November 19, 2018

কেন ‘ইত্যাদি’ আজও অনন্য ?

হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’

দীর্ঘদিন ধরেই স্টুডিওর বাইরে গিয়ে নন্দিত নির্মাতা হানিফ সংকেত সন্ধান করছেন আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সভ্যতা- আমাদের সাংস্কৃতিক অহঙ্কার। এ অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় এবার আমরা ইত্যাদিকে দেখলাম নোয়াখালীতে। নোয়াখালীর ভাষা বা নোয়াখালীকে নিয়ে খণ্ডিতভাবে অনেক অনুষ্ঠানই হয়েছে, কিন্তু ইত্যাদির এ পরিবেশনা ছিল অসাধারণ। পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ধারণ করা নান্দনিক সেটে বর্ণিল আলোয় চমৎকার লাগছিল ইত্যাদির এক-একটি পর্ব। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় গাওয়া তিনটি গানের অংশবিশেষ নিয়ে পরিবেশিত শতাধিক শিল্পীর নাচটি প্রথমেই নজর কাড়ে সবার। দর্শকপর্বে এবার উপহার দেয়া হয়েছে নোয়াখালীর দুজন গুণী শিল্পী তারিন ও মাহফুজকে।

নোয়াখালীর ভাষায় নির্বাচিত দর্শকদের নিয়ে তাদের নাট্যাংশটি ছিল উপভোগ্য। মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের লেখা গানে নোয়াখালী জেলার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। দীর্ঘদিন পর এবারের ইত্যাদির মাধ্যমে রবি চৌধুরীকে আবার ভিন্ন আঙ্গিকে দেখা গেল। বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষার অনুপম প্রয়াস- এ কথাটি যথার্থভাবে প্রযোজ্য ইত্যাদির বেলায়। বিউটি পার্লারের মাধ্যমে সমকালীন রাজনীতি, মোবাইলের ইমো প্রয়োগ করে ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার, টক শো, ডাক্তার দেখানোর বিড়ম্বনা, মামা-ভাগ্নে, নানি-নাতি ইত্যাদির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে সমাজের বিভিন্ন ক্ষত। আমাদের দেশ থেকে দালালদের খপ্পরে পড়ে প্রলোভন ও প্রতারণার স্বীকার হয়ে যারা পাচার হয়ে যায় তাদের নিয়ে আমরা টিভি পর্দায় অনেক প্রতিবেদন বা খবর দেখেছি কিন্তু আন্তর্জাতিক মানব পাচার নিয়ে ইত্যাদিতে যেভাবে ভুক্তভোগীদের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা ছিল অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ ও শিক্ষামূলক।

সরজমিন ইস্তাম্বুলের বদরুম সিটি ও এথেন্স সীমান্তে গিয়ে ইত্যাদির এ পরিবেশনাটি ছিল অত্যন্ত সাহসিকতাপূর্ণ। পরিবেশ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অধ্যাপক ইকবালের ওপর করা প্রতিবেদনটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা অনেক অজানা জিনিসকে জানি, অদেখা জিনিসকে দেখি। সেই বৃটিশ আমল থেকে এই ফেরি চলাচল করলেও আমরা অনেকেই এ বিষয়টি আগে জানতাম না। এবারের ইত্যাদির মাধ্যমে আমরা জানলাম কত কষ্ট করে ফেরির সঙ্গে রেলপথ যুক্ত করে ট্রেনের বগি পার করা হয়। ইত্যাদির শেষে থাকে একটি প্রতিবেদন। যে প্রতিবেদন কখনও আমাদের কাঁদায়, কখনও ভাবতে শেখায়- আমরা কোথায় আছি, কেমন আছি, কখনও আমাদের দিকনির্দেশনা দেয়- কোনটা ঠিক, কোনটা ঠিক নয়। এবারের বিষয় ছিল চিকিৎসা ও চিকিৎসক নিয়ে।

ভোলার লালমোহন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মাহমুদুর রশীদকে দেখা গেল চিকিৎসাসেবা দেয়ার পর তিনি নিজ হাতে হাসপাতাল পরিষ্কার করছেন। এর ফলে হাসপাতালকর্মী ও রোগীরাও হাসপাতাল পরিষ্কার করতে এগিয়ে আসছেন। এক কথায় এটি ছিল দারুণ একটি প্রতিবেদন। এবারের পর্বের বৈচিত্র্যপূর্ণ বিভিন্ন আইটেম, সেসবের নান্দনিক পরিবেশনা মিলিয়ে অনায়াসেই বলা যায়, হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’ এখনও অনন্য। এমন একটি দুর্দান্ত ইত্যাদি উপহার দেয়ার জন্য ধন্যবাদ হানিফ সংকেতকে। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ কেয়া কস্‌মেটিকস্‌ লিমিটেডকেও ইত্যাদির মতো চমৎকার একটি অনুষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাওয়ার জন্য।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts