November 25, 2017

কেয়ার অধরা স্বপ্ন

aaa

(লেখক-সেলিনা জাহান প্রিয়া, সম্পাদনা-তোফায়েলে হোসেন জাকির) : দুপুর থেকে বৃষ্টি হচ্ছে । কেয়া জানালায় দারিয়ে কিছুটা সময় বৃষ্টিতে হাত ভিজালো । কাজের মেয়ে হিমু এসে বলল খালামনি খালুজি বৃষ্টির দিন বাসায় থাকলে খুব মজা হয় । আপনাকে নিয়ে ছাদে ভিজবেই । সবাই বৃষ্টির দিন খিচুড়ি পছন্দ করে কিন্তু খালু জান পছন্দ করে পোলাও আর শুকটি মাছের ভর্তা । এই কথা বলে হিমু খুব হাসে । কেয়া বলে তম্মার খালু হল রহস্য মানব তাই এমন সসব কিছু করে । কেয়ার স্বামী একটু ভিন্ন ধরনের মানুষ । নামটা খুব অন্য রকম কাসু । এটা কোন নাম । কিন্তু মাঝে মাঝে কেয়া বলে কাসু তোমার নামের অর্থ কি ? কাসু একটু হেসে বলে নারীর মনের খবর মানে কাসু । কেয়া বলে তাহলে বল তো আমার মনের কথা । কাসু বলে তুমি তো নারী না দেবী আর দেবীদের মনের কথা বলা নিষেধ । বিয়ের পর কেয়ার কোন দিন থ্রি পিস পড়া হল না । কেয়া কে শাড়ী পড়তে হয় সব সময় । দুপুর গড়িয়ে রাত ১২ টা কাসুর ফোন বন্ধ । কাসু একটু বৃষ্টি ভাব হলে তার সেল ফোন বন্ধ করে দিবে । কেন বন্ধ করে তার কোন উত্তর দেয় না সে । কলিং বেল শুনে দরজা খুলে ক্কেয়া অবাক কাসুর সাথে এক অপূর্ব মেয়ে । ঘড়িতে চেয়ে দেখে রাত ১.৩০ মিনিট । কেয়া কিছু বলার আগে কাসু বলে কেয়া ওর নাম অধরা । আমার বন্ধু বাসা থেকে রাগ করে চলে এসেছে । কেয়া বলল ও আচ্ছা ঠিক আছে । কিন্তু তোমরা কেউ ভিজলে না এত বৃষ্টি ।
কাসু হেসে বলে এটা রহস্য বুঝলে কেয়া । তুমি ওকে ওর রুম দেখিয়ে দাও । অধরা কে নিয়ে
কেয়া একটা রুমে যায় । কেয়া বলে আপনার নাম টা জানা হল না । মেয়েটা বলে আমি অধরা ভাবী ।
ও সুন্দর নাম । হাত মুখ ধুয়ে কিছু নেন অনেক রাত । অধরা বলল না ভাবী আমি কিছু খাব না । একটু রেস্টুরেন্ট এ খেয়ে এসেছি । কেয়া বলল একটু চা দেই । অধরা বলল ভাবী কিছুই লাগবে না আমি সকালে চা খাব । কেয়া বলল আচ্ছা ঠিক আছে রেস্ট করুন । আমরা কাজের মেয়েটা ঘুমিয়ে গেছে যদি মশা লাগে তাহলে ঐ খান থেকে মশারি নিয়ে টানিয়ে নিয়েন । কেয়া অধরার হাতের কাচের লাল চুড়ি গুলো চেয়ে দেখল । অধরা হাতের চুড়ি গুলো খুলে পাসের টেবিলে রাখল ।  aaa
কাসু যত রাতেই আসুক কাজের মেয়ে হিমু কে ডেকে তুলে বলবে মা হিমু তোর হাতের চা অপূর্ব । কেয়া রাতে বেশি হলে চা বানাতে চায় না । কেয়া রুমে এসে দেখে কাসু খুব সুন্দর ভাবে ঘুমিয়ে গেছে । কাসু ঘুমালে একবার আর উঠতে চাইবে না। কেয়া অধরা কে ? কেন এত রাতে স্বামীর সাথে ? কিছুই জানতে পারলো না । কেয়া ঘড়ি তে দেখে রাত ২.৩০ মিনিট । কাসুর পাশে লাইট বন্ধ করে কেয়া ঘুমাতে গেল । বাহিরে বৃষ্টি পড়ে যাচ্ছে মাঝে মাঝে বিজলি চমকাচ্ছে । কেয়া ঘুমিয়ে গেল ।
রাতে আকাশের প্রচণ্ড বিকট সব্দ করে উঠল , সেই শব্দে কেয়ার ঘুম ভেঙ্গে গেল । হাতের কাছে সুইস জালাতে গিয়ে দেখে বিদ্যুৎ নেই । তবে মেঘের বিজলীর আলোতে বার বার ঘর আলোকিত হচ্ছে । কেয়া চেয়ে দেখে তার পাশে কাসু নেই । ভাল করে দেখল না কাসু নেই । তবে কি বাথ রুমে । মবাইলের আলো জ্বেলে দেখে না বাথ রুম বন্ধ । কেয়া চুপ করে মোবাইল জ্বেলে কাসুকে খুজতে বারান্দায় যায় । কাসু বৃষ্টি হলে বারান্দায় বসে । না বারান্দায় কাসু নাই । ঘড়িতে দেখে রাত ৪.৪৫ মিনিট । কেয়া ভাবতে থাকে আরে কোথায় গেল । চেয়ে দেখে অধরার রুমের দরজা একটু খোলা । বৃষ্টি হচ্ছে আকাশে বার বার বিজলী চমকাচ্ছে । কেয়া অধরার রুমে প্রবেশ করে একে বারে বোকা হয়ে যায় । মেঘের ডাক আর বিজলীর আলোতে দেখতে পাচ্ছে কাসু পরম মমতায় অধরা কে বুকে জরিয়ে ঘুমিয়ে আছে । নিজেই নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছে না । কেয়া কিছু না বলে নিজের রুমে চলে আসে । কেয়ার চোখ দিয়ে পানি ঝরতে থাকে । বিছানা বসে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করছে ।
তার স্বামী তাকে বিছানায় রেখে অন্য মেয়ে কে বুকে জরিয়ে আরামে ঘুমাচ্ছে । ড্রয়ার খুলে একটা ঘুমের ট্যাবলেট হাতে নিয়ে বলে সকাল হউক । মা কে নিয়ে আসি । দেখাব তার ভদ্র মেয়ের জামাই কত বড় বদমাইশ । শান্ত ভদ্র ছেলে গুলো বদমাইশ হয় এটা প্রমানিত । কেয়া কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে যায় । সকাল ১০ টা বাজে কাজের মেয়ে হিমু এসে ডেকে তুলে কেয়া কে । কেয়ার চোখ দেখে হিমু বলে খালা আপনার কি হয়েছে । কেয়া একটু রাগ করে বলে আমার মাথা হয়েছে । তোর খালু কোথায় ?
হিমু বলে খালু কোথায় মানে ? রাতে কি খালু আসে নাই ?
—— আসছে তোর খালু রাতে তার জন্য নতুন একটা বউ নিয়ে । কোথায় তোর খালু ?
——- খালা মনি আপনে কি পাগল হয়ে গেলেন ?
——- হ্যা পাগল হয়েছি ? তোর খালু দেখ ঐ রুমে একটা মেয়ে নিয়ে ঘুমাচ্ছে ।
——- ঐ রুম তো আমি এই মাত্র পানি পরিষ্কার করলাম । জানালা খুলা ছিল মনে হয় তাই বৃষ্টির
পানির ছিটা দিয়ে ভিজে গেছে ।
—— বলিস কি ঐ রুমে কোন মহিলা নাই । কেয়া উঠে ঐ রুমে যায় । না কোন মহিলা নাই । বিছানা আগের মতো । কেয়া বলে হিমু তোর খালু আর ঐ মহিলা কখন গেছে ।।
——– খালা আপনি কি আবল তাবল বলছেন । খালু যত রাতেই আসুক আমার হাতের চা না খেয়ে কোন দিন ঘুমাতে গেছে । আজ আপনার কি হল । ঐ দেখেন মেইন দরজা লক ।
এমন সময় কেয়ার ফোন হতে নিয়ে দেখে ফোন বন্ধ । ফোন চালু করতেই কেয়ার ফোন বাজতে লাগে । কেয়া চেয়ে দেখে তার মায়ের কল ।
—– হ্যালো মা ।
—— কেয়ার মা খুব রাগ করে বলল কি রে রাত থেকে ফোন বন্ধ । বৃষ্টির মধ্য কোন খবর দিতে পারছি না । শুন জামাই রাতে বৃষ্টিতে ভিজে আমাদের বাসায় আসছে ।
—— মা কি বল কাসু তোমাদের বাসায় ?
