September 22, 2018

গরুর দুধের বিকল্প হিসেবে কী খাবেন

গরুর দুধে

গরুর দুধের দাম এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি। আর এ কারণে খামারিরা গরুকে নানা ধরনের ওষুধ ও হরমোন প্রয়োগ করে দুধের উৎপাদন বাড়িয়ে নিচ্ছেন। আর এতে দুধের পুষ্টিগুণ কমে যাচ্ছে। এছাড়া রয়েছে গরুকে বাড়তি ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর প্রভাব। এসবের কারণে গরুর দুধে হরমোনও বেড়ে যাচ্ছে, যা মানুষের দেহে নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে।

একমাত্র সুষম খাদ্যই হচ্ছে দুধ। কিন্তু অনেকেরই দুধ খেলে পেটের সমস্যা হয়। কিন্তু দুধে যে প্রয়োজন মেটে, পেটে সমস্যা হলে কিভাবে খাবেন? বর্তমানে নানা স্থান থেকে দুধে ভেজাল দেয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ ভেজাল দুধ স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এ কারণে দুধের বদলে বিকল্প খাবারের কথা ভাবা দরকার।

কেনো দুধের বিকল্প?
অনেক খাবার আছে যা আমরা দুধের বিকল্প হিসবে খেতে পারি। ব্রুকোলিতে রয়েছে দুধের তুলনায় বেশি ক্যালসিয়াম। সয়াতে রয়েছে দুধের তুলনায় বেশি প্রোটিন। দই হতে পারে একটি ভালো বিকল্প। এটি তুলসি পাতার সঙ্গে খেলে ভালো। সহজেই তা হজম হবে।

অ্যামন্ড বা কাঠবাদাম দুধ
অ্যামন্ড বা কাঠবাদাম দিয়ে দুধ বানানো যায়। এটি অ্যামন্ড চূর্ণ ও পানির সংমিশ্রণ। এটি যথেষ্ট মজাদারও বটে। এতে আলকালাইন রয়েছে। এটি পেটে সহজেই হজম হয়। তবে এতে দুধের মতো প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম নেই। তবে তা পূরণ করার জন্যও উপায় রয়েছে। সেক্ষেত্রে কলা, খেজুর ইত্যাদি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিন শুরু করার জন্য এক গ্লাস অ্যামন্ড দুধ হতে পারে আদর্শ। এতে বেশি ক্যালোরি ও কোলস্টেরল নেই। এটি হতে পারে জুসের একটি ভালো বিকল্প। দৈনিক এক গ্লাস দুধের বদলে পান করা যেতে পারে এক গ্লাস অ্যামন্ড দুধ। এক্ষেত্রে অ্যামন্ড দুধ গরুর দুধের মতো পুষ্টিকর না হলেও তা পুষ্টিকর কিছু উপাদান মিশিয়ে গরুর দুধের মতোই পুষ্টিকর করা সম্ভব।

সয়া দুধ
সয়াবিন থেকে শুধু সয়াবিন তেলই তৈরি হয় না, দুধও তৈরি করা যায়। এই দুধ গরুর দুধের মতোই দেখতে। এছাড়া এর স্বাদ ও গন্ধ অনেকটাই গরুর দুধের কাছাকাছি। সয়াবিন থেকে তৈরিকৃত এই দুধের নাম সয়া দুধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সয়া দুধে গরুর দুধের চেয়ে আমিষের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি। এতে লেসিথিন নামে এক প্রকার উপাদান আছে যা স্মরণ শক্তি বাড়াতে কাজ করে। প্রতি ১০০ গ্রাম সয়াবিনে পুষ্টি উপাদানের মধ্যে আছে ৪৩ গ্রাম আমিষ। এছাড়া এতে আছে শরীরে শক্তি উৎপাদনকারী চর্বি, দাঁত ও হাড় গঠন এবং হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধকারী ক্যালসিয়াম, রক্তশূন্যতা,ও শরীরের দুর্বলতা প্রতিরোধকারী লৌহ, রাতকানা ও চক্ষুরোগ প্রতিরোধক ভিটামিন ‘এ’। সয়া দুধ পশ্চিমা দেশগুলোতে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দুধের বিকল্প হিসেবে এটিও যথেষ্ট সম্ভাবনাময়।

Related posts