September 19, 2018

কোয়ালিফায়ারে মুস্তাফিজদের হায়দ্রাবাদ

স্পোর্টস ডেস্কঃ  সাকিব আল হাসান ছিলেন না কলকাতা নাইট রাইডার্সের একাদশে। এলিমিনেটর ম্যাচে কলকাতা-সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ম্যাচটার আকর্ষণ বাংলাদেশে তাই অর্ধেকটাই কমে গিয়েছিল। মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন বলেই ওই আধেক আকর্ষণ ছিল। আর দিল্লির এই ম্যাচে কলকাতাকে ২২ রানে হারিয়ে কোয়ালিফায়ারে চলে গেলো মুস্তাফিজদের হায়দ্রাবাদ। দুইবারের চ্যাম্পিয়ন কলকাতার হলো এবারের আইপিএল থেকে বিদায়। অথচ গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই তারা হারিয়েছিল হায়দ্রাবাদকে।

বুধবারের এই ম্যাচে আগে ব্যাট করে হায়দ্রাবাদ ৮ উইকেটে তুলেছিল ১৬২ রান। যুবরাজ সিং ৪৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে লড়ার সংগ্রহ দিয়েছিলেন। তবে খুব বড় সংগ্রহ না বলে বোলারদের ওপর নির্ভর করতে হয়। মুস্তাফিজ-ভুবনেশ্বর কুমাররা ডেথ ওভারে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে দেননি কলকাতার ব্যাটসম্যানদের। আটকে রেখেছেন। মনে হচ্ছিল তারা যেন ইয়র্কার মেশিন! টানা ইয়র্কার করে গেছেন নিখুত নিশানায়! ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে কোনো উইকেট না পেলেও বোলিংয়ে সুনীল গাভাস্কারের প্রশংসাও পেয়েছেন মুস্তাফিজ। বিশেষ করে ১৯তম ওভারে। ভুবনেশ্বর ৩ উইকেট নিয়ে এখন আইপিএলের সর্বোচ্চ ২১ উইকেটের মালিক। ৮ উইকেটে ১৪০ রানে মুস্তাফিজরা থামিয়েছেন কলকাতাকে।

শেষ চার ওভারে জিততে ৪৭ রান দরকার কলকাতার। মনিষ পান্ডে ৩০ রান নিয়ে উইকেটে। তার সাথে যোগ দিয়েছেন রাজগোপাল সতিশ। আগের দুই ওভারে ১৪ রান দিয়েছেন মুস্তাফিজ। আর গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে দিলেন ৮। পরের ওভারে ভুবনেশ্বর তুলে নিলেন আশা ধরে রাখা মনিশের (৩৬) উইকেট। ওভারে দিলেন ৬ রান। আরো কঠিন তখন কলকাতার জয়। স্নায়ুর ওপর চাপ ধরে রেখে মুস্তাফিজ ১৯তম ওভারে টানটান বল করছিলেন। এর মধ্যে একটা বাউন্ডারি হলো। কিন্তু মাত্র ৮ রান দিয়ে হাসিমুখেই কোটা শেষ করলেন মুস্তাফিজ। ভুবনেশ্বরের শেষ ওভারের কাজ তখন আরো সহজ। ৬ বলে ২৫ রান দরকার কলকাতার। ভুবনেশ্বর ২ উইকেট তুলে নিলেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়েছেন এই বোলার।

কলকাতার অধিনায়ক গৌতম গাম্ভির মনে করেছিলেন ১৬৩ রানের টার্গেট তাড়া করে জেতা যায়। কিন্তু রবিন উথাপ্পার (১১) সাথে তার ওপেনিং জুটি ব্যর্থ হলে কলকাতার দিন ভালো যায় না। ১৫ রানে বারিন্দর স্রান ভেঙ্গেছেন এই জুটি। কলিন মুনরোর (১৬) পর গাম্ভিরও ফিরেছেন। তিনি করেছেন ২৮ রান। মনিশের পরই তার সংগ্রহটা। ইউসুফ পাঠান (২) স্বস্তায় ফিরলে বিপদে পড়ে কলকাতা। ৬৯ রানে শীর্ষ চার উইকেট হারায় তারা।

সেখান থেকে মনিশ ও সুর্যকুমার যাদব টেনে তুলতে চেয়েছেন কলকাতাকে। ৪৬ রানের জুটি হলো। মুস্তাফিজ ১৫ রানে যাদবের ক্যাচও ফেললেন। কিন্তু মজেজ হেনরিকেস ব্যক্তিগত ২৩ রানে যাদবকে ফেরালেন বলে মুস্তাফিজের অস্বস্তিটা বেশিক্ষণ থাকেনি। গাম্ভিরের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেওয়ার পর হেনরিকেস যাদব-মনিশ জুটি ভেঙ্গে হায়দ্রাবাদকে এগিয়ে দিয়েছেন জয়ের দিকে। সেটিকে ডেথ ওভারে পূর্ণতা দিয়েছেন মুস্তাফিজ-ভুবনেশ্বররা। ৩১ রান করার পর ১৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হেনরিকেস।

এর আগে বাঁচা-মরার এই ম্যাচে তেড়েফুড়ে খেলে মর্নে মর্কেলকে দুটি বাউন্ডারি মারলেন শিখর ধাওয়ান। কিন্তু ওই দ্বিতীয় ওভারেই ধাওয়ানকে (১০) শিকার করেছেন মর্কেল। অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার ও হেনরিকেস দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়েছেন। দশম ওভারে চায়নাম্যান কুলদিপ যাদবের জোড়া আঘাতে ফেরেন হেনরিকেস (২১ বলে ৩১) ও ওয়ার্নার (২৮)। সেট দুই ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে চাপে হায়দ্রাবাদ।

যুবরাজ এই অবস্থায় এবারের আইপিএলে নিজের সেরা ইনিংসটা খেললেন। ৩০ বলে ৪৪। ৮টি চার ও ১টি ছক্কা। দিপক হুডার (১৩ বলে ২১) সাথে তার ৪৯ রানের জুটি ভক্তদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। হুডাকে রান আউট করার পর বেন কাটিংকে শিকার করেন যাদব। যুবরাজ ১৯তম ওভারে জ্যাসন হোল্ডারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন। ৯ নম্বর বিপুল শর্মা ৬ বলে ২ ছক্কায় ১৪ রানে অপরাজিত। কুলদিপের ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট হোল্ডার ও মর্কেলের। তবে বোলারদের পাশে বিপুলের ওই শেষ ওভারের দুই ছক্কার অবদান মানতেই হবে হায়দ্রাবাদকে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি ২৬ মে ২০১৬

Related posts