November 17, 2018

খামেনির বিদায়; ইরানের নতুন নেতা কে হচ্ছেন ?

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ   ইরান তার পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়ন করছে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা না করার দীর্ঘদিনের প্রথা ভঙ্গ করে রবিবার দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি আকবর হাশেমি রাফসানজানি এ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন।

এমনকি গত বছর ৭৫ বছর বয়সী বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হলেও সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণের ব্যাপারটি প্রকাশ্যে আসেনি।

অনেকে আশঙ্কা করছেন, খামেনির মৃত্যু আসন্ন। ফলে তার পদে নতুন মুখ আসবে।

আলেমদের নিয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ পরিষদ নামের কাউন্সিল নির্ধারণ করে কে হবেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

উদারপন্হী প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও তার মিত্ররা পরমাণু চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে ইরানে যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তাকে পুঁজি করে বিশেষজ্ঞ পরিষদ ও একই দিনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার আশা করছেন।

প্রেসিডেন্ট রুহানির ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রভাবশালী রাফসানজানি বলেন, ‘ বিশেষজ্ঞ পরিষদের কাজ হলো নতুন নেতা নির্বাচন করা। তারা এটার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। তারা যোগ্য লোকদের নাম তালিকাভুক্ত করছে এবং এদের মধ্য থেকেই নেতা নির্বাচন করা হবে’।

বিশেষজ্ঞ পরিষদ ৮২ জন নির্বাচিত আলেমকে নিয়ে গঠিত। তারাই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন, পর্যবেক্ষণ এমনকি বহিস্কারও করতে পারে।

বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা ১০ বছর পর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। তবে ১৯৮৯ সাল থেকেই এ পদে আছেন বর্তমান নেতা খামেনি।

ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার কথাই শেষ কথা। তিনি সামরিক বাহিনীর প্রধান। প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রধান কর্তার নিয়োগদাতা তিনি। এছাড়া বিশেষজ্ঞ পরিষদের অর্ধেক সদস্যকে তিনিই নির্বাচন করেন। অনেক সময় সর্বোচ্চ নেতা সংসদকে আইন পাশ থেকে বিরত রাখতে পারেন। তিনি ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তারে পার্লামেন্টকে আদেশও দিতে পারেন। এছাড়াও ইরানের পররাষ্ট্র নীতি ও পরমাণু গবেষণায় সর্বোচ্চ নেতার কথাই আদেশ বলে বিবেচিত হয়।

সম্ভাব্য পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেশকিছু পরিচিত নাম আলোচনায় আছে। এদের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট আলি আকবর হাশেমি রাফসানজানি সবচেয়ে বেশি আলোচিত। উদারপহ্নী রাফসানজানি বিশেষজ্ঞ পরিষদের বর্তমান প্রধান। এছাড়া একসময় তিনি বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন।

রক্ষণশীলদের প্রধান প্রার্থী হিসেবে সাবেক দুই প্রধান বিচারপতি গ্রান্ড আয়াতুল্লাহ মাহমুদ হাশেমি ও মোহাম্মদ ইয়াজদি এবং বর্তমান প্রধানবিচারপতি সাদেক লারিজানির নাম উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার পুত্র মোস্তবা খামেনি ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতার দৌহিত্র হাসান খোমিনির নামও আলোচনায় আছে।

সর্বোচ্চ নেতার তুলনায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খুব সামান্যই বলা যায়। আর এ কারণেই সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণে ইরান সর্বোচ্চ গোপনীয়তার নীতি অনুসরণ করে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts