September 19, 2018

কৃষি কর্মকর্তাকে পেটালেন দলীয় চেয়ারম্যান!


স্টাফ রিপোর্টারঃ  নীলফামারী জলঢাকা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা ও দুই উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তাকে বেধরক পিটিয়ে লাঞ্চিত করেছেন সরকার দলীয় আঃ লীগ নেতা। অভিযোগ উঠেছে আজ রবিবার দুপুরে উপজেলা অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটায় জলঢাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক কাঁঠালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহবার হোসেন তুহিন। এতে ওই তিন কর্মকর্তা আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে সোহরাব হোসেন জলঢাকা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে ওই কর্মকর্তাকে লাঞ্চিত করেন এবং সেখান থেকে বের হয়ে অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা  হরেন্দ্র নাথ রায় ও জাহাঙ্গীর আলম নামের দুই উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর চড়াও হন।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সাদেকুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, ’কাঠালী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন তুহিস দুপুরে আমার কার্যালয়ে আসেন, এসময় তিনি বোরো ধান সংগ্রহে তার ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডে কম কৃষকের নাম অন্তর্ভূক্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ দিতে থাকেন। এরপর অফিসের টেবিলে থাকা ডেক্স ক্যালোর তুলে সেটি দিয়ে এলোপাথারী মারতে থাকেন। এতে আমার কপাল ও মুখমন্ডল কেটে যায়। এরপর তিনি আমার কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাহিরে দুই উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর চড়াও হন’। তিনি বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তিনি জলঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নীলফামারী কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মোঃ ইদ্রিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন এ ঘটনার হামলা চালিয়ে লাঞ্চিত করার ঘটনা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায়না। আমরা এর বিচার চাই। জরুরী বৈঠক করা হয়েছে। এ জন্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।এ দিকে অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে সোহরাব হোসেন তুহিন বলেন, আমার ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১৫শত মানুষ বসবাস করেন। সেখানে ৬জন কৃষকের তালিকা করেছে কৃষি বিভাগ। যার মধ্যে ৪ জনই ভূমিহীন। আমি এর প্রতিবাদ করতে গেলে কৃষি কর্মকর্তা  নাটক সাজায়।

উল্লেখিত যে, মতে চলতি বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানে জলঢাকা উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার কৃষকদের সরকারি খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান বিক্রির জন্য দুই হাজার ১৭৬ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে কাঁঠালী ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় প্রায় ২৫০ মেট্রিক টন।

Related posts