September 20, 2018

গাইবান্ধায় কাঁদা মাটিতে বুনছে শুরু করেছে কৃষকের স্বপ্ন

fh
তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবন্ধা জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের কাঁদা মাটিতে বুনতে শুরু করেছে কৃষকের স্বপ্ন। সম্প্রতি আমন চারা রোপনে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক-কৃষাণীরা। তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সার ও বীজ চারা নিয়ে কোমর বেধে মাঠে নেমেছেন। বিরামহীন গতিতে চলছে আমন চারা রোপনের কাজ।

চলতি আমন মৌসুমে ধানের চারা রোপনে বীজ-চারা সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বিশেষ করে বর্গাচাষীদের মধ্যে বীজ-চারার সংকট থাকায় তারা বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে গুণগত মান যাচাই-বাছাই করে চারা ক্রয় করতে দেখা গেছে। এবারে অনাবৃষ্টির কারণে জমি রোপনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে একাধিক কৃষক জানান।

গতকাল বিকেলে জেলার মীরপুর বাজারে বীজ-চারা ক্রয় করতে আসা বর্গাচাষী এনামুল ও আমিরুল ইসলাম বলেন, সময় মতো আমন বীজ বপনের জন্য আমাদের নিজস্ব জায়গা-জমি না থাকায় প্রতিবারের ন্যায় এবারও হাটে চারা ক্রয় করতে এসেছি।

আদর্শ কৃষক জহির উদ্দিন ও সোলায়মান প্রধান জানান, নিজস্ব জমিতে প্রতি বছরে ধান রোপনের জন্য চাহিদার চেয়েও বেশি পরিমাণে বীজ বপণ করে আসছি। যা রোপন শেষে অতিরিক্ত বীজ-চারা বিক্রি করে লাভবান হওয়া যেত। এসব চারা ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্য দিয়ে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে আমন ধান চাষাবাদের ধুম পড়েছে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ১ লক্ষ ৩ হাজার ৭শ ৮০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে উফশী ও স্থানীয় জাতের ধান রয়েছে।

সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার খাজানুর রহমান জানান, কৃষকদেরকে সারি করে চারা লাগানো এবং কয়েকদিনের মধ্যেই ক্ষেতে কঞ্চি পুতে দেয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে ওই সমস্ত কঞ্চিতে পাখি বসে জমির ক্ষতিকর পোকা নিধন করতে পারে। সেই সাথে পরিচর্যা করে কম মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করে অধিক ফলনের কলা-কৌশলও কৃষকদের শেখানো হচ্ছে।

Related posts