September 23, 2018

খুনের নেশা রাঙ্গুনিয়ার দুই গোষ্ঠীতে

ঢাকাঃ  সিনেমার কাহিনীকেও হার মানানো ঘটনা। গা শিউরে উঠার মতো কাহিনী। খুনের বদলা নিতে চলছে পাল্টা খুন। তাও এক দুই জন নয়। হত্যা করা হয়েছে মোট ৯ জনকে। পাহাড়ে সম্পত্তি দখলের জের ধরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ‘বদুনী বাপের বাড়ি’ ও ‘গঞ্জম সরকারের বাড়ি’ নামের দু’টি গোষ্ঠীতে চলছে খুন করার প্রতিযোগিতা।

সর্বশেষ সেখানে ঘটেছে ডাবল মার্ডার। দুই গোষ্ঠীর এমন দ্বন্দ্বে ভয়ে আছেন স্থানীয়রা।

সরজমিন গতকাল সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের পশ্চিম সরফভাটা গ্রাম ও পাশ্ববর্তী গঞ্জম সরকারের বাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। দুই গোষ্ঠীর লোকজনের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বললে কেউই কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তবে সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে একে-অপরের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন। একের পর এক খুনের ঘটনায় কিলিং জোন হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠৈছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন।

স্থানীয়রা জানান, বদুনী বাপের বাড়ি ও পার্শ্ববর্তী গঞ্জম সরকারের বাড়ি এলাকায় পাহাড়ের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধে সর্বশেষ ডাবল মার্ডারসহ ৯ জন খুন হয়েছে। কোনো ঘটনার বিচার না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে এ দু’গোষ্ঠীর লোকজন।

কখনো ধারালো অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে গলাকেটে হত্যা। কখনো আবার গুলি করে। সবই হচ্ছে দুই গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে বছরের পর বছর এই ধরনের খুনের খেলা নিয়ে অসহায় স্বয়ং পুলিশ প্রশাসনও।

১৯৯৩ সালে পাহাড়ের সম্পত্তি দখল নিয়ে এখানে প্রথম খুনের ঘটনা ঘটে। সে সময় খুন হয় আবুল হোসেন সওদাগর (৪০)। এ ঘটনার জের ধরে থানায় মামলা হওয়ার পর একসঙ্গে একই পরিবারের ৩ সহোদরকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তারা হলেন- জসিম (৩০), আনোয়ারুল আলম (৩২) ও সফিউল আলম (৩৯)। তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ ২০১৫ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি মারা যায় আরো একজন। ইদ্রিছ নামের এক প্রবাসী দেশে ফিরলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

চলতি বছরের গত ১লা মার্চ মারা যায় উকিল আহমদ (৫৫) নামের আরেক ব্যক্তি। তিনি পশ্চিম সরফভাটা গঞ্জম আলী সরকারের বাড়ির আবুল কালামের পুত্র। ঘটনার সময় তার পুত্র মো. ইসমাইলও আহত হয়। এ ঘটনার জের ধরে গত রোববার রাতে গুলি করে ও কুপিয়ে আরো দুইজনকে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। তারা হলেন- মো. আবুল কাশেম ও মো. মঞ্জু।

যে দুই ব্যক্তি খুন হয়েছেন তারা উকিল আহমেদকে হত্যা করার ঘটনার মামলার আসামি। এই ঘটনায় তাদের সঙ্গে একই এলাকার রশিদ, ওসমান, দিদার, সাইফুলসহ আরো বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছিল।

একের পর এক খুনের ঘটনায় চলছে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ। নিহত মঞ্জুর মা লায়লা বেগম প্রতিপক্ষের লোকজনকে অভিযুক্ত করে বলেন, ওসমান ও তোফায়েল নামের কয়েকজন আমার ছেলের হত্যার ঘটনায় জড়িত।

নিহত আবুল কাশেমের ছোটভাই মো. তৈয়ব বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে ওসমানও জড়িত। তারা একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে চলছে।

অন্যদিকে গত বছরের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি প্রবাসী ইদ্রিছকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আবার আসামি ছিলেন নিহত উকিল আহমেদ। এই ঘটনায় নিহতের পিতা আবুল কালাম উল্টো অভিযোগ করে বলেন, রশিদ, ওসমানদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আমার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। নিহত দুই সন্ত্রাসী আমার ছেলের হত্যাকারী।

এই বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধের জের ধরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে একের পর মার্ডার হচ্ছে। এলাকাটি পাহাড় বেষ্টিত। যারা মামলার আসামি তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সর্তক আছি আমরা। নতুন করে যাতে খুনের ঘটনা আর না হয় সেজন্য টহল জোরদার করেছি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।মানব জমিন

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৭ এপ্রিল ২০১৬

Related posts