September 24, 2018

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন বাবুলের শ্যালিকা!

ঢাকাঃ  স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বামী পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেল চারটায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি এখন খিলগাঁও মেরাদিয়া ভূঁইয়াপাড়ায় (বাসা নং ২২০/এ) শ্বশুর বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

শনিবার সকাল থেকেই এ নিয়ে গণমাধ্যমে নানা কথাবার্তা হয়েছে।

বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিকেল ৪টার কিছুক্ষণ পরেই সে (বাবুল আক্তার) বাসায় ফিরেছে। এরপর গোসল করে ঘুমিয়ে পড়ে। তার সাথে বিস্তারিত কথা বলা এখনো সম্ভব হয়নি।’

এদিকে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়েছে ‘মেয়ে মিতুকে হত্যার পরিকল্পনার ছক জামাতা বাবুল আক্তার নিজেই করেছিলেন’ এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাবুল আক্তারের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের খবর প্রকাশের কথা প্রথম শুনলাম। আমি মোটেও এসব ফালতু সংবাদ বিশ্বাস করি না। শুরু থেকেই একটি চক্র দুটি পরিবারের চরিত্র হননের চেষ্টা করে আসছে। সেই চক্রের চক্রান্তরায় এমন সংবাদ ছড়াচ্ছে বলে জানান তিনি।

কোথা থেকে তাকে নিয়ে আসা হলো, কারা পৌঁছে দিলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডিবি ডিসি (পূর্ব) মাহবুবুল আলমের গাড়িতে তাকে পৌঁছে দেয়া হয়।

এসপি বাবুল আক্তারের নিহত স্ত্রী মাহবুবা আক্তার মিতুর ছোট বোন শায়লা মোশাররফ নিনজা বলেন, গণমাধ্যম অত্যন্ত বাজেভাবে আমার বোন-জামাইকে নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করেছে সেটা অত্যন্ত অরুচিকর। এই সংবাদ প্রকাশের সময় আমাদের কারো কোনো বক্তব্য নেয়া হয়নি।

এমন সংবাদ প্রচারকারী গণমাধ্যমে বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন বলেও জানিয়েছেন শায়লা মোশাররফ।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তার শ্বশুর বাড়ি খিলগাঁও মেরাদিয়া ২২০ নম্বর বাসা থেকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে মিতু হত্যায় সরাসরি জড়িত সন্দেহে আবু মুছা (৪৫) ও এহতেশামুল হক ভোলা (৩৮) নামে দুই ব্যক্তিকে ইতোমধ্যেই আটক করেছে পুলিশের একটি ইউনিট। এরা দু’জনই এসপি বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে তারা মিতুকে হত্যা করেছে অথবা সাহায্য করেছে। তাছাড়া মিতু হত্যায় যে অস্ত্রটি ব্যবহার হয়েছে, সেটি নাকি বাবুল আক্তরের সোর্স বিভিন্ন সময় ভাড়া দিতো।

এর মধ্যে আবু মুছা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। অনেক সময় ভাড়াটে খুনি হিসেবেও কাজ করেন। এসপি বাবুল আক্তারের হাতে একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে ভোলাও একজন সন্ত্রাসী ছিলেন। এখন তিনি ৩৫ নম্বর বকশিরহাট ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক মামলা। বেশ কিছুদিন ধরে দু’জনই বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে কাজ করছেন। আর এসব বিষয় নিয়েই ডিবি পুলিশ বাবুল আক্তারের সঙ্গে কথা বলবে বলেই জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুন নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে খুন হন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পরদিন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তার বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)। তবে মামলার মূল তদন্তে আছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যদিও সবগুলো সংস্থা মিলে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার তেমন কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।আস

Related posts