September 19, 2018

গাছে বেঁধে নখে সুঁচ ফুটিয়ে শিশু নির্যাতন!

গাছে বেঁধে শিশু (রাজিব) নির্যাতন

স্টাফ রিপোটার: কিশোরগঞ্জের নিকলীতে রাজিব (১২) নামে এক শিশু বর্বর কায়দায় নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। মোবাইল চুরির সন্দেহে ওই শিশুকে গাছে বেঁধে পায়ের নখের নিচে ফুটানো হয় একাধিক সুঁচ। মুখে ঢোকানো হয় গরম রড। দেয়া হয় শরীরের বিভিন্ন স্থানে রডের ছ্যাঁকা।

শিশুটি এখন নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। শিশুটি দামপাড়া কামালপুর গ্রামের তারু মিয়া ছেলে। গত শনিবার বিকালে শিশুটির বাবা তারু মিয়া বাদী হয়ে নিকলী থানায় ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় প্রধান আসামি পূর্বহাটি গ্রামের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে ইয়াসিনকে (৩৫) পুলিশ গ্রেফতার করে। গতকাল রোববার ইয়াসিনকে কিশোরগঞ্জের ৪নং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. শাহাদাত হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ঘটনার অন্য আসামিরা হলেন ইয়াসিনের শাশুড়ি রাজিয়া (৫৫), রাজিয়ার ননদ আলিফবে (৪৫) ও প্রতিবেশি দ্বীন ইসলাম (২৫)।

শিশুটির পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিত রাজিবের মা রৌশনা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন। বাবা তারু মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করায় রৌশনা তার দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে নাগারছিহাটি গ্রামের বাবার বাড়িতে বসবাস করেন। হতদরিদ্র পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে শিশু রাজিব কৃষি মৌসুমে দৈনিক ৪০/৫০ টাকা মজুরিতে অন্যের জমিতে কাজ করে। ৮ নভেম্বর ভোরে রাজিব পূর্বহাটি গ্রামের আহির উদ্দিন মুন্সির ছেলে ছালামের জমিতে কাজে যাওয়ার জন্য খেয়াঘাটে গিয়ে নৌকায় ওঠেন। এসময় ইয়াসিন কয়েক দিন আগে তার মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে শিশু রাজিবকে নৌকা থেকে নামিয়ে বেদম মারপিট করেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে ইয়াসিন তার শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এসময় রাজিব আহাজারি করতে থাকলে ইয়াসিনের শাশুড়ি রাজিয়া গামছা দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলেন। এরপর ইয়াসিন সুঁচ গরম করে রাজিবের পায়ের নখে ফুটাতে থাকেন। সহ্য যন্ত্রণায় রাজিব কাতরাতে থাকে।

এদিকে রাজিয়ার ননদ আলিফবে (৫৫) (ইয়াসিনের ফুফু শ্বাশুড়ি) এবং প্রতিবেশি দ্বীন ইসলাম (২৫) লোহার রড গরম করে রাজিবের শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দেন। একপর্যায়ে রাজিবের মুখের গামছা খুলে গেলে সে আর্তচিৎকার করতে থাকে। এসময় তার মুখে গরম রড ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এতে তার জিহ্বাসহ মুখের ভেতরের অনেকটা অংশ পুড়ে যায়। বর্বর নির্যাতনে রাজিব নির্জীব হয়ে পড়লে ইয়াসিন তাকে টেনেহিঁচড়ে দামপাড়া বাজার ঘুরিয়ে দুপুরে মা রৌশনার বাড়ির উঠোনে ফেলে রেখে যান। প্রতিবেশীরা মুমূর্ষু অবস্থায় রাজিবকে উদ্ধার নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন ।

এদিকে নিকলী থানার ওসি এ কে এম মাহাবুব আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, প্রধান আসামি ইয়াসিনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তিন আসামি রাজিয়া, আলিফবে এবং দ্বীন ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করি তাদেরকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।

গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts