September 20, 2018

গাইবান্ধায় গোবরের লাকড়ী তৈরীতে ঝুঁকে পড়েছে গ্রামীণ গৃহবধুরা

zakir photo
তোফায়েল হোসেন জাকির ॥ এক সময়ে গ্রামবাংলার আড়া-জঙ্গলের লতা-পাতা কুড়িয়ে জ্বালানি হিসেবে রান্না কাজে ব্যবহৃত হতো। এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে গ্রামীণ আড়া-জঙ্গল নিধন করে ভুমি তৈরী করা হচ্ছে। আর ওই ভূমিতে ফসল উৎপাদন সহ বসবাস শুরু করেছে ভূমি-জঙ্গল মালিকরা। এ কারণে বিলুপ্তির পথে বনাঞ্চল বা আড়া-জঙ্গল। এর ফলে নি¤œ আয়ের বধুদের রান্না কাজে দেখা দেয় জ্বালানি খড়ির সংকট। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহবধুরা নিজের গাছের খড়ি বা গ্যাস দিয়ে রান্না করতে পারলেও চরম বেকায়দায় পড়েছেন নি¤œ আয়ের বধুরা। তারা গ্যাস বা গাছের কাঠ-খড়ি ক্রয় করতে না পেড়ে শুরু করেছেন গৃহপালিত গরুর গোবর সংগহে। সেই গোবর দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে লাকড়ী/খড়ি। সাশ্রয়ী জ্বালানী ব্যবহারের জন্য গরুর গোবরের তৈরী লাকড়ী গাইবান্ধার গ্রামাঞ্চলের গরীব গৃহবধুদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাই সম্প্রতি জেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে গরুর গোবর দিয়ে লাকড়ী তৈরীর ধুম পড়েছে।
গকতাল গাইবান্ধা জেলার বিভন্ন গ্রামাঞ্চলে ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ করে নি¤œবিত্ত পরিবারের বধুরা গৃহপালিত গরুর গোবরের লাকড়ী তৈরীতে মেতে উঠেছেন। গ্রামীন এই বধুরা সকালে ঘুম জেগে গোয়াল ঘরে প্রবেশ করেন। ডালি ভর্তি বের করেন গোবর। গোবরের সাথে মিশ্রিত করা হয় আংশিক পরিমানের ধানের তুষ। এর পর ২/৩ফুট লম্বা বাঁশের চিকন বাতী বা পাটের শলা দিয়ে বধুরা তৈরী করেছেন লাকড়ী। এসব তৈরীকৃত কাঁচা লাকড়ীগুলো শুকানোর জন্য বাড়ির উঠানে রোদে দাড়িয়ে রাখা হয়। ২/৩দিন পরই শুকিয়ে যায় লাকড়ীগুলো। এভাবে নিত্যদিনের তৈরী শুকনো লাকড়ী মজুদ রাখা হয় নিজ ঘরে।
সাদুল্যাপুর উপজেলার গৃহবধু ছকিনা বেগম ও লতারানী জানান, প্রতি বছরের শুস্ক মৌসুমে আমরা গোবরের খড়ি তৈরী করি। নিত্যদিনে চুলায় জ্বালিয়ে অতিরিক্ত খড়ি মজুদ রাখি। যা বর্ষা মৌসুমে ব্যবহার করা হয়।
গোবিন্দগঞ্জের সাপমারা এলাকার গৃহবধু বাসন্তীবালা বলেন, আমারা গরিব মানুষ। প্রতিদিন খড়ি ক্রয় সম্ভব হয় না। এমনকি অন্যের লতা-পাতা খুটে নিতে দেয় না। তাই আমাদের গৃহপালিত গরুল গোবর দিয়ে খড়ি তৈরী করে জ্বালানী হিসেবে রান্না কাজে ব্যবহার করি। যা আর্থিক ভাবে অনেক সাশ্রয় হয়। মাটির চুলাতে রান্না করতে মজা লাগে বটে।

Related posts