November 19, 2018

গর্ভের শিশুর জন্মগত ত্রুটি, লক্ষণ কী?

কেবল মাত্র মানসিকই নয়, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রস্তুতির জন্য গর্ভের শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মাচ্ছে কি না সেটি জানা জরুরি। ৪ ডিসেম্বর এনটিভির স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২২৫৬তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. লুবনা ইসলাম। তিনি ফোরসেইড প্রি-নেটাল ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এনটি স্ক্যান হিসেবে কর্মরত আছেন।

প্রশ্ন : শিশুদের যেসব শারীরিক ত্রুটি জন্মগতভাবে হয়ে থাকে সেগুলো সাধারণত কী কী?

উত্তর : শারীরিক ত্রুটিকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। একটি হলো এনাটমিক্যাল (শারীরিক)। আরেকটি হতে পারে ক্রোমোজোমাল। এটি হলো জিনগত ত্রুটি। যখন একটি বাচ্চার  জিনগত কোনো সমস্যা থাকে, এর প্রকাশ হয় শারীরিক ভাবভঙ্গির মধ্য দিয়ে। শারীরিক ত্রুটির মধ্যে হয়তো পায়ের সমস্যা থাকতে পারে। কারো চোখের ত্রুটি থাকতে পারে। কারো অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ত্রুটি থাকতে পারে।

তবে বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে। সব সময় এটি পরিবর্তন হচ্ছে। যে সমস্ত শারীরিক ত্রুটি আমরা বলতে পারি, ওগুলোকে অনেকটাই ঠিক করে নেওয়া সম্ভব। সবচেয়ে বেশি যেটি জরুরি, সেটি হলো সমস্যাটি শনাক্ত করা। একটি ত্রুটিপূর্ণ বাচ্চা যে আসছে সেটি জানা। আগে থেকেই যদি জানেন, একটু অস্বাভাবিক বাচ্চা আসছে, যার একটি বিশেষ যত্নের প্রয়োজন রয়েছে, তাহলে ভালো হয়। অভিভাবক হিসেবে এটি জানা প্রয়োজন। কারণ রোগ নির্ণয় করলে চিকিৎসা করা সহজ হবে। তবে রোগ নির্ণয় করতে না পারলে তো চিকিৎসা কোন দিকে যাবে সেটি জানা যাবে না।

প্রশ্ন : সাধারণত কী কী ধরনের উপায় বা পদ্ধতির মাধ্যমে  অভিভাবক জানতে পারে বাচ্চাটির জন্মগত ত্রুটি হচ্ছে?

উত্তর : এই ক্ষেত্রে আমাদের মায়ের ওপর দিয়েই একটি পরীক্ষা করতে হয়। একটি আল্ট্রাসাউন্ড করতে হয়। কিছু রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। এবং সবচেয়ে ভালো জিনিস হলো এনটি স্ক্যান। এই স্ক্যানটা করা হয় ১১ সপ্তাহ থেকে ১৩ সপ্তাহ ছয় দিনের মধ্যে। অর্থাৎ গর্ভাবস্থার আড়াই মাসের পড়ে এবং তিন মাসের আগে। এটি স্পর্শকাতর পরীক্ষা। এটি পরে করব বা দুই মাসের মাথায় করব, সেটি করলে চলবে না। এই সময়ে যেই এনটি স্ক্যান করি, এখানে মায়ের সম্পূর্ণ আলট্রাসনোগ্রাম হয়। যেখানে বাচ্চার ঘাড়ের ফ্লুইড, নিউক্যাল ট্রান্সলুসেন্সি মাপি। ওটার পুরুত্বটা গুরুত্বপূর্ণ। যেসব বাচ্চার ক্রমোজোমাল অস্বাভাবিকতা নিয়ে জন্ম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের ফ্লুইডের পুরুত্বটা বেশি পাওয়া যায়। যেদিন আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়, সেখানে মায়ের দুটো হরমোন পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি  মায়ের কিছু ডেমোগ্রাফিক ফ্যাক্টর দিতে হয়। যেমন বয়স, আগে কোনো বাচ্চা রয়ছে কি না-এ রকম আরো কিছু ইতিহাস নেওয়া হয়। এগুলো নিয়ে বিশেষ ধরনের রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট সফটওয়্যারে দিই। তখন সফটওয়্যার একটি প্রতিবেদন তৈরি করে।

সোনোগ্রাম করতে আধা ঘণ্টা বা ৪৫ মিনিট লেগে যায়। যেহেতু এটি একটি বিশেষ সোনোগ্রাম। আমার এনটি স্ক্যান অস্ট্রেলিয়ায় হয়েছিল, সেখানে দুই ঘণ্টা লেগে গিয়েছিল। কারণ বাচ্চার অবস্থা ঠিকমতো আসছিল না। তাই খুব নির্দিষ্ট না হলে এটি করা যায় না।

প্রশ্ন : শিশুর শারীরিক ত্রুটি হবে কি না সেটি নির্ণয়ে এই পদ্ধতিগুলোর ভূমিকা কতখানি?

উত্তর : প্রয়োজন অনেক রয়েছে। আগে যেটা হতো মায়েরা বাড়িতে ছিল। কাজ করতে বাইরে যেত না। তবে এখন দুজনেই বাইরে যায়। আগে থেকে জীবন এখন অনেক বেশি যান্ত্রিক। এখন সারাক্ষণ বাচ্চা নিয়ে বসে থাকার প্রবণতা থাকে না বা চাইলেও হয় না। কারণ প্রত্যেকেই নিজেদের কাজের জন্য বাইরে যায়। যখন এ রকম বাচ্চা কেউ জন্ম দেয়, এটি করা খুব অস্বাভাবিক না। তাহলে ওই বাচ্চার জন্য আলাদা যত্নের ব্যবস্থা করতে হবে। তাই সামাজিক, আর্থিক সব দিক থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। এ ছাড়া তার যদি আরো অন্যান্য বাচ্চা থাকে তাদের বলা তোমাদের ভাই বোন একটু বিশেষ ধরনের হবে। তারাও যেন সামাজিকভাবে ওই শিশুটিকে গ্রহণ করতে পারে সে মানসিকতা তৈরি করতে হবে।এনটিভি

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts