September 24, 2018

গাইবান্ধা-৩ আসন: আ’লীগের দেড় ডজন, জাপা-বিএনপি’র প্রার্থী প্রায় নিশ্চিত

saf

তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা থেকে : আসন্ন্ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধা-৩ আসন থেকে আওয়ামীলীগ থেকে ইতোমধ্যে দেড় ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। সেই সাথে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি’র একক প্রার্থী প্রায় নিশ্চিত করছেন দলীয় হাইকমান্ড।

সাদুল্যাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৩ আসন। সাদুল্যাপুর উপজেলায় ১১ ও পলাশবাড়ী উপজেলা ৯টি ইউনিয়নসহ সর্বমোট ২০টি ইউনিয়ন রয়েছে এ আসনে। বিগত ১৯৮৬ সাল থেকে টানা ৩০ বছর এ আসনটি জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি ছিলো। গত ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা ৬ বার এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন জাতীয় পার্টির ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী। কিন্তু মহাজোটের কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনটি জাপা’র হাতছাড়া হয়ে যায়। ফলে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ডা. ইউনুস আলী সরকার এমপি নির্বাচিত হন।

এবার একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আসনে মহাজোটের মধ্যে চলছে নানা হিসেবে-নিকাশ। মহাজোট থেকে কোন্ দল নির্বাচন করবে? আওয়ামীলীগ নাকী জাতায়ী পার্টি? এমন প্রশ্ন সাধারণ ভোটার থেকে রাজনৈতিক মহলের মধ্যে। তবে কেউই হাল ছাড়তে নারাজ। এর মধ্যে দিয়ে মহাজোটের সম্ভাব্য প্রার্থীগণ জনসংযোগ অব্যহত রেখেছেন।

গাইবান্ধা-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রায় দেড় ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জাপা ও বিএনপি’র প্রার্থীদের পদচারণায় নির্বাচনী হাওয়া বইছে এ আসনের দুই উপজেলা সাদুল্যাপুর ও পলাশবাড়ীতে।

সকল দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে পোস্টার-ফেস্টুন ও প্লাকার্ডে জানান দিচ্ছেন তাদের আগমন বার্তা। আসনটি আওয়ামী লীগের ধরে রাখা, জাতীয় পার্টির পুনরুদ্ধার এবং বিএনপি’র জন্য জয় ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে প্রার্থীদের। জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে খ্যাত এ আসন। সাবেক মন্ত্রী ও জাপা নেতা ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী এ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পর পর ৬ বার এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু রাব্বী চৌধুরী জাপা (এরশাদ) ছেড়ে জাপা (কাজী জাফর) দলে যোগদান করেন এবং গত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি। সে সময় জাপা (এরশাদ) থেকে ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী মনোনয়ন পেলেও মহাজোটের কারণে এবং দলীয় সিদ্ধান্তে তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ফলে এ আসনটি জাপা’র দুর্গ হলেও হাতছাড়া হয়ে যায়। মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতা ডা. ইউনুস আলী সরকার নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতি, গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মতিয়ার রহমান, সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ জাকারিয়া খন্দকার, সামসুজ্জোহা প্রামাণিক রাঙ্গা, সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়ার খান বিপ্লব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. এমএ ওয়াহেদ মিয়া, বর্তমান কেন্দ্রীয় মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হক, পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু বকর প্রধান, সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ তোফাজ্জল হোসেন সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারোয়ার বিপ্লব, বঙ্গবন্ধু সাহিত্য ও গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক বজলার রহমান রাজা, জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ এমএস রহমান। এছাড়াও স্কুল শিক্ষক আজিজার রহমান বিএসসি, ডা. শাহ মো. ইয়াকুবুল আজাদ, ফিরোজ কবির সুমন, নুরুন্নবী প্রধান সবুজ, অ্যাড. নুরুল ইসলাম ও খন্দকার তামান্না, সাদ্দাম হোসেন চৌধুরী শুভ এর নামসহ আরো অনেক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে।

এদিকে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পীর মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত করেছেন দলের প্রেসিডেন্ট আলহাজ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি গত ১৪ই জুন পলাশবাড়ীর শিল্পী ভোজনালয়ে দলীয় ইফতার মাহফিলে ও সাংবাদিকদের দেয়া ব্রিফিংয়ে ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পীর নাম দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে জাপা’র আরেক নেতা জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জাতীয় পার্টির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম সাচ্ছা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। জাতীয় পার্টির (জেপি) রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে করিম পল্লবও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অপরদিকে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জাপা (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও এমপি ড. টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী এ নির্বাচনে অংশ নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোট তথা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ পেলে নির্বাচন করতে পারি।

এছাড়াও বিএনপি থেকে- গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিকের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত করেছে দলীয় হাইকমান্ড। তিনি ইতিমধ্যে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যত্রমকে গতিশীল করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। ফলে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তবে পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম সরকার (টুপি আলম), সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ মারো ও সাবেক ছাত্রনেতা ড. মিজানুর রহমান মাসুম, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফিক এর নামও শোনা যাচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে।

এদিকে ১৪ দলীয় জোট থেকে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ভিপি এসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও জাসদের আরেক নেতা সাংবাদিক নুরুজ্জামান প্রধান।জামায়াত নেতা পলাশবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচন করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। সবমিলে গাইবান্ধা-৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা সরব হয়ে উঠেছে।

সাদুল্যাপুর ও পলাশবাড়ী উপজেলার দায়িত্বরত নির্বাচন অফিসার শাহীনুর আলম জানান, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭ হাজার ৫শ ৭২। এর মধ্যে সাদুল্যাপুর উপজেলায় পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৮ হাজার ৫শ ৭০, মহিলা ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৪শ ৪৯ এবং পলাশবাড়ী উপজেলায় পুরুষ ৮৯ হাজার ৬শ ৮৫, মহিলা ৯৫ হাজার ৮শ ৬৮ ভোট রয়েছে।

Related posts