—— হ্যা আমাদের বাসায় । সেই রাত দের টায় এসেছে । তার পর থেকে তোর ফোন বন্ধ ।
——- মা তুমি কি বলছ ? কাসু যদি তোমাদের বাসায় হয় । তাহলে গত রাতে অধরা নামে একটা মেয়ে নিয়ে আমার বাসায় আসে । মেয়েটা রাতে আমাদের বাসায় ছিল । কাসু আর ঐ মেয়ে কে সকাল থেকে পাচ্ছি না।
—— কেয়ার মা বলে হ্যা ভুত এসেছিল তোর বাসায় হারামজাতি । কাসু রাতে তোর বাবার সাথে এক সাথে খেল । আমি রাতেই একটু পোলাও রান্না করে শুকটি ভর্তা করে দিয়েছি । নে তুই তোর বাবার সাথে কথা বল । এই বলে কেয়ার বাবা কে ফোন দেয় । কেয়ার বাবা মেয়ের কথা শুনে বলে মা তুই কি রাতে ঘুমের মেডিসিন খেয়ে ছিস ।
———-কেয়া বলে হ্যা বাবা খেয়েছি ।
——— আচ্ছা কেয়া কাসুকে রাতে তোর কাজের মেয়ে হিমু দেখেছে ?
———- না বাবা হিমু দেখে নাই ।
———- মা তুই কোন স্বপ্ন দেখছিস । যাই হউক এই স্বপ্নের কথা কাসু কে বলিস না । তাহলে ছেলেটা কি মনে করবে । তুই বরং কাসুকে বলিস যে ফোন বন্ধ ছিল সরি । তুই এখনি কাসুকে একটা ফোন দে । ছেলেটা হয়ত অফিসে তোর জন্য চিন্তা করছে ।।
কেয়া ফোন টা ভাল করে দেখে । সব ঘর ভাল করে দেখে । কিন্তু টেবিলের উপর এই চুড়ি । কাজের মেয়ে কে ডেকে বলে হিমু এই চুড়ি এই খানে কেন ? হিমু বলে খালা মনি আমি পড়তে নিয়ে ছিলাম কালকে কিন্তু বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আর পড়া হয় নাই । কেয়া চুড়ি গুলো হাতে নিয়ে জানালা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয় । হিমু চেয়ে দেখে । কেয়া কাসুকে ফোন করে । কাসু একটু রাগ করে বলে কেয়া ঘুম থেকে উঠেছ । মানুষ এভাবে ঘুমায় । কত বার ফোন করেছি । সারা রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে । মতিঝিল থেকে উত্তরা আসার মতো কোন গাড়ি নেই । ভাগ্য ভাল আর কে মিশন রোডে তোমার বাবার বাড়ি না হয় অফিসে ঘুমাতে হত ।
————– কেয়া মনে মনে বুঝে গেল সে কোন স্বপ্ন দেখছিল । কাসুকে সরি বলে বলল আমি রাতে
খুব বাজে স্বপ্ন দেখেছি । তোমাকে বলা যাবে না। অফিস শেষ করে তারাতাড়ি চলে এসো ।
কাজের মেয়ে হিমু একটা হাসি দিয়ে বলে খালা মনি মাঝে মাঝে আপনি একে বারে পাগলের মতো করেন । খালু কই । কেয়া একটা হাসি দিয়ে বলল অফিসে । হিমু আমি কোন স্বপ্ন দেখছিলাম । যাই হউক করা করে এক কাপ চা দে তো । বৃষ্টি মনে হয় আজও শেষ হবে না।
কেয়া মনে মনে চিন্তায় পড়ে যায় এত বাস্তব স্বপ্ন মানুষ কি করে দেখে । সারা দিন ভাবতে ভাবতে বেলা শেষ হয় । বাহিরে বৃষ্টি পড়ে যাচ্ছে । কাসু ফোন করে বলে কেয়া আসতে রাত হবে । বিদেশী মেহমান আসছে তাদের কে হোটেলে রেখে আমাকে বাসায় ফিরতে হবে ।।
কেয়া একটা নীল রঙের জামদানি পড়ে । কপালে একটা নীল টিপ পড়ে । চুল গুলো সুন্দর বেণী করে ।
ঘড়িতে দেখে রাত ১২.৩০ মিনিট । কাজের মেয়েটা সুফায় আরাম করে ঘুমাচ্ছে । বৃষ্টি পড়ে যাচ্ছে
এমন সময় কলিং বেল উঠে । কেয়া দরজা খুলে দেখে কাসু সাথে একটা মেয়ে ভারী মিষ্টি চেহারা অপূর্ব সুন্দর নারী । কাসু আরে কেয়া ভিতরে আসতে দেবে না কি চেয়ে থাকবে । কেয়া আরে সরি ভিতরে আসো , উনি কে ? মেয়েটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে ভাবী আমি অধরা । আমরা একেই অফিসে কাজ করি । কাসু বলে বিদেশীদের রিসিভ করে হোটেলে রেখে আসলাম । অনেক রাত এত রাতে একা মেয়ে মানুষ কি করে বৃষ্টি মধ্য যাবে । বস বলল কাসু তোমার বাসায় অধরা কে নিয়ে যাও । তাই নিয়ে আসলাম । রাতে সবাই এক সাথে এক টেবিলে বসে খেল । কেয়া হিমু কে ডাকতে গেলে কায়েস বলে থাক ও ঘুমাক সকালে উঠে নাস্তা বানাবে । ডাকার দরকার নেই । কেয়া অধরা কে নিয়ে ঐ রুমে যায়
অধরা তার হতের লাল চুড়ি গুলো খুলে টেবিলে রাখে । কেয়া বলে ঐ খানে মশারী মশা লাগলে টানিয়ে নিয়েন । অধরা বলল ভাবী আপনার বাসা টা খুব সুন্দর । আর এই রুমটা ।।  aaa
কাসু কেয়া কে বলল জান অধরা খুব ভাল মেয়ে , খুব কাজের । আমার সাথে খুব ভাল সম্পর্ক । বসের সাথে না গিয়ে আমার সাথে চলে এসেছে ।। কাসু কেয়া এক সাথে ঘুমিয়ে যায় । বাহিরে বৃষ্টি বয়ে চলছে । গভির ঘুমে কেয়া । রাত ৪.৩০ মিনিট কেয়ার ঘুম ভেঙ্গে যায় । কেয়া দেখে তার স্বামী নেই । খুব ধীরে ধীরে সে অধরার রুমে যায় । অবাক হয়ে দেখে কাসু খুব আদর করে বুকে জরিয়ে রেখেছে অধরা কে । তাদের শরীরে পাতলা একটা চাদর । মেয়েটার শাড়ী টেবিলের উপরে । ব্লাউজ ব্রা পাশের চেয়ারে । দুই জনের খালি গায়ে একজন অন্য জনের বুকের ভিতরে পরম মমতায় জরিয়ে রেখেছে । কেয়া ভাবছে আজো সে স্বপ্ন দেখছে । সে তার নিজ রুমে আসে । নিজের হাত দিয়ে নিজের শরীরে চিমটি কাটে । হাতে ফোনটা নিয়ে তার মাকে ফোন করে । রাত ৪.৪৫ মিনিট । মা ফোন ধরে বলে কি রে কেয়া কাসু রাতে কি বাসায় আজো আসে নাই । কেয়া ফিস ফিস করে বলে মা তুমি খুব সকালেই চলে আসবে কাসু তাঁর অফিসের এক মেয়ে কে নিয়ে বাসায় এসেছে । আর এখন ঐ মেয়েকে নিয়ে আরামে ঘুমাচ্ছে । আমি এখন কি করব মা বলও ? কেয়ার মা বলল বলিস কি ? অফিসের মেয়ে নিয়ে বাসায় তার পর ঐ মেয়ের সাথে রাতে একেই বিছনায় । কেয়া মা তুমি কিছুই জানো না এমন করে সূয়ে থাক । আমি সকালে তোমার বাবা কে নিয়ে এসে এর একটা বিহিত করব । লক্ষ্মী মেয়ে তুমি কিছু উল্টা পাল্টা কর না । তুমি একা ঐ বাসায় এত রাত তার মধ্য বৃষ্টি এর মধ্য আমরা আসতে পারব না । কেয়া বলল ঠিক আছে মা তাই কর । আমি ঘুমের ভান ধরে সূয়ে রইলাম । বলে ফোন কেটে দেয় । কেয়ার বাবা বলে কার ফোন । কেয়ার মা বলে কেয়ার ফোন । মেয়েটা সেই গত কালের মতো বাজে স্বপ্ন দেখে আমাকে ফোন করেছে । সকালে সব ঠিক হয়ে যাবে ঘুম থেকে উঠলে । একটু সান্তনা দিয়ে ঘুম পারিয়ে দিলাম । কেয়া চুম করে সূয়ে থাকে একটু একটু ঘুম চোখে আসতে থাকে । আর ভাবছে সে কি সব স্বপ্ন দেখছে । অন্ধকারে চেয়ে দেখে কাসু খুব ধীরে তার পাশে এসে শুয়ে পরেছে । কেয়া ভাবতে থাকে হয়ত সে সব স্বপ্ন দেখছে , কেয়া এক সময় ঘুমিয়ে যায় । কাসু কেয়া কে খুব সতর্ক ভাবে জরিয়ে ধরে …………………………………।
(লেখক-সেলিনা জাহান প্রিয়া, সম্পাদনা-তোফায়েলে হোসেন জাকির)

Related posts