November 17, 2018

গণতন্ত্র ফিরলেই জঙ্গিবাদ আর থাকবে না—-মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, পুলিশ-বিজিবি দিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা ‘অসম্ভব’। সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “সরকার যদি গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেয়, জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে আর থাকবে না। জঙ্গি বা উগ্ররা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে।”

এর ব্যাখ্যা তিনি দেন এভাবে- “সরকারে যদি জনগণের অংশদারিত্ব থাকে, দেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে, তাহলে কখনও উগ্রবাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।”

“আর তারা (উগ্রবাদীরা) যদি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তাহলে জনগণই তাদের মোকাবেলা করবে, নির্মূল করবে।

চলতি বছরের শুরুর তিন মাসের টানা অবরোধের মধ্যে নাশকতা ও সন্ত্রাসের জন্য বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে আসছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।

সম্প্রতি দেশে কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা এবং তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়ে পুলিশ খুনের ঘটনার পেছনেও এ দুই দলের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি বলে আসছে, ‘ব্যর্থতা ঢাকতে’ তাদের ওপর দায় চাপাতে চাইছে সরকার। মওদুদ বলেন, “পুলিশ-বিজিবি দিয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভবপর নয়। আমরা বলতে চাই, বিএনপি যে কোনো ধরনের জঙ্গিবাদ নির্মূলে কাজ করে যাবে।”

বাংলাদেশে তালেবান, আইএস বা সন্ত্রাসীবাদের উত্থান বিএনপিও দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেন দলটির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি বলেন, “এটা যদি প্রতিহত করতে হয়, আপনারা (সরকার) যে পথে যাচ্ছেন- সেটা ভুল পথ। আপনারা অন্যদের দোষারোপ করে নিজেরা চেষ্টা করছেন একটা শক্তির মাধ্যমে সেটা মোকাবেলা করতে, তা সম্ভবপর হবে না।”

এর বদলে সরকারের পক্ষ থেকে জঙ্গি দমনে ‘সম্মিলিত উদ্যোগ’ নেওয়া হলে তাতে বিএনপিও সাড়া দেবে বলে মন্তব্য করেন মওদুদ।

“অবিলম্বে সরকারের উচিৎ হবে সর্বদলীয় অর্থাৎ সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলসমূহকে ঐক্যবদ্ধ করা, আহ্বান করা- আসুন আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে জঙ্গিবাদ প্রতিহত করি।

“আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে বলতে চাই, এ ধরনের কোনো উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করলে, আমরা সেই উদ্যোগে সাড়া দেব, সরকারকে সহযোগিতা করব।”

সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আতাউর রহমান খান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা হয়। সভার পর প্রয়াত নেতার আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত হয়।

পৌর নির্বাচন প্রসঙ্গে

আলোচনা সভায় আসন্ন পৌর নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ বলেন, “আমরা মনে করি, পৌর নির্বাচন সরকারের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা হবে। এই নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয়, তাহলে বিএনপির ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।”

নির্বাচন কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি। আমরা জানি, তারা কী ধরনের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।”

মওদুদ বলেন, “পৌরসভা নির্বাচনে যদি ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মতো ব্যবহার করেন, তাহলে সরকারের সাধারণ নির্বাচন করার যতটুকু বাসনা মনের মধ্যে আছে, তা কোনোদিন পূরণ হবে না।”

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত আতাউর রহমান খানের মেজ ছেলে জিয়াউর রহমান খান, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, সাংবাদিক আমানউল্লাহ কবীর, আতাউর রহমান খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এম এ জলিল, অ্যাডভোকেট মনির হোসেন, সৈয়দ জহির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts