December 17, 2018

কেন উচ্ছ্বসিত নাদিয়া?


অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী যা-ই বলা হোক নাদিয়া দুই ক্ষেত্রেই সফল। দুটি ক্ষেত্রেই সবার কাছে সমাদৃত তিনি। শৈশব থেকে বরাবরই শৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত নাদিয়া। চলার পথে যত বাধাই আসুক না কেন সবসময় সেটাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন। আর নিজের সেই ধৈর্য দিয়েই এগিয়ে চলেছেন। জীবনের ক্রান্তি মুহূর্তে কখনোই ভেঙে পড়েননি  নাদিয়া। বরং কষ্টটাকে নতুন শক্তিতে পরিণত করেছেন। সেক্ষেত্রে সফলও হয়েছেন তিনি। এইতো গেল বছর অভিনেতা মনির খান শিমুলের সঙ্গে দীর্ঘ সংসার জীবনের ইতি টেনেছেন নাদিয়া। ওই সময়টাতে জীবনের ওপর দিয়ে একটা ঝড়ই বয়ে গেছে বলা চলে। তবুও ভেঙে পড়েননি তিনি।

হতাশায় ডুবে থাকেননি। নিজেকে সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন এ অভিনেত্রী। জীবন কারও জন্য থেমে থাকে না। এমন মন্ত্র বিশ্বাস করে মিডিয়াতে কাজ চালিয়ে গেছেন। সে সঙ্গে নতুন করে জীবন শুরু করেছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন তিনি। অভিনেতা নাঈমকে নিয়ে শুরু করেন নতুন অধ্যায়। সে সঙ্গে নাটকে অভিনয় তো রয়েছে। নতুন সংসার ও কাজের ব্যস্ততা এই দুই নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত নাদিয়া। তিনি বলেন, নাঈমের সঙ্গে বিয়েটা খুব তাড়াহুড়ো করেই হয়ে গেল। বিয়ের পর জীবনটা অনেক বদলে গেছে। নাঈম নিঃসন্দেহে ভালো একজন মানুষ। মূলত তার আগমন আমার জীবনটা বদলে গেছে। আমাদের বোঝাপড়াটাও বেশ দারুণ। নতুন করে নাঈমের মতো সঙ্গী পাওয়া আর অভিনয়ের ব্যস্ততা- সবমিলিয়ে দারুণ উপভোগ করছি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এখন অবধি ভিন্ন ধাঁচের চরিত্রে অভিনয় করে বরাবরই দর্শক আলোচনায় রয়েছেন নাদিয়া। এ মুহূর্তে একাধিক ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন তিনি।

সম্প্রতি কায়সার আহমেদের পরিচালনায় ‘বিট্রে’ নামের একটি নাটকের শুটিং শুরু করেছেন নাদিয়া। এছাড়াও তার অভিনীত অন্য ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে রয়েছে সকাল আহমেদের পরিচালনায় ‘বাবুই পাখির বাসা’, এস এ হক অলিকের পরিচালনায় ‘আয়না ঘর’, হুমায়ুন ফরিদের ‘পাগলা হাওয়ার দিন’, আল হাজেনের ‘লড়াই’, সৈয়দ শাকিলের ‘সম্রাট’, নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের পরিচালনায় ‘বাক্সবন্দী’, ফজলুর রহমানের ‘জীবনের অলি গলি’ ও সবুর খানের ‘দাগ’, ‘কমেডি অ্যাট কলোনি’, ‘পরণ কথা’, ‘গন্তব্য নিরুদ্দেশ’, ‘উত্তর পুরুষ’ প্রভৃতি। ব্যস্ততা প্রসঙ্গে নাদিয়া বলেন, হাতে এতগুলো নাটক। এগুলোর শুটিংয়ে সপ্তাহের প্রতিটি দিনই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। আলাদা করে নিজের জন্য সময় পাচ্ছি না। বিশেষত অনেকের ফোন রিসিভ করতে পারি না। তবে এ ব্যস্ততাকে উপভোগ করছি। কাজের মাঝে থাকলে ভালোই লাগে। ধারাবাহিকের পাশাপাশি খণ্ড নাটকেও নিয়মিত কাজ করছেন নাদিয়া।

সম্প্রতি ‘সৌদি জামাই’ নামের একটি খণ্ড নাটকের কাজ শেষ করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে নাটকে অভিনয় করছেন নাদিয়া। বর্তমান সময়ের নাটক নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক শোনা যায় প্রায়ই। নাটকের মান ভালো হচ্ছে না বলে দর্শক বিদেশি চ্যানেলমুখী হচ্ছেন দিন দিন। এ বিষয়ে নাদিয়ার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, চ্যানেল সংখ্যা বেড়েছে। কাজের পরিমাণ বেড়েছে সে সঙ্গে। কাজের মান নিয়ে তো সেক্ষেত্রে প্রশ্ন আসবেই। ভাল নাটক যেমন আছে, খারাপ কাজও হচ্ছে। এ অবস্থার মধ্য দিয়েই চলছে। তবে একটু অস্থিরতার মধ্যে যাচ্ছে বলে মনে করি। অস্থিরতা বলতে বলবো, অনেক প্রকৃত শিল্পীর কাজ কমে যাচ্ছে। অযোগ্য লোকেরা কাজ করতে পারছেন। যে কারণে নানান সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আর অনেক সময় শিল্পী নির্বাচনের জন্য নির্মাতার পরিবর্তে এজেন্সি কিংবা চ্যানেলের একটা প্রভাব থাকে। ধারাবাহিক নাটক নিয়ে আজকাল একটা কথা প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। আর তা হলো, ধারাবাহিকের ধারাবাহিকতা থাকছে না। আসলে সমস্যাটা কোথায়? এ ব্যাপারে নাদিয়ার মন্তব্য, কাজ অনেক বেশি হচ্ছে বলে শিল্পীদের শিডিউল নিয়ে ঝামেলা হয়।

যে কারণে গল্প যেভাবে যাওয়ার কথা সেটা যায় না। সে সময় যে সব শিল্পী উপস্থিত থাকেন তাদের দিয়েই গল্পটা টেনে লম্বা করার প্রয়োজন হয়। আরেকটা সত্যি কথা ভাল গল্পের বড় অভাব। আর যারা লিখছেন তারাও অনেক সময় বেশি লিখতে গিয়ে ভালটা দিতে পারছেন না। আর বিজ্ঞাপনের একটা ঝামেলা তো রয়েছেই। নাটকের মাঝে বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু হলে আর শেষ হয় না। কিংবা একটি নাটক কখন শুরু হবে সেই নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা থাকে না। আমরা অন্যদেশের সিরিয়াল দেখে ঘড়ির সময় মেলাতে পারি। কিন্তু আমাদের দেশে সেটা কখনও সম্ভব নয়। সত্যিকার অর্থে আমরা শিল্পীরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি দর্শক ফেরানোর জন্য।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/০৮ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts