September 19, 2018

কে এই জুনায়েদঃ পুরো বিষয়ে সাদিয়ার বক্তব্য (ভিডিও)

নিউজ ডেস্ক: কথিত বান্ধবীকে খারাপ কথা বলার অভিযোগে নুরুল্লাহ নামে এক ছাত্রকে নির্যাতনকারী জুনায়েদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সেই ছাত্রী। একই সঙ্গে ওই ছাত্রী জুনায়েদের শাস্তিও দাবি করেন। কথা হয় ওই ছাত্রীর। তিনি বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার নুরুল্লাহ-ই তার ভালো বন্ধু। এক সঙ্গে তারা পড়াশুনা করেন। আর নুরুল্লাহ’র মাধ্যমেই গত প্রায় ৫/৬ মাস আগে জুনায়েদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের এক সপ্তাহের মধ্যে জুনায়েদ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।’
তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে জুনায়েদের প্রস্তাব পাওয়ায় অনেকটা অবাক হন তিনি। সে প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখান করেন। এরপর তার সঙ্গে তেমন কোনো যোগাযোগ ছিলো না। মাঝে মাঝে জুনায়েদ ফোন করতো। জুনায়েদের তার বন্ধু হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।

ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নুরুল্লাহ’র সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। আর নুরুল্লাহ আমার সম্পর্কে খারাপ কথা বলবে- সে প্রশ্নই আসে না। নুরুল্লাহকে মারধরের পর সে ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে দেওয়ার পর আমি জানতে পেরেছি।’

ওই ছাত্রী আরো বলেন, ‘এখন আমি জুনায়েদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। যেভাবে নুরুল্লাহ নির্যাতন করা হয়েছে তা অন্যায়। আমি মনে করি, দ্রুত পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।’

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুনায়েদের বাসা রাজধানীর গেন্ডারিয়ায়া। জুনায়েদ মাদকসাক্ত। ইয়াবা, ফেনসিডিল এমনকি নিয়মিত গাঁজাও সেবন করে। সে ও তার কয়েকজন সহযোগী মিলে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ধানমন্ডি লেকে অবস্থিত সাম্পান রেস্টুরেন্টসহ তার আশপাশের এলাকায় আসর জমাতো। জুনায়েদ এতটাই বেপরোয়া ছিলো যে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা সেবনের ছবি ফেসবুকে আপলোড করতেও দ্বিধা করত না।

সোমবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডি লেকের পাশে জুনায়েদ নামের এক বখাটে বান্ধবীকে খারাপ কথা বলার অভিযোগে অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এ লেভেলের ছাত্র নুরুল্লাহকে ব্যাপক মারধর করে। মারধরের দৃশ্যটি ইউটিউবে আপলোড করা হয়। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক-সহ আরো অন্যান্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর নির্যাতনকারী সেই জুনায়েদকে গ্রেফতারের ঝড় ওঠে।
নির্যাতনের শিকার নুরুল্লাহ পরে ধানমন্ডি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ জুনায়েদকে গ্রেফতারের জন্য মাঠে নামে।

নুরুল্লাহ বলেন, ‘আমি আসলে তাকে বা তার বান্ধবীকে কিছুই বলিনি। আমাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে। আমি জুনায়েদের বিচার চাই।’

ধানমন্ডি থানার ওসি নুরে আজম জানান, জুনায়েদকে গ্রেফতারের সবরকম চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত তাকে গ্রেফতার সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এক ব্যক্তি গভীর রাতে জুনায়েদকে ফোন করে। সেখানে ওই ব্যক্তি জুনায়েদকে সতর্ক করে দেন ও ক্ষমা চাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তিনি জুনায়েদকে ক্ষমা চেয়ে (অ্যাপোলজি) ভিডিও আপ করতে বলেন।

এরপর সোমবার একটি ‘অ্যাপোলজি’ ভিডিও আপ করা হয়, যেখানে জুনায়েদ শিকার করে, এভাবে মারা ঠিক হয় নাই। তবে সেই ছেলেটি জুনায়েদের সঙ্গে যে কাজ করেছে সেটাও ঠিক করে নাই। তবে ভিডিওতে সে ক্ষমা চেয়েছে, নাকি প্রহসন করেছে সেটি বোঝা যায় না। পাঠকদের জন্য ভিডিওটি দেওয়া হলো:


Brutal Junaed abused Nurulla of Oxford International School, Dhaka by TheGlobal.TV

Related posts