November 13, 2018

খানসামা মেডিকেল অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

খানসামা প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ কামালের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসী ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও করছেন। এর পরেও কোনো ডাঃ কামালের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় এবার আন্দোলনে নেমেছে এলাকাবাসী। গত তারিখ ডাঃ কামালকে অপসারনের দাবিতে পাকেরহাটে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন খানসামা সচেতন নাগরিক সমাজ ও আমরা খানসামাবাসী নামে দুটি সংগঠন।এর আগেও তার বদলির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে খানসামাবাসী।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, ডাঃ কামালকে সার্বক্ষণিক হাসপাতালে ও হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টারে থাকার কথা থাকলেও তিনি এই নিয়ম মানেন না, দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিকে প্যাকটিসে ব্যস্ত সময় কাটান।এতে করে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হয় বিড়ম্বনার মধ্যে ।

একটি গোপন সূত্র থেকে জানান যায়, ডাঃ কামেলে নেতৃত্বে হাসপাতালে হাসপাতালের সরকারী ঔষধ বাজারের দোকান গুলোতে বিক্রি করে হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা। কিছু দিন আগে হাসপাতালের পুরাতন লোহার দরজা ও বেট কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই বাজারে বিক্রি করে দেয় ডাঃ কামাল ।

এলাকার প্রায় প্রতিটি মানুষের অভিযোগ, হাসপাতালে ডাঃ কামাল রোগী এবং রোগীদের আত্মীয় স্বজনদের সাথে খুবই খারাপ আচরন করে।এছাড়াও এই ডাঃ কামালের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবেহেলার কারনে এক শিশু মৃত্যুর অভিযোগ ও আছে

উপজেলার সহজপুর গ্রামের আহসান হাবীবের সাথে কথা হলে তিনি জানান,হাসপাতালে আসলে তো ওনাকে দেখায় পাওয়া যায় না ক্লিনিকে ছাড়া তার কাছে চিকিৎসা নিতে গেলে সর্বপ্রথম ৬ থেকে ৭ টি পরিক্ষা নিরিক্ষা করতে হয় তাও আবার তার দেখানো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে করতে হয়।

বানিজ্যিক ভাবে মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকে বলে নাম প্রকাশে এক ব্যাক্তি এই তথ্য জানান।
এছাড়াও ডিসিএফ কার্ড ধারী রোগীদের অবৈধ ভাবে সিজার করার পর নর্মাল ডেলিভারী হিসাবে টাকার বিনিময়ে কার্ড দেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে ।

ইউপি সদস্য মোঃ শাহাজাহান পাটোয়ারী এবিষয়ে বলেন, হাসপাতালটাকে দুর্নীতি দিয়ে জরজরিত করেছে এই ডাক্তার তাই এলাকাসীর দাবি তাকে দ্রুত এখান থেকে অপসারন করা হোক এবং তার অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এবিষয়ে দিনাজপুর সিভিল সার্জনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি, তাই এখন এই বিষয়টি নিয়েই আমি ভাবছি আশা করছি দুই এক দিনের মধ্যেই আমরা কোনো সিন্ধান্তে পৌছাতে পারবো।

Related posts