November 20, 2018

গাইবান্ধায় কাটা-মাড়াইকৃত ধান শুকাতে ব্যস্ত গৃহিনীরা

7

তোফায়ের হোসেন জাকির, স্টাফ রিপোর্টার ॥ গাইবান্ধার জেলার চাষাবাদকৃত আগাম জাতের বিআর-২৮ ধান ইতোমধ্যে কাটা-মাড়াই শেষ পর্যায়ে। গৃহবধুরা এই ধান সিদ্ধ করার পর এখন রোদে শুকানোর ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বাড়ি উঠানসহ বিভিন্ন চাতালে গিয়ে ধান শুকাতে গৃহবধুরা মড়িয়া হয়ে উঠেছে। এবারে বৈরী আবহাওয়ার কারণে একটু রোদের ঝিলিক দেখতেই গৃহিনীরা ধান শুকতে নির্ধারিত স্থানে ছুটাছুটি করতে দেখা গেছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গৃহবধু মরিয়ম বেগম ও সাবিনা বেগম বলেন, আমাদের ইরি-বোরো ধান এক বছরের খাদ্য হিসেবে মজুদ রাখি। ইতোমধ্যে মজুদকৃত খাদ্য ফুড়িয়ে গেছে। তাই কাটাই-মাড়াইয়ের চিকন জাতের ধান সিদ্ধ করার পর বিভিন্ন চাতালসহ বাড়ির উঠানে ও রাস্তায় শুকানো হচ্ছে।

পলাশবাড়ি উপজেলার কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, আগাম জাতের বিআর-২৮ ধান কাটা-মাড়াই প্রায় শেষ। আর কয়েকদিন পরেই শুরু হবে হাইব্রিড মোটা জাতের ধান কাটার কাজ। এবারে ইরি-বোরো মওসুমে নানা প্রতিকুলতা পেরুতে হয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ধান ক্ষেতে পোকার আক্রম হয়। সেই সাথে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কালবৈশাখীর ঝড়ের ধানের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে আশানারুপ ফলন পাওয়া সম্ভম হচ্ছে না।

ফুলছড়ি উপজেলার কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, কৃষি শ্রমিকের অভাবে কৃষকরা হাইব্রিড ধান কাটতে না পারায় পানিতে পড়ে থাকা ধান চারায় পরিণত হয়েছে। অনেক কৃষকের ধান জমিতেই পঁচে গেছে। অতিবৃষ্টি হওয়ার কারণে কৃষকরা ধানের খড় শুকাতে পারছে না পঁচে যাচ্ছে শতাধিক একর জমির খড়।

সম্প্রতি গাইবান্ধার জেলার গ্রামীণ সড়কসহ পাকা সড়কগুলো কৃষাণ-কৃষাণীর দখলে। ধান ও খড় শুকানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তেমন রোদ হচ্ছে না। প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। একটু রোদ হলেই কৃষক-কৃষাণীরা ধান ও খড় শুকানোর জন্য কাঁচা পাকা রাস্তা গুলো দখল করে নিচ্ছে।

Related posts