November 13, 2018

গাইবান্ধায় পূঃর্ণ খাল খনন না করা উৎপাদন ব্যহত!

তোফায়েল হোসেন জাকির,গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সিংগিজানী হতে কামারজানি স্লুইচগেট পর্যন্ত বিস্তৃত খালটি পূঃর্ণ খনন না করায় হাজার হাজার হেক্টর জমির উৎপাদন মারাতœকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, খালটি উপজেলার পৌরসভার সিংগিজানী স্লুইচগেট থেকে উৎপত্তি হয়ে পৌরসভা, দহবন্দ, রামজীবন, ছাপড়হাটী ও শ্রীপুর ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মালিবাড়ি হয়ে কামারজানি স্লুইচগেট দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে মিলিত হয়েছে। খালটি বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নাম ধারণ প্রায় ৪৫ কি.মি. দীর্ঘ প্রায় ১০০ ফুট থেকে ১২০ ফুট পর্যন্ত প্রস্থের খালটি দিয়ে এক সময় দুর- দুরান্ত থেকে পাল তোলা নৌকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য করতে আসতেন। কালের চক্রের খালটি ভরাট হয়ে ভূমিরূপ ধারণ করায় সেগুলো অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে যায়। খালটি দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পানি নিস্কাশন ব্যাহত হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে হাজার হাজার হেক্টর নিচু জমির আমন আবাদ হুমকির মূখে পড়ে। এদিকে মরুয়াদহ বিলসহ নারীরকুড়া, শানিরকুড়া, কাশদহ, ধর্মেকুড়া, কচুয়াদহ, শিয়ালেরদহ, বুড়ির কুড়া, ধনি মন্ডলের কুড়া, পাগলার টেক বড়কুড়া, ছোটকুড়া, ছিলামনি, হাড়িব্যাপারীরদহ সহ ছোট বড় আরও অনেক বিল খালটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় বর্ষা মৌসুমে ওই সকল বিলের জলাবদ্ধতা অনেক বেড়ে যায়। মরুয়াদহ খালটির উপর মৎস্যজীবি বর্তমানে ৫শ ৬১ মৎস্য চাষী খালের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

এ জন্য খালটি পরিকল্পিতভাবে পূঃর্ণ খনন করা জরুরী বলে এলকাবাসীর দাবী। মরুয়াদহ খালটিসহ দক্ষিণ অংশে আরো ১০/১২টি ছোট-খাট বিল রয়েছে । খালটি খননসহ ২ ধারে রাস্তা বা বাঁধ নির্মাণ করা হলে বেশি ভাল হয়। খালের দু পাড়ের রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় নিচু জমির পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা অবসানের পথ সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে বর্ষাকালে ভারী বর্ষণে নিচু এলাকার রোপা আমন নিমজ্জিত হবে না। পরবর্তীতে খালের রিজার্ভ পানি দিয়ে রবি ফসল ও বোরো ক্ষেতে সেচ দেয়া যাবে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং সেচ খরচ হবে কম। পুরো খাল মাছ চাষসহ খামার স্থাপন করা যাবে। জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে প্রায় ৫ হাজার লোক। বর্তমানে ২০০০ মৎস্য চাষী জীবিকা নির্বাহ করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার রাশেদুল ইসলাম জানান, এ খালের দু’ধারে প্রায় পনের হাজার হেক্টর নিচু জমি রয়েছে। খালটি খননসহ পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা করা হলে আমন, বোরে ও রবি ফসলের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরো জানান, খাল খননের জন্য উপজেলা এলজিইডি বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী আবু জাফর সালেহ আবেদন পাওয়ার সভ্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে আবেদন পাঠানো হয়েছে। ছাপরহাটী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খোরশেদ আলম জানান, দু’পাড় বেঁধে খাল খনন করা জরুরী। তাহলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, খালে মাছ চাষ করা যাবে এবং খামার করা যাবে। তাতে কয়েক হাজার লোক জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।

কথা হয় মরুয়াদহ খালটি পানি ও সিমানা নির্ধারণের ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লি: এর সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বাবুর সাথে। তিনি জানান, পরিকল্পিতভাবে খাল খনন করা হলে জনগণের আরো আগ্রহ বাড়বে। সরকার যদি সাপোর্ট দেয় তাহলে অনেক লোক উপকৃত হবে। মরুয়াদহ গ্রামের খালের পাড়ের কৃষক শুক্রু মিয়া, রিয়াজুল ইসলাম ও আতাউর রহমান জানান, খালটি এক যুগেরও আগে খনন করা হয়েছিল। তখন ১০/১৫ বছর পানির কোন সমস্যা ছিল না। আবাদ হয়েছিল ১৬ আনার চেয়েও বেশি। তারা আরো জানান, প্রতিবছর ভারী বর্ষনে আস্তে আস্তে খালটি ভরাট হয়েছে। তাই কৃষক বাঁচার জন্য খালটি খনন করা দরকার।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts