November 16, 2018

ক্লাব-রেস্টুরেন্টে অবাধে মদ বিক্রি!

মদ বিক্রি ও সেবন

ডেস্ক রিপোর্টঃ    রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়ায় অধিকাংশ ক্লাব-রেস্টুরেন্টে অবাধে চলছে মদ বিক্রি ও সেবন। এছাড়া ওই সব ক্লাবে চলছে অবৈধ নৃত্য, জুয়ার আসর ও অসামাজিক কর্মকান্ড।  এ ছাড়া রাজধানীর বারগুলোও মদ বিক্রিতে নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা করছে না। রাজধানী জুড়ে বারগুলোতে চলছে অনুমোদনহীন মদ্যপানের মহোৎসব। রেস্টুরেন্টের আড়ালেও বিক্রি হচ্ছে মদ। গুলশানে এক ইতালির নাগরিক খুনের ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও ক্লাব ও অবৈধ বারগুলোতে মাদক সেবীদের ব্যাপক সমাগমের কারণে তা পুরোপুরি কার্যকর করতে পারছে না পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে জড়িত সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং আন্তরিকতা না থাকলে অবৈধ মাদকের ব্যবহার রোধ সম্ভব নয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিদেশী মদের বার রয়েছে ৬০টি, রেস্টুরেন্ট বার ১৩টি, হোটেল বার মাত্র ৫ এবং ক্লাব বারের সংখ্যা ১৩টি। এর বাইরে ডিউটি ফ্রি শপ ৮টি এবং অফ শপ রয়েছে ৫টি। মাদক সেবনকারীদের বাৎসরিক হারে নির্ধারিত ফি দিয়ে পারমিট নিতে হয়। কিন্তু সরেজমিনে এরাম, গ্যালাক্সি, হোটেল সালমার, বিজয়নগর, সাকুরাসহ একাধিক বার ঘুরে যে কোন বয়সীদেরকেই মদপান করতে দেখা গেছে।

দিনে দুপরে একটি বারে বয়ফ্রেন্ডের সাথে এক তরুণীকেও মদ সেবন করতে দেখা গেছে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিংবা পারমিটবিহীন কেউ মদ পান করছেন কিনা তা তদারকির মূল দায়িত্ব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। অভিযোগ রয়েছে, সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট এলাকার অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এ ব্যবসা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে মদপানের পারমিট আবেদনের সঙ্গে ছবি সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিচয় প্রকাশের ভয়ে আবেদনের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। অথচ বারগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না। অভিযানকালে অনেক ভিআইপিকেও দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুলশান-বনানীর বেশিরভাগ হোটেল-রেস্তোরাঁ পরিণত হয়েছে মিনি বারে। বেআইনিভাবে এসব হোটেল রেস্তোরাঁয় প্রকাশ্যে দেদার বিক্রি হচ্ছে বিদেশী ব্র্যান্ডের মদ ও বিয়ার। সম্প্রতি গুলশানে ইতালির নাগিরক তাভেলা সেজার হত্যার পর ওই এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। রয়েছে কয়েক স্তরের পুলিশের চেকপোষ্ট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গুলশান এলাকার রেস্তোরাঁ ও ক্লাবের নামে গড়ে ওঠা অবৈধ বারগুলোতে বিভিন্ন পার্টির নামে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়াসহ অসামাজিক কার্যাকলাপ চলে। যে কারণে সেখানে জনসমাগম ঘটে। গভীর রাতে মদ খেয়ে রাস্তায় প্রকাশ্য উচ্ছৃঙ্খলতা, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোকালে চেকপোষ্ট থাকা পুলিশের সঙ্গে তর্ক লিপ্ত হবার ঘটনা ঘটেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরেরর সূত্র মতে, গুলশান থানা এলাকায় ক্লাব ও রেস্টুরেন্ট মিলে সর্বসাকুল্যে বার রয়েছে মাত্র ১৫টি। এগুলো হলো, হোটেল জাকারিয়া, ইউনিক হোটেল, হোটেল সারিনা, লেকভিউ, বেলাজিউ রেস্টুরেন্ট বার, লেকভিউ রিক্রেয়েশন ক্লাব, বাংলাদেশ কোরিয়ান ক্লাব, বাংলাদেশ কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব, লা ডিপ্লোমা বার, ব্লুমেন বার, রুচিতা বার, শিউল বার, গুলশান ক্লাব, গুলশান এ্যাপেল দোকান এবং অল মিডিয়া ক্লাব। অথচ গুলশানের অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট ও ক্লাবগুলো এক একটি মিনি বারে পরিণত হয়েছে। যেখানে অবৈধভাবে মাদক সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি সূত্র মতে, গুলশানের স্টিক হাউস, খাজানা, অলিভ গার্ডেন, হেরিটেজ রেস্টুরেন্ট, কফি ম্যাঙ্গো, ক্যাফে অ্যারাবিয়ান, ফ্লেমবি, ডি জ্যাং জিম রেস্টুরেন্ট, ক্যাসেল রেস্টুরেন্ট, অফ ট্র্যাক, স্প্রিট ফায়ার, সই,কফি ওয়েগা, ক্যাপিটাল ক্লাব, হোটেল ওয়াশিংটন, রোজ হুড, জায়ীকা রেস্টুরেন্ট, ইফিজ, ফুড ভিলেজ, খুশবু রেস্টুরেন্ট, মি. লাউঞ্জ, সাংহাই, আলগিরা, হুক্কা লাউঞ্জ, মিন্ট রেস্টুরেন্ট, রক রেস্টুরেন্ট, পেং ইয়াং রেস্টুরেন্ট, সুরা রেস্টুরেন্ট, সুরা অন, নিউ কিংস কিচেন ও কোরিয়ানা রেস্টুরেন্টে বিদেশি মদ বিক্রি হয়।

গত বছরের ৩০ আগষ্ট ক্যাপিটাল রিক্রেয়েশন ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। জব্দ করা হয় বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য। মামলা হয় ক্লাবটির সভাপতি কে এম মঞ্জুরসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ক্যাপিটাল ক্লাবটি কিছুদিন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে আবারও আগের অবস্থায়। প্রতিরাতে কোন কোন পার্টির আয়োজন থাকে ক্লাবে। ওই ক্লাবটিতে পার্টির আড়ালে চলে মদের আসর। এমনকি প্রায় প্রতি রাতেই কেসিনো নামক জুয়া খেলাও হয় এখানে। অভিযোগ রয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক লায়েকুজ্জামান হোটেল রেস্টুরেন্ট নামধারী এসব মদের আখড়া থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা নেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছকু থানা পুলিশের কয়েকজন উপ-পরিদর্শক বলেন, কূটনৈতিক পাড়ায় নিরপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব ও বার থেকে মদ পান করে বের হয়ে অনেকেই বেপরোয়া অবস্থায় গাড়ি চালায়। প্রকাশ্য রাস্তায় অনেকে উচ্ছৃঙ্খলতা করে। তাদের সামাজিক পরিচয় জানার পর চেকপোস্টে পুলিশকেও অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বারগুলোতে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অতি শ্রীর্ঘই সংশ্লিষ্ট মালিকদের নোটিশ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রোজোনের এডি সামসুল আলম। গুলশান এলাকার ক্লাব ও রেস্তোরাঁর নামে মিনি বারে পরিনত হয়েছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো-উপঅঞ্চলের উপ-পরিচালক মুকুল জ্যেতি চাকমা জানান, গুলশানের বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১৫টি বারের বাইরে যেখানেই মদ বিক্রি হোক না কেন তা অবৈধ।

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ক্লাব, রেস্টেুরেন্ট ও হোটেল বারগুলোতে অভিযান চালাচ্ছি। যে কারণে ক্লাবের নামে বারের কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। মাদকের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স। তবে অবৈধ মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অধীনে আরো কয়েকটি সংস্থা রয়েছে। তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। মুকুল জ্যেতি চাকমা আরো বলেন, সবার আগে আমদের নৈতিকতা অনুযায়ী নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় না থাকলে অবৈধ মাদকের ব্যবহার রোধ করা সম্ভব নয়। ইনকিলাব

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts