September 20, 2018

খালেদার সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার সাক্ষাৎ

ঢাকাঃ পঙ্কজ শরণ ও সুজাতা সিংয়ের হাত ধরে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারীতে আওয়ামীলীগের দেয়া একতরফা নির্বাচনের পর ভারত-বিএনপির সঙ্গে সর্ম্পকে শীতলতা নেমে আসে। প্রায় ৩ বছরেরও পরে বিএনপির চেয়ারপার্সনের সঙ্গে স্বাক্ষাত করেননি ভারতীয় কোন নেতা কিংবা হাই কমিশনার। এমনকি ইফতারের দাও্রয়াতে সমস্ত কূটনৈতিকরা উপস্থিত থাকলেও ভারতীয় হাইকমশিনার আসেন নি।

তবে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে সাক্ষাৎ করছেন ভারতের হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। রাত ৮ টায় চেয়ারপাসরনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। খালেদা জিয়ার মিডিয়া উইং এর কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, এ সাক্ষাতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। গত ২৩ জুলাই ভারত সফরে গিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সেখানে ‘ইনস্টিটিউট অফ পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ’ নয়াদিল্লীর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ২৮ জুলাই দ্য ইকোনমিক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মওদুদ আহমদ আওয়ামী লীগকে দেয়া ভারতের একক সমর্থনের বিরোধিতা করেন। খালেদার সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসতে পারে এ প্রসঙ্গও।

গত ১৯ জানুয়ারি থেকে শ্রিংলা বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে এটিই তার প্রথম সাক্ষাৎ। তবে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বিএনপি চেয়ারপরসনের অপরিচিত নন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংয়ের বাংলাদেশ সফরসঙ্গি ছিলেন বর্তমান হাইকমিশনার শ্রিংলা। সুজাতা সিংয়ের বৈঠকে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাও উপস্থিত ছিলেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। যথাসময়ে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দিল্লির জোরালো সমর্থন ছিল। ওই নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোটের নেতারা বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় নীতির সমালোচনা করেছেন। তবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার প্রথম সাক্ষাতে প্রায় ৬ মাস সময় লেগে যাওয়াকে এক করে দেখতে নারাজ সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, সুবিধাজনক সময় না মেলার কারণে এত সময় লাগলো।

সর্বশেষ ২০১৫ সালে ১০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন সাবেক হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। ২০১২ সালে বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন পঙ্কজ শরণ। পঙ্কজ শরণকে রাশিয়ায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ভারত সরকার। আর ঢাকায় তার স্থলাভিষিক্ত হন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

Related posts