November 14, 2018

কোটচাঁদপুর উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত

শিপলু জামান
ঝিনাইদহ থেকেঃ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাদেরকে বরাখাস্ত করা হয়। কোটচাঁদপুর উপজেলা নিবার্হী অফিসার দেবপ্রসাদ পাল জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম ও ভাইস চেয়ারম্যান মোয়াবিয়া হুসাইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহিত হয়ায় তাদেরকে স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।

ঝিনাইদহ প্রতিনিধির পাঠানো আরও কিছু খবর।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানী অভিযোগ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানীসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ০৮/১০/২০১৫ ইং তারিখে আবাসিক প্রকৌশলী যুগলবন্ধু রায় যোগদানের পর থেকে এসব গ্রাহক হয়রানী চরমে উঠেছে। গ্রাহক হয়রানী প্রতিবাদ করায় আবাসিক প্রকৌশলী ছুটির দিনে কোন প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই অচিন্ত বিশ্বাস নামের এক গ্রাহকের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিয়েছেন। দম্ভোক্তি প্রকাশ করে প্রকৌশলী যুগল বন্ধু রায় বলেছেন, শুধু অচিন্ত বিশ্বাস নয় তার বাড়ির লাইনসহ আত্মীয়-স্বজনের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, কালীগঞ্জ নিশ্চিন্তপুর খালপাড় নামক স্থানে একটি ইজিবাইক গ্যারেজে বিদ্যুৎ নিয়ে ব্যবসা করতেন আড়পাড়া প্রমানিক পাড়ার অচিন্ত বিশ্বাস। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার ইজিবাইক গ্যারেজের বিদ্যুতের মিটারটি পুড়ে যায়। পরে তিনি মিটারের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ নানা তালবাহানা করে তার সংযোগটি দেয়নি। অবশেষে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের কথা বলে ওজোপাডিকো এর কালীগঞ্জ সহকারি আবাসিক প্রকৌশলী মাসুম পারভেজ তার কাছ থেকে  ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তারপরও অচিন্ত বিশ্বাসের বিদ্যুৎ সংযোগটি দেয়নি।

অভিযোগে আরো জানা গেছে, কালীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে কোটি কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। অথচ সেসব স্থানের লাইন, নগদ নারায়নে তুষ্ঠু হয়ে আবাসিক প্রকৌশলী কখনও কাটেননি। মিটার ছাড়া সরাসরি বিদ্যুতের পোল থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে পুলিশের হাতে নাতে ধরা পড়লেও তিনি ওই গ্রাহকের বিরুদ্ধে আইনানুগ তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানাগেছে। বরং চুরি করা ওই গ্রাহককে তিনি বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন।

গোপন সূত্র জানায়, বিভিন্ন ইজিবাইক গ্যারেজের মালিকদের সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের মাসিক চুক্তি রয়েছে। প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনম্যান নাসির উদ্দীন ও আবাসিক প্রকৌশলীর খয়ের খা নামে খ্যাত সাইফুল এসব টাকা উত্তোলন করেন। পরে তা বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ার করে নেন। গ্রাহকরা আরো জানান, বিভিন্ন কাজে যখন তারা বিদ্যুৎ অফিস যান তখন তাদের সাথে চরম দুব্যবহার করা হয়। তারা আরো জানান, ইজিবাইক গ্যারেজ মালিকদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়াসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে তাদের লাইন কেটে দিয়ে বিদ্যুৎ অফিস এখন নিজেরাই ইজিবাইক চার্জের ব্যবসা শুরু করেছে।

সূত্র আরো জানায়, বিদ্যুৎ অফিসের সাথে সংশ্লিষ্ট রবিউল ও বিল্লাল নামে দুই ব্যক্তি এখন ইজিবাইক চার্জের ব্যবসা চালিয়ে করছেন। অন্যান্য গ্রাহকদের বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাদের লাইন কেটে দিয়ে আবাসিক প্রকৌশলী যুগল বন্ধু বিশেষভাবে তুষ্ঠু হয়ে রবিউল ও বিল্লাল নামের দুই ব্যক্তিকে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মূলত তারাই এখন ইজিবাইক চার্জের ব্যবসা করছেন।

গ্রাহক অচিন্ত বিশ্বাস জানান, তার মিটারটি পুড়ে গেলে তিনি আবেদন করেন। পরে তার কাছ থেকে বিল পরিশোধের কথা বলে ৩৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অধ্যবধী তার লাইনটি কাটা রয়েছে। এতে তার কয়েক লাখ লাখ ক্ষতি  হয়েছে। কোন পূর্ব নোটিশ ছাড়া বে-আইনীভবে লাইনটি কেটে দিয়ে আবাসিক প্রকৌশলী তার উপর ব্যক্তি আক্রাশ খাটিয়েছেন। তিনি আরো জানান, অনেকবার বলেও তিনি লাইনটি দেননি। অথচ তার কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা নেয়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ দেবার নামে।  যেহেতু অন্যায় ভাবে তিনি লাইনটি কেটে দিয়েছেন। এবং তার লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ কারনে তিনি ক্ষতিপূরনের দাবিতে আবাসিক প্রকৌশলী যুগলবন্ধুর বিরুদ্ধে সিভিল কোর্টে মামলাসহ সাংবাদিক সম্মেলন করবেন।

এ ব্যাপারে আবাসিক প্রকৌশলী যুগলবন্ধু রায় বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়নের কথা অস্বীকার করে বলেন, তার বিদ্যুৎ তো দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি উপরি মহলে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। যার কারনে এসই সাহেবের নির্দেশে তার লাইন কেটে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এসই সাহেব বলেছেন, তার গোষ্ঠির সকলের লাইন কেটে দিতে। আমি তাতো করেনি।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৫ মে ২০১৬

Related posts