September 22, 2018

গাইবান্ধায় ২০০০ বিএনপি-জামায়াত গ্রেপ্তার!

চলতি বছরে গাইবান্ধায় ২০০০ বিএনপি-জামায়াত গ্রেপ্তার

তোফায়েল হোসেন জাকির,গাইবান্ধা থেকে: চলতি বছরে বিশেষ অভিযানে গাইবান্ধা জেলায় বিএনপি-জামায়াত শিবেরর দুই হাজারের অধিক গ্রেপ্তার হয়েছে বলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে।

পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম জানান, গাইবান্ধার ৭টি থানাকে সন্ত্রাস ও নাশকতা মূক্ত জনপদে পরিণত করতে পুলিশ প্রশাসনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে ।

সূত্র মতে, গ্রেপ্তাদের মধ্যে রয়েছে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের পলাতক আসামীর সংখ্যাই বেশী। এদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও নাশকতার মামলা রয়েছে। রয়েছে খূন, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি, চাঁদাবাজি, হামলা, ভাংচুর ও সংঘর্ষের অভিযোগ। এর বাইরেও গ্রেপ্তারী পরোয়ানার আদেশ এড়িয়ে যারা আত্মগোপন ছিলো, বিশেষ অভিযানে তারাও আটক হয়েছে। এলাকার বাইরে যারা আত্মগোপণ করে আছে তাদেরকেও আটক করতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-বিজিবির যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

গোয়েন্দা বাহিনীর তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম আরও স্বীকার করেন, উত্তর জনপদে বিএনপি-জামায়াত শিবিরের বিশাল নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সরকারের শীর্ষ মহল অত্যন্ত সর্তক ও সজাগ। তার মধ্যে স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বেশি চিহ্নিত গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ ও পলাশবাড়ী থানা। এই তিন থানা এলাকায় ৬ পুলিশ সদস্য নিহত, থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা-নৈরাজ্য, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও সংঘর্ষের বিছিন্ন ঘটনা অতিতে ঘটেছে।

পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা সড়কে  প্রধান মন্ত্রীর কবর তৈরীর ঘটনাও এলাকাবাসী অবগত। সাঘাটা থানার বোনারপাড়া জংশন স্টেশনের অদুরে রেললাইনের ফিস প্লেট খুলে ট্রেন দূর্ঘটনার খবরও কেউ অজানানেই। গাইবান্ধা সদরের তুলসীঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপে ৬ জন যাত্রী নিহত হওয়ার নজিরও আছে। এসব নাশকতা ও নৈরাজ্যকর চিত্র গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠেকানোর অপকৌশল গ্রহণ করে বিরোধী জোট।

জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মুল্যায়ন সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত থেকে এই তথ্য চিত্র পাওয়া যায়। নির্বাচন পরবর্তীতে বর্তমান সরকার গাইবান্ধা জেলার আইন শৃঙ্খলার উন্নয়ন, সন্ত্রাস- নৈরাজ্য ও নাশকতা দমনে পুলিশ প্রশাসনের রদবদল করেন এবং ফেব্রুয়ারী মাসে গাইবান্ধার কর্মস্থলে যোগদান নিশ্চিত হলে বর্তমান পুলিশ সুপার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে আন্তরিক হন। জন সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন শ্ঙৃখলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রনে থানায় থানায় সুধী সমাবেশের আয়োজনে অধিকতর মনোযোগী হন এবং চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনায় তৎপর হন।

তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত ১১ মাসে বিভিন্ন শ্রেণীর অপরাধে জড়িত প্রায় দুই হাজারের অধিক আসামী গ্রেফতারের সাফল্য ও সুনাম অর্জনে সক্ষম হন। এমন বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হওয়ার আতংকে গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ প্রাপ্ত অপরাধীদের একটি সংবদ্ধ চক্র বর্তমানে এলাকা ছাড়া হয়ে নিরাপদ আশ্রয় আত্মগোপণ করে আছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts