November 15, 2018

খরস্রোতা তিস্তা এখন নালায় পরিণত!

7

খরস্রোতা তিস্তা নদীতে ড্রেজিং এবং খনন না করায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পলি জমে এখন নালায় পরিণত হয়েছে। ফলে হাজারও নৌ-শ্রমিক এবং জেলেরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, কাপাশিয়া ও শ্রীপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত রাক্ষুসী তিস্তা নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এর বুকজুড়ে জেগে উঠেছে হাজার হাজার একর আবাদি জমি। জমির মালিকরা জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করে সংসার পরিচালনা করছেন। কিন্তু ভরা নদীতে যে সব নৌ-শ্রমিক নৌকা চালিয়ে এবং জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত সেই নৌ-শ্রমিক ও জেলেরা আজ বেকার হয়ে পড়েছেন।

তারা এখন স্ত্রী, পুত্র ও পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নদীতে পানি না থাকায় নৌ-শ্রমিক এবং জেলেরা তাদের উপকরণ নৌকা এবং জাল বিক্রি করে দিয়ে ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই পেশার হাজারও শ্রমিক দাদন ব্যবসায়ী এবং এনজিও’র কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বাড়িতে খোরাকি দিয়ে শহরে পাড়ি জমাচ্ছেন। অনেকে রিকশা, ভ্যান, টেম্পু, সিএনজি, বাস-ট্রাক হেলপার, গার্মেন্টেস শ্রমিক, রাজমিস্ত্রির কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। বেলকা ইউনিয়নের জেলে হরিদাস, রবিদাস, জয়ন্ত কুমার জানায়, তিস্তা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন আর জাল ফেলে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে আমরা এ পেশা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছি। হরিপুর ইউনিয়নের নৌ-শ্রমিক বক্কর মিয়া, লাল মিয়া জানায়, আজ থেকে ১০ বছর আগে গোটা বছরেই নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতাম।

এখন তিস্তা নদী বিভিন্ন শাখা নদী এবং নালায় পরিণত হয়েছে। নৌকা চালানোর মত কোন জায়গা নেই। তাই নৌকা বিক্রি করে দিয়ে বিভিন্ন পেশার কাজ করে সংসার পরিচালনা করছি। হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহারুল ইসলাম জানান, তিস্তা নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় ৭ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কমপক্ষে দেড় হাজার নৌ-শ্রমিক ও জেলে আজ বেকার হয়ে পড়েছে। ওই সব নৌ-শ্রমিক ও জেলেরা বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিয়ে অতিকষ্টে জীবনযাপন করছেন। তিস্তা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনলে হয়তো ওই সব শ্রমিক পুনরায় তাদের পেশায় জড়িয়ে পড়তে পারবে। এ জন্য নদী খনন করা জরুরি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts