November 13, 2018

খেজুর রসের গুড় বিদেশে রপ্তানী যোগ্য!

182

শামীম রেজা,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গা জেলার উন্নয়ন বি ত এক উপজেলার নাম জীবননগর। এ জনপদের অধিকাংশ মানুষই কৃষি নির্ভর। এই উপজেলার কৃষকেরা অন্যান্য ফসলের পাশাপশি তাদের পতিত আবাদি জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খেজুর বাগান গড়ে তুলছে। ফলে জীবননগর উপজেলার খেজুরের গুড় ও পাটালী উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। খেজুর গাছ ও গুড় এ জনপদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এর মান উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি। শীত মওসুমে গাছিরা যুগ যুগ ধরে সেই পুরাতন নিয়মে গুড় উৎপাদন করছেন।

জেলার সীমান্ত ঘেষা এ উপজেলায় কি পরিমানে খেজুর গাছ আছে এবং তা থেকে কত পরিমাণ গুড় ও পাটালী উৎপাদন হচ্ছে তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সুমিষ্ট সুস্বাদু খেজুর রস, গুড় ও পাটালী প্যাকেটজাত করে বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে ভুক্তভোগী মহলের ধারনা।

বৃটিশ আমলে ইংরেজ শাষক এ অ লের কৃষকদের জমিতে নীল চাষ করতে বাধ্য করেছিল। নীল চাষের কুফল সম্পর্কে কৃষকরা যখন বুঝেতে পারলো তখন তারা নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে তাদের নীল চাষের উপযোগী জমিতে হাজার হাজার খেজুর গাছ রোপণ করা শুরু করেন। জনশ্রতি রয়েছে,খেজুর গুড় থেকে অতীতে চিনি তৈরী করা হতো। যে কারণে চীনারা চিনি তৈরীর পদ্ধতি শেখাতে এদেশে এসেছিল। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় এ শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল।

একটি সূত্র থেকে জানা গেছে,তৎকালীন সময় খেজুর গুড় থেকে উৎপাদিত খালেশ্বরী চিনির পরিমাণ ছিল ১২ লক্ষ ২১ হাজার ৪০০ টন। ইংরেজরা সে সময় ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ চিনি রপ্তানি করে প্রচুর মুনাফা আয় করে। চিনি রপ্তানি করে অনেক লাভ হওয়ায় তারা খেজুরের গুড় থেকে চিনি উৎপাদনের জন্য এ অ লে কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। মিঃ বাল্কে সর্ব প্রথম ভারতের বর্ধমান জেলার ধোবা নামক স্থানে এ ধরনের কারখানা স্থাপন কর্নে। পরবর্তীতে ধোবা সুগার কোম্পানী কোটচাঁদপুর উপজেলায় আরো ২টি খেজুর গুড় থেকে চিনি উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করে। ১৮৮২ সাল পর্যন্ত এ ব্যবসা অত্যন্ত সফলতার সাথে চলে বলে সুত্রটি নিশ্চিত করে।

পরবর্তীতে আখ থেকে চিনি উৎপাদন শুরু হলে প্রতিযোগীতায় খেজুরের গুড় পিছিয়ে পড়ে। ১৯০১ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর কুষ্টিয়া যশোর-ঝিনাইদহ অ লে  গুড় থেকে চিনি তৈরীর ১১৭ টি কারখানা ছিল এবং ১৯২৪ সালে তা কমে ৫০ এর কোটায় নেমে আসে। পরে খেজুর গুড় থেকে চিনি তৈরীর কারখানা গুলি সম্পুর্ন রুপে বাদ হয়ে যায়। সেই থেকে আর কেউ খেজুর গাছের প্রতি যত্নবান হয়নি। তবে বন জঙ্গলে অযত্ন আর অবহেলায় বেড়ে ওঠা গাছগুলোই আজো তার বংশ বিস্তারে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। তবে সম্প্রতি উপজেলার কৃষকদের মাঝে তাদের পতিত অনাবাদি উচু জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খেজুর বাগান তৈরীর প্রবণতা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপজেলার কালা গ্রামের খাজা আহমেদ ও সন্তোষপুর গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন,খেজুর গাছের বাগান তৈরী করতে বেশী যত্নবান হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। খেজুরগাছ কাটাযুক্ত হওয়ায় গরু ছাগলের উৎপাত কম হয়। একটি খেজুর গাছ ৪-৫ বছর বয়স থেকে রস দিতে শুরু করে এবং তা ৪০-৫০ বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। শীত মওসুম এলেই গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন। একটি খেজুর গাছ থেকে এক মওসুমে ১৫-১৬ কেজি গুড় পাওয়া যায়।

জীবননগর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুন্সী আব্দুস সবুর বলেন,শীত মওসুমে উপজেলার একটি পৌরসভাসহ ছয়টি ইউনিয়নের কৃষকেরা প্রচুর পরিমাণে খেজুর রস,গুড় ও পাটালি উৎপাদন করে থাকেন্। কৃষকদের উৎপাদিত রস,গুড়  ও পাটালি অত্র অ লের চাহিদা পুরণ করে রাজধানী ঢাকা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অ লে সরবরাহ করা হয়। তাই সরকারী ভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খেজুর রস,গুড় ও পাটালি প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে বিশেষ প্যাকেটজাত করে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করা হলে প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। যা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts