November 18, 2018

খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর!

528

স্টাফ রিপোর্টারঃ     জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া নাইকো দুর্নীতি মামলায়। গতকাল দুপুরে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তিনি। ১০ মিনিট উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক এম আমিনুল ইসলাম বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৮শে ডিসেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। এর আগে বেলা সোয়া ১১টায় গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হয়ে বেলা সোয়া ১২টায় পুরান ঢাকায় আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান খালেদা জিয়া। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, এড. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, এড. সানাউল্লাহ মিয়া ও এড. নিতাই রায় চৌধুরীসহ শতাধিক আইনজীবী। বিএনপি চেয়ারপারসন পৌঁছানোর পরপরই ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে তার জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শুরুর সময় খালেদা জিয়াকে বসার জন্য চেয়ার দেয়া হয়।

শুনানিতে জামিনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ। আগে থেকেই তিনি জামিনে ছিলেন। কখনও জামিনের অপব্যবহার করেননি। রাষ্ট্রপক্ষে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন এড. মোশাররফ হোসেন কাজল ও মীর আব্দুস সালাম। শুনানিতে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, আসামির জামিনের মেয়াদ শেষ। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের সম্পদের হেফাজতকারী হওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি ও অন্য আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের অভিযোগ রয়েছে। ১০ মিনিট দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক বিএনপি চেয়ারপারসনকে জামিন দেন। এদিকে খালেদা জিয়ার আত্মসমর্পণকে ঘিরে সকাল থেকেই পুরান ঢাকার আদালতপাড়ার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ও আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয় দেড় শতাধিক পুলিশ ও র‌্যাব। এছাড়াও সেখানে ছিল সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের তৎপরতা। আদালত ফটকে আর্চওয়ে বসানোর পাশাপাশি কর্মচারী ও জনসাধারণকে তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।

আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। উল্লেখ্য, সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে খালেদা জিয়া গ্রেপ্তারের পর ২০০৭ সালের ৯ই ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় নাইকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। পরের বছরের ৫ই মে খালেদাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এরপর খালেদা জিয়া উচ্চ আদালতে গেলে ২০০৮ সালের ৯ই জুলাই দুর্নীতির এই মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মামলা দায়ের কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দেয়া হয়। ২০০৮ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর এ মামলায় জামিন পান তিনি। প্রায় সাত বছর পর চলতি বছর শুরুতে রুল নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলাটি সচল করার উদ্যোগ নেয় দুদক। খালেদা জিয়ার আবেদনে রুলের ওপর শুনানি করে গত ১৮ই জুন রায় দেয় হাইকোর্ট। তার করা আবেদন খারিজ করে মামলার ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেয়া হয় ওই রায়ে।

একইসঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়। খালেদা জিয়া ছাড়াও এ মামলার বাকি আসামিরা হলেন- চারদলীয় জোট সরকারের আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts