীদা শরীফ রচনা করা, আবৃৃত্তি করা ও শ্রবণ করা সবই সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত এবং ফযীলতের কারণ। এ মহান সুন্নত মুবারক পালনার্থে চীশতিয়া খান্দান উনার মাশায়িখগণ পবিত্র সামা শরীফ উনার মজলিস করতেন। আমরাও পবিত্র সামা শরীফ উনার মজলিস করে থাকি। সুবহানাল্লাহ!

কেউ কেউ বলে যে- ‘বিবাহ অনুষ্ঠানে গান-বাজনা করা জায়িয।’ আবার কেউ বলে যে- ‘ইসলামী গান যেমন: নবীতত্ত্ব, মুর্শিদী, জারি ইত্যাদি জায়িয।’ তারা কারণ হিসেবে বলে থাকে যে, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি গান-বাজনা করেছেন।’ নাঊযুবিল্লাহ! তারা আরো বলে যে, বুখারী শরীফ উনার ২য় খ-ের ২২৫ পৃষ্ঠায় এবং ৫ম খ-ের ৫৫৫ পৃষ্ঠায় ‘গান-বাজনা’ জায়িয বলে লেখা আছে। নাঊযুবিল্লাহ!

, মূলত ইসলামী শরীয়ত উনার দলীল- পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের অকাট্য ও কেৎয়ী দলীল দ্বারা ‘গান-বাজনা’ সুস্পষ্টভাবে হারাম সাব্যস্ত হয়েছে।

, তাফসীরে কুরতুবী শরীফ, তাফসীরে তাবারী শরীফ, তাফসীরে দুররে মানছুর শরীফ, তাফসীরে রূহুল মায়ানী শরীফ, তাফসীরে মাদারিক শরীফ, তাফসীরে কাশশাফ শরীফ, তাফসীরে মায়ালিম শরীফ, তাফসীরে ছায়ালাবী শরীফ ইত্যাদি কিতাবসমূহে এবং হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘আদাবুল মুফরাদ শরীফ’ কিতাবে ‘লাহওয়াল হাদীছ’ বাক্য দ্বারা ‘গান-বাজনা’,‘বাদ্য-যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন। অনুরূপ পবিত্র সূরা ফুরক্বান শরীফ, পবিত্র সূরা নজম শরীফ ও পবিত্র সূরা বনী ইস্রাঈল শরীফ উনাদের মধ্যেও ‘গান-বাজনা’ হারাম হওয়ার ব্যাপারে পবিত্র আয়াত শরীফ উল্লেখ রয়েছে।

হযরতুল আল্লামা শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘তাফসীরে আযীযী শরীফ’ উনার ১ম খণ্ডের ৬৫ পৃষ্ঠায় লিখেন, ‘তাফসীরে মুগনী শরীফ’ কিতাবে উল্লেখ আছে, ‘লাহওয়াল হাদীছ’ হচ্ছে গান-বাজনা, সঙ্গীত। এ পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা তা হারাম সাব্যস্ত হয়েছে। যে ব্যক্তি এটাকে হালাল জানবে সে কাফির হবে। নাউযুবিল্লাহ!

, মূলকথা হলো- সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে বিবাহ অনুষ্ঠানসহ সকল স্থানেই ‘গান-বাজনা’ করা হারাম। এটাকে হালাল বলা কুফরী। সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জীবনে কখনো ‘গান-বাজনা’ করেননি। আর বুখারী শরীফ উনার কোথাও ‘গান-বাজনা’ জায়িয বলা হয়নি। তবে সামা শরীফ উনার মাহফিল অর্থাৎ হামদ শরীফ, না’ত শরীফ ও ক্বাছীদা শরীফ পাঠ করা, শোনা ও লেখা প্রত্যেকটাই সুন্নত মুবারক এবং অশেষ ফযীলত হাছিলের কারণ। অপরদিকে গান লেখা, গাওয়া, শোনা এবং গান-বাজনা ও নাচের অনুষ্ঠান দেখা ও শোনা প্রত্যেকটাই হারাম ও কুফরী এবং লা’নতগ্রস্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ। যার থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেকের জন্যই ফরয-ওয়াজিব।

Related posts