September 22, 2018

খ্রীষ্টান ও শিয়া মতবাদের হোমিও চিকিৎসক হত্যার দায় প্রত্যাহার করলো আইএস


জাহিদুর রহমান
ঝিনাইদহ থেকেঃ  
ঝিনাইদহে সম্প্রতি চারটি হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় আইএস। এর মধ্যে ছিল খ্রীষ্টান হোমিও চিকিৎসক সমির উদ্দীন ও শিয়া মতবাদের চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক হত্যা। কিন্তু‘ এ দুটি হত্যার দায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। অনলাইনে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপে স্বীকার করা বাংলাদেশের পৃথক পাঁচটি হত্যাকান্ডের দায় প্রত্যাহার করে নিয়েছে সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। যার মধ্যে ঝিনাইদহের দুইটি রয়েছে।

শুক্রবার আইএসের মুখপত্র ‘আমাক’-এ বাংলাদেশে হামলার যে তালিকা দেয়া হয়েছে, সেখানে পাঁচটি হামলার দায় তারা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আইএসের দায় প্রত্যাহার করে নেয়া পাঁচটি খুনের ঘটনা হল ঝিনাইদহের হোমিও চিকিৎসক ছমির উদ্দিন হত্যাকান্ড, একই জেলার শিয়া মতাবলম্বী আব্দুর রাজ্জাক হত্যাকান্ড, বান্দরবানের বৌদ্ধ ভিক্ষু মং শৈ উ হত্যাকান্ড, গাইবান্ধার ব্যবসায়ী তরুণ দত্ত হত্যাকান্ড এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকান্ড।

ঝিনাইদহে এ সব ধারাবাহিক হত্যার পর ঝিনাইদহ পুলিশ আইএস এর দায় স্বীকারের বিষয়টিকে ভুয়া বলে জানিয়ে আসছিলো। আইএস এর দায় প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে পুলিশের কথাই সত্য হলো।

অন্যদিকে শনিবার ঝিনাইদহের একটি সেমিনারে আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব-উল-হানিফ এমপি জানান, সেবায়েত ও হিন্দু পুরোহিত হত্যার পর এনামুল নামে এক শিবির কর্মী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সেমিনারে তিনি প্রশ্ন রাখেন আইএস কি তাহলে শিবির হয়ে গেল ?

এখানে উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারী ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালুহাটী গ্রামের বেলেখাল বাজারে খ্রীষ্টান হোমিও চিকিৎসক সমির বিশ্বাস ওরফে সমির খাজা ও ১৪ মার্চ কালীগঞ্জ শহরের নিমতলা এলাকার শিয়া মতবাদের হোমিও চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গত ৭ জুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করোতিপাড়া গ্রামের আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী খুন হন।

সর্বশেষ গত ১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর উপজেলার উত্তর কাস্টসাগরা গ্রামে এবার স্থানীয় রাধামদন মঠের সেবায়েত শ্যামানন্দ দাসকে (৬২) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সব হত্যার পর আইএস দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়।

আরও কিছু খবর…………।।

নিখোঁজের ৪১ দিন পর গুলি বোমাসহ শিবির নেতাকে গ্রেফতারে দাবী পুলিশের

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার হরিগোবিন্দপুর গ্রামের মিলন হোসেনকে নিখোঁজের ৪১ দিন পর শনিবার বন্দুক যুদ্ধের পর বোমা ও গুলিসহ গ্রেফতারের দাবী করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি, তাজা বোমা, হাসুয়া ও তরবারী উদ্ধার করেছে।

পুলিশের দাবী মিলন হোসেন (২৭) নিয়ামতপুর ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সাধারন সম্পাদক ও একই গ্রামের আরিফ হোসেনের ছেলে। কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমরান আলম জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল এলাকায় ২০/২৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত অস্ত্র, গুলি বোমা নিয়ে জড়ো হয়ে নাশকতা ঘটনোর জন্য গোপন বৈঠক করছিল।
খবর পেয়ে শনিবার ভোরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।

এ সময় দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে দুইটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় ২৫ মিনিট গোলাগুলির পর শিবির নেতা মিলনকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় মহিবুল ইসলাম নামের এক কনস্টেবল আহত হন। তাকে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মিলনের নামে কালীগঞ্জ থানায় নাশকতার ৫টি মামলা রয়েছে।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। এদিকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আগেই খবর বের হয় মিলন হোসেনকে গত ৪ জুন সাদা পোশাকের লোকজন পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকে পরিবারটি শোকে মুহ্যমান।

তারা সাংবাদিকদের কাছে ছেলের কোন ছবি দিতেও রাজি হননি। ছেলে নিখোঁজ হলে মিলনের বাবা আরিফ হোসেনও কালীগঞ্জের সাংবাদিকদের দারাস্থ হয়েছিলেন।

তবে তারা থানায় কোন জিডি করেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মিলনকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।

আলোচিত গণি‘র অত্যাচারে অসহায় জুলেখার পরিবার<<২লাখ টাকা চাদা দাবী!

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে উপজেলা ভিটেখোলা গ্রামের অসহায় ও হতদরিদ্র জুলেখার পরিবারের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছে এলাকার আলোচিত বিভিন্ন মামলার আসামী গণি। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে রাতে ঘুমতে পারে না কন্যা সন্তান নিয়ে অনেকে। তার হুকুমে না চললে হয় চাঁদা দিতে হয় নতুবা নানাভাবে অত্যাচারের শিকার হতে হয়।

গত ৭ জুলাই সেই গণি  ২ লক্ষ  টাকা চাঁদা দাবি করলে জুলেখার পরিবারের কাছে, চাঁদা না দেওয়ায় জুলেখা ও জুলেখার পরিবারের উপর  অনেক নির্যাতন চালায় সন্ত্রাসী গণি। হত্যার হুমকিও দেয় হয়।

এছাড়াও গনী   জুলেখার দুই মেয়েকে ধর্ষণ করার  হুমকি দিয়েছে।  অসহায়  জুলেখা উপায় না পেয়ে গনীর বিরুদ্ধে  ঝিনাইদহ  জোজ কোর্টে  ৩২৩’ ৩৫৪’ ৩৭৯’ ৫০৬’ ধরার দঃবিঃ মামলা দায়ের করে, মামলার কথা জানতে পেরে গনী, গত ১৩ জুলাই ২০১৬  রোজ বুধবার আনুমানিক  সময় ১০ টা দিকে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জুলেখার পরিবারের উপর অমানবিক অত্যাচার চালায় ও বাড়ী ঘর ভাংচুর করে।

এ সময় জুলেখা সহ জুলেখার দুই মেয়েকে মারধর করে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অসহায় পরিবারটি তার হুমকীর ভয়ে গোপন করতে থাকে অনেক কথা শেষমেষ জানায় গণির অত্যাচারের বিবরণ। এলাকাবাসী বলছে ঘটনাটি সত্য কিন্তু গণির বিরুদ্ধে কথা বলার মত কেউ নেই।

এলাকাবাসী আরো জানিয়েছেন যে, গনী আসলে একটি চাঁদাবাজ  লোক। এর আগে সে বিভিন্ন  লোকের কাছ থেকে জোর পূবক টাকা নিয়েছে। কেউ এর প্রতিবাদ করতে গিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং রাতের অন্ধারে গিয়ে বাড়ীতে গিয়ে মারধর করে, গনী এলাকাজুড়ে  ছোট আল্লাহ  নামে পরিচিত।

আরো জানা গেছে, কয়েক বছর আগে গনীর বিরুদ্ধে  ঝিনাইদহ  জজ কোট ও কালীগঞ্জে থানায় একাধিক মামলা আছে ।

এই বিষয় থানায় জানতে গিলে কালীগঞ্জে থানার অফিসার ইনচার্জ-বলেন যে, এ বিষয়ে জুলেখা  থানায় অভিযোগ  করেনি, অভিযোগ  পেলে ব্যবস্থা  নেওয়া হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি/১৬/০৭/২০১৬

Related posts