September 19, 2018

গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে শপথ নিল ছাত্রদল

111
ঢাকাঃ  গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার শপথ নিয়েছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ লক্ষ্যে তারা অতীত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সামনে থেকে ভূমিকা রাখবে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে এ শপথ নেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদসহ সদ্য ঘোষিত বিভিন্ন ইউনিট শাখার নেতারা। বিএনপির সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ছাত্রদল নেতাদের এ শপথ গ্রহণ করান।

এর আগে, ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ছাত্রদলের নেতারা আজ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শপথ নিয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তারা পুরোভাগে কাজ করবে। অতীতের ঐতিহ্য অনুযায়ী আন্দোলন-সংগ্রামে তারা বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে।

সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না এমন দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের দমননীতি ও নির্যাতনের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ছাত্র সংগঠন নেই। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না। সমগ্র দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তাদের অনেককে গুম-খুন করা হয়েছে, অনেককে গ্রেপ্তার করে দিনের পর দিন কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে রাখা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রদলের নেতারা দেশের ছাত্ররাজনীতিকে সত্যিকার অর্থে ইতিবাচক গণতান্ত্রিক রাজনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছে। একইসঙ্গে তারা শিক্ষাঙ্গনগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে, ছাত্রদের সমস্যাগুলো নিয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা আমান উল্লাহ আমান, ফজলুল হক মিলন, নাজিমউদ্দিন আলম, খায়রুল কবির খোকন, আজিজুল বারী হেলাল; বর্তমান সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সহ-সভাতি তারেক-উ জ্জামান তারেক, নাজমুল হাসান, মনিরুজ্জামান রেজিন, মামুন বিল্লাহ, ইখতিয়ার রহমান কবির, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. রাসেল, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, মিজানুর রহমান সোহাগ, দপ্তর সম্পাদ আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়াসহ কেন্দ্রীয় সংসদ ও বিভিন্ন ইউনিটের সহস্রাধিক নেতা-কর্মী।

ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার ১৬ মাস পর আজ (শুক্রবার) আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালো ছাত্রদলের নেতারা। যদিও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হওয়ার পরপরই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করার প্রথা রয়েছে।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আংশিক কমিটির নেতারা তখন সংগঠনটির ওই প্রথা মানেননি কিংবা মানতে পারেননি। অবশ্য এ জন্য কমিটি ঘোষণার পরপরই পদবঞ্চিতদের সৃষ্ট বিদ্রোহকে দায়ী করছেন কেউ কেউ।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি আংশিক কমিটিতে আরও ৫৮৩ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে ৭৩৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), ঢাবির ছেলেদের ১২টি হল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা জেলা শাখা ছাত্রদলের কমিটিও ঘোষণা করা হয়।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts