November 17, 2018

কে এই ২৮৪ গডফাদার?

ঢাকাঃ  সারা দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় পাঁচশ’ ৫৫ জন চাঁদাবাজ সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২১৪ জন, বিএনপির ৫৪ জন ও অন্যান্য ২৮৭ জন। এছাড়া ছিনতাই, ডাকাতি, অজ্ঞান ও মলম পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬৫০ জন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৯৬ জন, বিএনপির ৩৮ জন ও অন্যান্য ৫১৬ জন। সব মিলিয়ে ১২০৫ জন সক্রিয় চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, ডাকাত, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যদের গডফাদার (পৃষ্ঠপোষক) ২৮৪ জন। এসব তথ্য উল্লেখ করে গেল সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে দেশের শীর্ষ এক গোয়েন্দা সংস্থা। সংস্থাটি প্রতিবেদনে বলেছে, সক্রিয় চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, ডাকাত, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যদের গডফাদারদের (পৃষ্ঠপোষক) মধ্যে ২৮৪ জন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ১৫৪ জন আওয়ামী লীগের, ২৭ জন বিএনপির ও অন্যান্য ১০৩ জন।

প্রতিবেদনে চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, ডাকাত, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টিচক্রের সদস্য এবং গডফাদারদের নাম, ঠিকানা ও রাজনৈতিক পরিচয় সংযোজনী আকারে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বিশেষ প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মানবজমিনকে বলেন, তাদের প্রতিবেদন আমরা অধিকতর যাচাই বাছাই করবো। সহসাই এ প্রতিবেদনটি পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিককালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টিচক্রের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। এ কারণে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর এবং গ্রামগঞ্জে এসব চক্রের সদস্যদের হাতে প্রাণহানির ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টিচক্রের সক্রিয় বা জড়িতদের সম্পর্কে সারা দেশে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর ভিত্তিতেই বিভাগ, জেলা ও উপজেলাভিত্তিক বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

সক্রিয় চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, ডাকাত, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টিচক্রের সদস্যদের ব্যবহার করা অবৈধ অস্ত্র সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, ডাকাত, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টিচক্রের সদস্যরা সাধারণ জনগণকে ভয়ভীতি দেখানোর কারণে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতরা নানা ধরনের অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করে থাকে। এসব অবৈধ অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পিস্তল, বন্দুক, কাটারাইফেলসহ ছোট- বড় দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি-রামদা-চাকু-ছোরাসহ দেশি অস্ত্র, ককটেল, বোমা, নানা ধরনের চেতনানাশক মলম ও স্প্রে। এসব অস্ত্র দুষ্কৃতিকারীরা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বা চোরাইপথে অবৈধভাবে সংগ্রহ করে। এছাড়া অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা নানা ধরনের চেতনানাশক মলম ও স্প্রে বিভিন্ন কেমিক্যালের দোকান ও ফার্মেসি থেকে সংগ্রহ করে থাকে। প্রতিবেদনে মন্তব্য আকারে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিককালে চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, ডাকাত, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টিচক্রের সদস্যরা সক্রিয় থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।

আসন্ন রমজান, ঈদুল ফিতর ও পরবর্তী সময়ে তাদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, ডাকাত দলের সদস্যরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সাধারণ জনগণের কাছে চাঁদা দাবি ও ডাকাতি করার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি বর্তমান সরকারের প্রতি সাধারণ জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে। এসব সন্ত্রাসী সরকারবিরোধীচক্রের পৃষ্ঠপোষকতায় গুপ্তহত্যা, খুনসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত করছে। প্রতিবেদনে চারটি সুপারিশ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, রমজানের আগে স্থানীয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, ডাকাত, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টিচক্রের সদস্যদের ধরতে সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া যায়। পাশাপাশি এসব চক্রের গডফাদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া যায়।

একই সঙ্গে আসন্ন রমজান, ঈদুল ফিতর ও পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারা দেশে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর ও সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া যায়। এছাড়া বর্তমানে দেশে গুপ্তহত্যা, খুনসহ বিভিন্ন স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে যারা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেয়া যায়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

উৎসঃ   মানব জমিন

Related posts