February 16, 2019

কোন বাঁধাই রুখতে পারেনি সালমার বিয়ে!

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর,কুমিল্লাঃ   কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরিক্ষার ফল প্রার্থী এক শিক্ষার্থীর বাল্য বিয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোন বাঁধাই তার এ বিয়ে রুখতে পারেনি। স্থানীয় সচেতন মহল, সাংবাদিক ও প্রশাসনের ঘাম ঝরা প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করেছেন বালিকাটির অভিভাবকরা।

জানা গেছে, উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের মেরকট গ্রামের ব্যবসায়ী সোয়াব মিয়ার মেয়ে সালমা আক্তার সাথী পার্শ্ববর্তী গোসাই বাজার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সদ্য শেষ হওয়া জেএসসি পরিক্ষা সম্পর্ণ করেছেন। বয়সের ঘর চৌদ্দ ছাড়িয়ে পনের ছুঁই ছুঁই। মানে সবে তার বয়স চৌদ্দ বছর নয় মাস। এ কিশোরী বয়সেই অনাকাঙ্খিত বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়েছে তাকে। যে বয়সে লেখা-পড়া, খেলা-ধুলা, দৌড়ঝাপ আর হই হুল্লুড়ে দিন কাটানোর কথা ছিল তার। অনেকদূর এগিয়ে যাবার স্বপ্ন লালন করছিলেন বুকে। কিন্তু এতে বাঁধ সাধেন, তাকে জন্মদান ও লালন পালনকারী বাবা-মা।

যারফলে, বিয়ে কি? তা না বুঝেও বিয়ের পিঁড়িতেই বসতে হয়েছে সাথীকে। কিশোরীটির বিয়ে উপলক্ষ্যে পুরো গ্রাম জুড়ে চলছে কানাঘুষা। এদিকে বিয়ে বাড়ী ঘিরে উৎসবের আমেজ। ১৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে এগারোটায় বিয়ে বাড়ীর সামনে যেতেই দেখা যায় অনেক ব্যয়ে নির্মিত একটি তোরন বা গেইট। নানা ঢংগে সাজানো হয়েছে বাড়ীটি। বিয়ের আসরে বর আগমনের অপেক্ষায় সাজানো ষ্টেজ, বাড়ীর লোকজন ও আমন্ত্রিত অতিথিরাও। চলছে অনেক রকমের বাহারী খাবারের আয়োজন। এরই মাঝে বিয়ে বাড়ীর আশপাশ ঘিরে শুরু হয়েছে হৈচৈ। পালিয়েছে মেয়ের বাবাসহ দায়িত্ববান লোকেরা।

এগিয়ে যেতেই দেখা মেলে নাঙ্গলকোট উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা লায়লা আন্জুমান আরা বানু ও থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোজাম্মেল হকসহ পুলিশ সদস্যদের। বুঝতে বাকি রইলনা, এ বাল্য বিয়েটি পন্ড করতে তারা এখানে এসেছেন। কিন্তু তারা তখনো বুঝতে পারেননি যে তাদের এ প্রচেষ্টা শেষ অবধি ব্যর্থতায় রুপ নিবে। প্রায় দেড়ঘন্টা ধরে ওই বাড়ীতে অবস্থান করে মেয়ের পিতা সোয়াব মিয়াকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। এ খবর জানতে পেরে আসেনি বর। বরের অপেক্ষায় সম্ভাব্য রাস্তায় অবস্থান করেও খোঁজ পায়নি পুলিশ। নিষ্ফল অভিযান শেষে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল বাতেনের স্বাক্ষরিত কনে পক্ষ থেকে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামার বিশ্বাস নিয়ে ফিরে আসেন আমাদের সু-যোগ্য প্রশাসনের আধিকারীকরা। যাতে লেখা ছিল মেয়ের বয়স আঠারো বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সাথীকে পাত্রস্থ না করার আশ্বস্থতা। যা ছিল কনে পক্ষের তাৎক্ষনিক রক্ষা পাওয়ার একটি কৌশল মাত্র। এদিকে, বর ছাড়াই বরযাত্রী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নের পালা শেষ করেছেন কনেপক্ষ।

অপরদিকে, দিন গড়িয়ে সন্ধ্যায় সাদামাটা পোষাকে কনের বাড়ীতে হাজির হয় বর। গোপনে সকলের অগোচরে রাত ৮টায় স্থানীয় এক মোল্লা দিয়ে বিবাহ পড়ানো হয়। বরের নাম সাইফুল ইসলাম মজুমদার। সে নাঙ্গলকোট পৌর বাজারের পূর্ব পাশে উকিল পাড়ার আলী নোয়াব মজুমদারের ছেলে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, অঙ্গীকারনামার শর্ত ভঙ্গ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts