September 24, 2018

গাইবান্ধায় আমন কাটা-মাড়াইয়ে হাসি নেই কৃষকের মুখে

zakir p (2)
তোফায়েল হোসেন জাকির, স্টাফ রিপোর্টার : উত্তরাঞ্চলের কৃষিভান্ডার হিসেবে খ্যাত গাইবান্ধা জেলা। এ জেলায় প্রচুর পরিমানে ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। কৃষকদের খাদ্য চাহিদা মিটিয়েও অবশিষ্ঠ ধান বিক্রি করে মৌলিক চাহিদা মেটানো হয়।
সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাঙ্খিত আমন ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। তবে হাসি নেই কৃষকদের মুখে। কারণ, এবার আমন চাষাবাদে শুরু থেকেই কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একদিকে বন্যা, অন্যদিকে পোকার আক্রমন। রোপিত আমন ক্ষেত বন্যা নষ্ট হওয়ার পর অবশিষ্ঠ ক্ষেতে ছিল পোকার উপদ্রুপ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে চাড়াও দামে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছিল কৃষকদের। তবুও রোগবালাইয়ের কবল রেহাই পায়নি কৃষক সমাজ। ফলে উৎপাদন কম হওয়া কুষকদের মাথায় বাজ পড়েছে। গত বছরে আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ে কৃষকের ঘরে নানা উৎসব থাকলেও এবারে তা যেন ঝিমিয়ে পড়েছে। বর্তমানে আমন ধান ঘরে তুলে বিপাকে পড়েছে তারা।
গোবিন্দগঞ্জের কৃষক মহির উদ্দিন বলেন, পাঁচ বিঘা ধান আবাদ করার পর তিন বিঘা ফসল বন্যার পানিতে বিনষ্ট হয়েছে। বাকী দুই বিঘার মধ্যে এক বিঘা পোকাড় পেটে গেছে। অবশিষ্ঠ ক্ষেতে আশানুরুপ ফলন পাওয়া যায়নি। ধার দেনা করে আমন চাষাবাদ করে চরম বিপাকে পড়েছে বলেন জানান তিনি।
সুন্দরগঞ্জের কুষক আলামিন মিয়া জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নানা প্রতিকুলতার মধ্যে যে পরিমান আমন ধান ঘরে তোলা হয়েছে তা বিক্রি করে দাদনের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। দিয়ে খাদ্য চাহিদা মিটবেনা। বর্তমানে কানোক্রমেই ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভব হচ্ছে না। যেন শুরু হয়েছে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। কাঙ্খিত ফলন না হওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
সাদুল্যাপুরের আমন চাষি মুনছুর আলী ও মোন্নাফ মন্ডল বলেন, আমার ৫০ শতক জমিতে হঠাৎই দেখি ধানের গাছের পাতা ও শীষ সাদা হয়ে যাচ্ছে। পরে কৃষি বিভাগের লোক এসে ওষুধ লিখে দিলে সে মোতাবেক স্প্রে করেও কোন কাজ হয়। ফলে সন্তোষজনক ফলন পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সাঘাটার কৃষক জলিল উদ্দিন বলেন, আমার কোনো আবাদি জমি না থাকায় আমি ৬০ শতক জমি বর্গা নিয়ে আমন ধান চাষ করেছি। ৪০ মণ ধান ঘরে তোলার আশাবাদে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে লোন নিয়ে ধান চাষাবাদ করি। এমতাবস্থায় ওই ক্ষেত থেকে ১০ মণ ধান অর্জন করায় নানা দুশ্চিন্তায় পড়েছি। ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবার জন নিয়ে নির্ঘুম পোহাতে হচ্ছে।
কামারজানির রুহুল আমিন নামের এক কৃষক বলেন, বন্যায় তার পাঁচ বিঘা আমন জমির চারা বিনষ্ট হয়েছে। বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির কারণে ওইসব জমিতে নতুন করে চারা লাগানোর সামর্থ্য না থাকার ফলে ওই জমিগুলো অনাবাদি আছে বলে তিনি জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বলেন, গত বছর আমন মৌসুমে গাইবান্ধায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫শ’ ৯৬ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হলেও এবার আমন মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ২শ’ ৩০ মেট্রিক টন। তা থেকেও হয়তো ঘাটতি হতে পারে।
সংশিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের ভয়াবহ বন্যায় জেলায় ২১ হাজার ৬২৩ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে একমাত্র আমন ফসলেরই ক্ষতি হয়েছে ২০ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমির।

Related posts