November 21, 2018

কূটনীতিকদের সঙ্গে যে কথা হলো বিএনপি নেতাদের?

ঢাকাঃ জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করতে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপি। গতকাল বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। বিকাল সোয়া চারটা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির নেতারা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, স্পেন, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান, নেপাল, সিঙ্গাপুর ও জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার সহ অন্তত ২২টি দেশের কূটনীতিক অংশ নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কূটনীতিকদের তিনটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে অবহিত করেছে বিএনপি।

জানা গেছে, বিএনপি নেতারা গুলশানের হলি আর্টিজান ক্যাফে ও শোলাকিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার বিষয়ে দলের অবস্থান কূটনীতিকদের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছেন। জঙ্গিবাদ দমনে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তাসহ এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রস্তাবের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। জঙ্গিবাদ দমনে খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের প্রস্তাবকে কূটনীতিকরা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বৈঠকে উপস্থিত একজন বিএনপি নেতা জানান, মূলত সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী হামলা, খালাস পাওয়া মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাজার রায় ঘোষণাসহ বিএনপির নেতাদের মামলায় হয়রানি করাসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

কূটনীতিকরা গভীর মনোযোগ দিয়ে আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। কূটনীতিকরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জঙ্গি হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অপর একজন নেতা জানান, বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের অন্য সিনিয়র নেতাদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন একাধিক মামলায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক সাজা দেয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা কূটনীতিকদের অবহিত করেছেন বিএনপি নেতারা। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অংশ নেন।

তবে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের কোনো ব্রিফ করা হয়নি। বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর বলেন, রুটিন ওয়ার্কের অংশ হিসেবে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এ বৈঠক হয়েছে। এটা কেবলমাত্র একটি চা-চক্র। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সরকার জাতীয় ঐক্য গড়তে ভয় পায়। কারণ এর মাধ্যমে তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড উন্মোচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা ভয়াবহ খেলায় মেতেছে। সে জন্য তারা জঙ্গিবাদ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। দেশে উগ্রবাদের উত্থানে সরকারের মদত রয়েছে কি-না দেশবাসীর মধ্যে সে সন্দেহ রয়েছে।

Related posts