November 19, 2018

খেলা চলাকালে বাফুফের রেফারিকে কিল-ঘুষি!

স্পোর্টস ডেস্কঃ  আজ বুধবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজয় দিবস চ্যান্সেলর কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা চলাকালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) রেফারি ভারত চন্দ্র সরকারকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে মীর মশাররফ হোসেন হল ও আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের মধ্যে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলা চলার সময়ে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীসহ একটি আবাসিক হলের ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী এ হামলা চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

মাঠে উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খেলা শুরুর মিনিট দশেকের মধ্যে একটি গোল হজম করে বসে আ ফ ম কামালউদ্দিন হল। এগিয়ে যায় মীর মশাররফ হোসেন হল। তখন থেকেই উত্তেজনা শুরু। খেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট আগে মীর মশাররফ হোসেন হলের এক খেলোয়ারের বিরুদ্ধে ফাউলের অভিযোগে পেনাল্টির আবেদন করেন আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের খেলোয়াড়রা।

তবে রেফারি ভারত চন্দ্র সরকার ফাউল না দিয়ে খেলা চালিয়ে যান। রেফারির এ সিদ্ধান্ত মনঃপুত না হওয়ায় আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মীসহ আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী মাঠে ঢুকে রেফারি ভারত চন্দ্র সরকারকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে উভয় দলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় উপ-উপাচার্য মো. আবুল হোসেন, রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক, প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি অতিথি মঞ্চেই বসা ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতে এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খেলা প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ থাকে। পরে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম উপস্থিত হলে ফের খেলা শুরু হয়। খেলায় মীর মশাররফ হোসেন হল ৩-১ গোলে আ ফ ম কামালউদ্দিন হলকে পরাজিত করে।

সে সময় উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেখ আদনান ফাহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার নাম করা রেফারি ভারত চন্দ্র সরকারকে মারধর করাটা খুবই দুঃখজনক। তিনি শুধু রেফারি নন; ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষক। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে খেলা পরিচলনা করার জন্য তাঁকে বাইরে থেকে নিয়ে এসেছি।’

এমন ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে দাবি করে এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিমত, মাঝেমধ্যে খেলা পরিচালনায় রেফারির ভুল হতেই পারে। তাই বলে সিদ্ধান্ত পক্ষে না গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। কয়েকদিন আগেও, আন্তবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলায় রেফারির ওপর চড়াও হয়েছিল ইতিহাস বিভাগের সমর্থকরা।

তবে মারধরের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি বলেন, ‘যারা মারধর করেছে তারা ছাত্রলীগের কেউ নয়। হলের শিক্ষার্থীরা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। যারা এ ঘটিনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাই।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আবুল হোসেন বলেন, ‘এটা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবশ্যই আমরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। ছাত্ররা এর আগেও একবার এ রকম করেছে। রেফারিদের কাছে আমরা নিজেরাই দুঃখ প্রকাশ করেছি। পরবর্তী সময়ে সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে।’

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts