November 16, 2018

কোর্টের আদেশ অমান্য করে পুলিশি হয়রানি!

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ  ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় হামদহ পাড়ার মেয়ে উম্মে সালমা রুমি গত ২৭/০৭/২০১৫ তারিখে ঝিনাইদহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে হাজির হয়ে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার টুপি পাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলামের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলে মোঃ আতিকুর রহমানের নামে যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সি আর-১০৯/২০১৫(ঝিনাইদহ)। সেখানে উম্মে সালমা রুমি দাবী করেন আতিকুর রহমান তাকে বিবাহ করে এখন ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করছেন। এই মামলায় বাদী দেন মোহর ৫ লক্ষ টাকা দেখান হয়।

বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে এই মামলা, আদালতে একটি মিথ্যা মামলা হিসাবে প্রমানিত হয়। সেই সাথে প্রমানিত হয় যে উম্মে সালমার বিবাহ কাবিননামা জালিয়াতি করা হয়েছে। যাহার কারনে সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট, ঝিনাইদহ জনাব মোঃ সাজেদুর রহমান ২৩/১১/২০১৫ তারিখে প্রকাশ্য আদালতে আসামীর উপস্থিতে রায় প্রদান করেন। রায়ে উল্লেখ করেন যে অত্র মামলার আসামী আতিকুর রহমান পিতাঃ-রেজাউল ইসলাম, সাং-টুপিপাড়া, থানা-শ্রীপুর ও জেলা মাগুরার বিরুদ্ধে আনিত যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারার অপরাধ সন্দোহাতীত ভাবে প্রমানিত না হওয়ায় তাকে অত্র মামলা অভিযোগের দায় থেকে খালাস প্রদান করা হল । আসামী ও তার জামিন্দারদের কে জামিন নামার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল।

মামলায় হেরে যাবার পর বাদী কোন আপিল না করে পুনরায় গত সোমবার ০৪/০৪/২০১৬ তারিখে ঝিনাইদহ সদর থানায় আতিকুর রহমান, ও আতিকুর রহমাননের পিতা রেজাউল ইসলাম মাতা শাহানাজ আখতার হাওয়া মামা পীর মোহাম্মদ ভাই সাদিক সহ নুর মোহাম্মদ এর নামে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের হওয়ার পর গত শুক্রবার রাত ২ ঘটিকার সময় আতিকুর রহমানের গ্রামের বাড়িতে হাজির হয় বাদীপক্ষের লোকজন সহ এস আই আলাউদ্দিন।

ভুক্ত ভুগী আতিকুর রহমান বলেন, এই সময় আতিকুর রহমান তার নিজ বাড়িতে শুয়ে ঘুমাচ্ছিল। এই সময় ঝিনাইদহ থানার পুলিশ তার বাড়িতে কড়া নেড়ে পুলিশের পরিচয় দিলে আতিকুর বলেন যে আমার নামের আগের মামলা আদালতে খারিজ হয়ে গেছে বলে কোর্টের রায় জানালা দিয়ে দেখাতে গেলে পুলিশ বলে যে, আবার নতুন করে মামলা হয়েছে তোমাকে সেই মামালায় গ্রেফতার করার জন্য আমারা এসেছি। তাদের দেখে আতিকুরের বিশ্বাস হয় না যে তারা পুলিশের লোক এই অবস্থায় পুলিশের সাথে থাকা বাদির পক্ষের লোক জন আতিকুরের বাড়ির রান্নার চুলা, চুলার পাইপ ও জালনা ভাংচুর করেন। তারপর ঘরের মধ্যে পানির পাইপ দিয়ে পানি মেরে আতিকুরকে রাত্রে গ্রেফতার করেন। ইতিমধ্যে গ্রামের অন্যন্য লোকজন চলে আসে। পরে আতিকুর রহমানকে ঝিনাইদহ সদর থানার মাধ্যমে শুক্রবার ঝিনাইদহ জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্টেট তাকে সাথে সাথে জামিন প্রদান করেন।

আতিকুর আরও জানায়, আমি উম্মে সালমা রুমি নামের কাহার সাথে কোন প্রেমের সম্পর্ক ছিল না । সে আমার মায়ের ফুফুত বোনের মেয়ে, তাকে আমি মাত্র একদিন দেখাছি। আমি ছাত্র পড়ালেখা শেষ করি নাই। তাই কোন মেয়ে কে বিয়ে করার প্রশ্নই উঠে না। আমার বিরুদ্ধে যাহা বলা হচ্ছে তাঁহা মিথ্যা বানোয়াট ও ষড়যন্ত্র। উম্মে সালমা রুমি আমাকে পছন্দ করে শুনেছি কিন্তু আমি ওকে পছন্দ করি না। সে আমার সাথে জোর করে বিয়ে করতে চায়। তাছাড়া আমার বিরুদ্ধে পুলিশ যে বক্তব্য রেখেছেন তাঁহা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট। বিপক্ষ পাার্র্টির নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে এই ধরনের কথা বলছে। আমাকে যখন গ্রেফতার করে তখন একজন সাংবাদিক ছিল যিনি ঐ মেয়ের সকল অপকর্মের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এর আগে ঐ সাংবাদিক আমাকে হাত পা ভেঙ্গে দেওয়ার হুমকি প্রদান করেছেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন যে মামলায় রায় কোর্টে খারিজ হয়ে গেছে যেখানে আদালতে প্রমানিত হয়েছে যে উম্মে সালমা রুমির বিবাহের কাবিনের আইন গত কোন ভিত্তি নাই- সেই কাবিনের রেফারেন্স দিয়ে আবার থানায় কি ভাবে মামলা হতে পারে?এক মামলা কি বার বার করা যায়?যে ব্যাক্তি ঐভাবে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা করে তার জন্য কি আইনের কোন বিধান নাই? কত টাকার বিনিময়ে এই কাজ হয়েছে সেটাই প্রশ্ন?

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১১ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts