September 20, 2018

খুনের আসামী ধরা পড়লেও নির্দোষ ভাজনের মুক্তি এখনোও অনিশ্চিত

আল-মামুন,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিঃ  খাগড়াছড়ির গুইমারায় খুন হওয়া সেই অজ্ঞাত লাশের মুল পরিকল্পনাকারীসহ ৫ জন আটকের পর এবার মুক্তি এখনোও অনিশ্চিত ভাবে সময় কাটছে সন্দেহ ভাজন সেই আটক ৫ জনের। পুলিশের চোখে অপরাধের তালিকায় থাকলেও পরিচয় মিলার পর বেড়িয়ে এলো হত্যা রহস্য।

স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমের পথে বাঁধা হয়ে দাড়ানোর ফলে খুন হলো প্রবোস ফেরত মোমিনুল হক। সেই ঘটনায় প্রথম অবস্থায় জড়িত সন্দহে ৫জনকে আটক করা হয়েছে তাদেরকে রিমান্ড সহ মামলায় জড়িত করা হয়েছে কিন্তু তারা এই হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত নয়।

পুলিশ তাদেরকে সন্দেহ মূলক ভাবে আটক করার ফলে নিরপরাধ হয়েও তাদেরকে মামলার হয়রানি মূলক হাজিরা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ আটককৃতদের। জোসনা বেগম (৫০), পারভিন আক্তার (২২), মো: হারুন(২৯), নুর মোহাম্মদ (৪৫), খালেদ (দোজাহান)(৩৫) অজ্ঞাতনামা মামলায় দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে বিভিন্ন ভাবে জিগ্যাসাবাদ করে কিন্তু মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার হওয়ার পরও সন্দেহ লোকদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে পারভিন আক্তার বলেন, এই মামলার কারনে আমার লেখা পড়া এখন বন্ধের পথে। অন্যান্যরা বলেন, নিরপরাধ হওয়ার পরেও তারা বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তারা মূল হত্যাকারীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছেন।

এ ঘটনার মুল পরিকল্পনাকারী স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩৪) কে ০৩ মে২০১৬ সোমবার রাতে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে মঙ্গলবার সকালে রামগড়ের চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা-সাইফুল ইসলাম (২২),গুইমারার বাসিন্দা ফিরোজ (২৪),আবুল কালাম (২৩) রামগড় ও গুইমারা অভিযান চালিয়ে আটক করে পুলিশ। জানায়, আটকের পর খুনির মুখের স্বীকারোক্তিতে- প্রবাস ফেরত স্বামী মোমিনুল হক ও তার  স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো।

বিশ্বস্থ একটি সূত্র জানায়, প্রেমিকসহ রাবেয়া স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করে। ঘাতকদের মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ের মাধ্যমে ভাড়া করা হয়। এক পর্যায়ে পরিকল্পনা মতো ৩ ফেব্রুয়ারী গুইমারার কবুতরছড়ায় এলাকায় নিহতের গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়।

অজ্ঞাতনামা নিহতের নাম মোমিনুল হক। সে রামগড়ের পূর্ব চৌধুরীপাড়ার মৃত রবিউল হোসেন সওদাগরের ছেলে। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারী সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ী ত্যাগ করেন। এর পর থেকে সে নিখোঁজ হয়। ২০০১ সালে ইসলাম ধর্মের বিধান মতে রাবেয়ার সাথে মোমিমুল হকের বিয়ে হয়। উল্লেখ্য যে, এই মামলায় অজ্ঞাতনামা লাশের সন্দেহে গ্রেফতার হন ১৩/১৬ ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৬ দুই দফায় আটক করে গুইমারা থানার পুলিশ।

খাগড়াছড়ির আরো কিছু খবর…………

গুইমারায় শিশু হত্যাঃ  নিরব প্রশাসন

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলাধীন দক্ষিণ বড়পিলাক এলাকায় খেলার মাঠে মারামারির জেরে আবু ইউসুফ (রানা) নামের ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার ঘটনা ঘটনায় এখনো পলাতক রয়েছে ৪ আসামী। তারপরও রহস্যজনক কারনে প্রধান আসামীরা গ্রেফতার হয়নি এখনোও।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,এ ঘটনায় নিহত আবু ইউসুফ (রানা)র  মূল হত্যাকারী হৃদয়ের বাবা কাশেম আলী(৩৫) হযরত আলী (২৪) শুক্কুর আলী (২৭) কাশেম আলী (৩৫) আবুল হোসেন (৬০)পালাতক রয়েছে। ঘটনার দীর্ঘ দিন পরও পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা।

আসামী খাগড়াছড়ি জেলার পাশ্ববর্তী চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর এলাকায় আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আত্মগোপন করে আছেন বলে ধারনা করছে নিহতর বাবা।

তিনি আরো বলেন, আসামীদের গ্রেফতারে তেমন তৎপর নেয় গুইমারা থানার পুলিশের। এ অসহায় বৃদ্ধা গরীব বলে তার ছেলের হত্যাকারীদের ধরছে না বলে তিনি আক্ষেপ করেন।

প্রসঙ্গত: ০৯-মে ২০১৬ মঙ্গলবার সকাল ৮টায় গুইমারার দক্ষিণ বড়পিলাক এলাকায় থেকে তল্লাশি চালিয়ে লুকিয়ে রাখা লতা-পাতা মোড়ানো অবস্থায় রানার লাশটি উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে দুই হাত ভেঙ্গে শরীরে জখম করে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয় জানা যায়।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৯ মে ২০১৬

Related posts