September 26, 2018

কৃষকদের জমি না কিনে বালু ভরাট!

632
রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ   নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কা ন পৌরসভা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের হাটাব, নরাবো, আমলাবো ও কা ন এলাকার কৃষকদের জমি না কিনে জোরপূর্বক বালু ভরাট করে জবরদখল করছে ইষ্টউড সিটি নামে একটি আবাসন প্রকল্প । জোরপুর্বক বালু ভরাট করার প্রতিবাদ করায় আবাসন প্রকল্পের নিয়োজিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নিরীহ কৃষকদের হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ভয়ে নিরীহ এসব কৃষকরা প্রতিবাদ করার সাহসটুকুও পাচ্ছেনা। আবাসন প্রকল্পটির কাছ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেলও রক্ষা পায়নি। ক্যানেল ভরাট করে দখলে নিয়েছে তারা। এতে করে ওই ক্যানেল দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা যাচ্ছেনা। ফলে শত শত বিঘা ইরি-বোরো চাষ চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেই জোরপুর্বক বালু ভরাট কাজ অব্যাহত রেখেছে প্রকল্পটি।

ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষক ও স্থানীয় সুত্র জানায়, কা ন পৌরসভা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের হাটাব, নরাবো, আমলাবো ও কা ন এলাকায় স্থানীয় কৃষকদের প্রায় হাজার বিঘা জমি রয়েছে। আর কৃষকরা এসব জমিতে শীত মৌসুমে ইরি ধান রোপন করেন। ইষ্টউড সিটি নামে একটি আবাসন প্রকল্পের মালিক কামাল উদ্দিন আহাম্মেদ বেশ কয়েক বিঘা জমি ক্রয় করে। এছাড়া কৃষকদের কাছ থেকে সাইনবোর্ড প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ভাড়া নিয়ে বিলে প্রায় শতাধিক সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে। কোন প্রকার অনুমোতি ছাড়াই এবং আওয়ামীলীগের এক প্রভাশালী নেতার নির্দেশক্রমে বেশ কয়েক দিন ধরে আবাসন প্রকল্পের নিয়োজিত সন্ত্রাসী কাউসারের নেতৃত্বে তার বাহিনীর সদস্যরা আবাসন প্রকল্পের ক্রয়কৃত জমির পাশাপাশি কৃষকদের জমিতে বালু ভরাট করে জবরদখল করে আসছে।

দিনে কৃষকরা বাঁধা দেয়ায় রাতের আধারে কৃষি জমি জবরদখল করছে। শুধু তাই নয়, সারা রাত সন্ত্রাসী বাহিনী সশস্ত্র অবস্থায় ওই এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। মহড়ার কারনে এলাকার জনমতে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী। যেকোন সময় আবাসন প্রকল্পের নিয়োজিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে এলাকাবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

ইতিমধ্যে কৃষকদের কয়েক বিঘা জমি বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, ওই এলাকায় বেশ কয়েক বিঘা সরকারী খাস জমি রয়েছে। এসব খাস জমি বালু ভরাট করে জবরদখল করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেল ভরাটের ফলে পানি নিষ্কাশন করতে পারছেনা স্থানীয় কৃষকরা। চলতি ইরি বুরো মৌসুমে জমিতে সেচ দিতে না পারায় শত শত বিঘা ইরি জমিতে ধান চাষ চরম ভাবে ব্যহত হচ্ছে। বালু ভরাট ও পানি না পাওয়ার কারনে ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন এখানকার কৃষকরা।

অভিযোগ রয়েছে, নরাবো এলাকার কৃষক মফিজ উদ্দিনের পরিবারের ৭২ শতাংশ, এলাহী বক্সের ৪৯ শতাংশ, মকবুল হোসেনের ২৭ শতাংশ, ওমর আলীর ৫২ শতাংশ, মুনসুর আলীর ১৪৮ শতাংশ, এলাহী মিয়ার ৮৫ শতাংশ, মমতাজ উদ্দিনের ২৭ শতাংশসহ বেশ কয়েক বিঘা কৃষি জমি জবরদখল করেছে ইষ্টউড সিটি। কৃষকদের জমিতে জোরপুর্বক বালু ভরাট বন্ধ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যানেল দখল মুক্ত করে কৃষকদের ইরি চাষে সহযোগিতা করার দাবি জানান ভুক্তভোগীরা। এছাড়া আবাসন প্রকল্পের নিয়োজিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারেরও দাবি জানান তারা।

ইষ্টউড সিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন আহাম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি একটি মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে এখন কথা বলা সম্ভব না। এ বিষয়ে গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মতিন বলেন, অনুমোদন ছাড়া কোন আবাসন প্রকল্প কৃষি জমিতে বালু ভরাট করার কোন বৈধতা নেই।  ইষ্টউড সিটির অনুমোদন আছে কিনা আমার জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লোকমান হোসেন বলেন, জমি না কিনে কৃষকদের জমিতে জোরপুর্বক বালু ভরাট করবে এটা অন্যায়। এছাড়া সরকারী খাস জমি জবরদখলের বিষয়টি আমার জানা নেই।  এ ব্যপারে সহকারী ভুমি কর্মকর্তাকে অবহিত করা হবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts