September 18, 2018

‘খোলা খাবার পানীতে হতে পারে কিডনি বিকল’

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জ:  সর্বশেষ মধ্যদুপুরে শহরের পিচঢালা পথে চৈত্রের বিদায় পক্ষে গ্রীষ্মের আগুনের তাপ গায়ে লাগতে শুরু করেছে। তীব্র এই গরমের অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে হাতে কাছে ঠান্ডা  যা পাচ্ছে তাই পান বা খাচ্ছে নগরবাসী। এ সুযোগ নিয়ে রাস্তার পাশে শরবত, লাচ্চি, শস্তা দামের আইসক্রীম, আখের রস, ফালুদা অথবা বরফগলা যেকোনো পন্য পাওয়া যাচ্ছে নগরীর আনাচে কানাচে। পান করে শরীরকে হিমশীতল রাখতে চাচ্ছেন সকলে। একটু ঠান্ড পরশ যেন সকলের কাম্য। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত রাস্তার ধারে ফুটপাতের এ পানীয় নির্ভাবনায় পান করে যাচ্ছে। এছাড়েও বিয়ে বাড়ি বা যেকোনো অনুষ্ঠানে মুখরোচক খাবার হিসেবে এখন পরিবেশন করা হয় টক-জাল-মিষ্টি স্বাদের বোরহানি। আর এসকল পানীয় ঠান্ডা রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে বরফ।

যেসকল বরফ ব্যবহার করা হচ্ছে স্বাস্থ্যের জন্য কতটুকু উপকারী কিংবা হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এত বরফ উপাদন হচ্ছে কোথায়? খাবার পানি পান করতে বাড়িতে বসাচ্ছেন গভীর নলকূপ। গরমে শরীরকে সীমিতসময়ের জন্য শান্তি দিতে যখন তখন খেয়ে ফেলছেন বরফ মিশনো তরল। আসলে এই বরফ তৈরিতে কিসের পানি ব্যবহার হচ্ছে?

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে বরফ তৈরির শতাধিক অনুমদিত কারখানা রয়েছে। অবৈধ কারখানাও রয়েছে চোখের সামনে। এসব কারখানার বরফ বিভিন্ন মাছের আড়তের পাশাপাশি সরবরাহ করা হয় ফাস্টফুড রেস্তোরাঁগুলোতেও। যে কেউ ইচ্ছা করলেই এ বরফ কিনে নিতে পারেন। ভ্যানে করে ফুটপাতসহ বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ক্লাবগুলোতে প্রতিনিয়ত সরবরাহ করা হচ্ছে এই বরফ। খুব বেশি দাম নয়, মাত্র ২০-৩০ টাকায় এই বরফ কিনতে পাওয়া যায়। তাই বরফ তৈরির ঝামেলায় যেতে চায় না কেউ। কিনে নিয়ে আসেন জীবনের জন্য ঝুকিপূর্ণ সেই বরফ।

এবার ভাবুন মাছ পঁচন থেকে রক্ষা করতে যেই বরফ বিক্রি হচ্ছে সেই পানি কি গভীর নলকূপ থেকে নেওয়া হবে? কিংবা পানিফুটিয়ে সেগুলোকে বরফ বানানো হবে?

এই বরফ পানের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নানা পানি বাহিত রোগ। প্রতিবছর গুরুতর অসুস্থ্য হওয়ার সাথে সাথে মারাও যাচ্ছেন শত লোক। যার মধ্যে বেশি সংখ্যক ঝুকিঁতে আছে জেলার শিশুরা। ১০০ শয্যা (ভিক্টোরিয়া) বিশিষ্ট হাসপাতালের আরএমও ডা: আসাদুজ্জামান জানান, ফুটপাতের এই মিশ্রিত ক্ষতিকারক উপকরণ দিয়ে মিশানো কিছু পান করলে কিডনি বিকল, পানিবাহিত রোগ, গ্যাস্ট্রিক, হেপাটাইটিস বি-ভাইরাস, লিভারের জটিলতা, পাকস্থলীতে প্রদাহ, খাদ্যনালিতে সমস্যা, পেপটিক আলসারসহ মারাত্মক জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এব্যপারে সকলের সচেতনতা বৃদ্ধি অতিব জরুরী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। যার মূল কারণ আস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া ও জীবনযাপন ডায়াবেটিস আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এখনই ”দৃঢ় পদক্ষেপ” না নিলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

এদিকে ‘খাদ্য ও পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশে বয়স্কদের মতো শিশুদের ডায়াবেটিসের হারও ক্রমবর্ধমান। আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে শিশুদের ডায়াবেটিস। বাংলাদেশে শিশুর ডায়াবেটিসের হার ৫.২ ভাগ। গত (৬এপ্রিল) বুধবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেওয়া হয়।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/০৯ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts