September 26, 2018

কুড়ি টাকায়ও চলছে না চাল

111

ডেস্কঃ রিপোর্টঃ   সরকারি গুদামে মজুত নিম্নমানের চাল খোলাবাজারে কুড়ি টাকায় বিক্রি করছে খাদ্য অধিদপ্তর। কিন্তু এরপরও চাল বিক্রি হচ্ছে না। এ অবস্থায় ৩২ টাকা কেজি দরে কেনা এই চাল এখন ১৫ টাকায় বিক্রির পরিকল্পনা করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

গত ১৩ নভেম্বর খাদ্য অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুদামে থাকা চালের বড় অংশের মান ক্রমশ কমছে। ওই প্রতিবেদনে দ্রুত চাল খালাসের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো সরকারি গুদামে মান পড়ে যাওয়া এক লাখ পাঁচ হাজার টন চাল রয়ে গেছে।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সার্বিক খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। এতে চাল মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই কীভাবে দ্রুত বিতরণ করা যায়, সে ব্যাপারে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদসহ অর্থ, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় চালের দাম কমিয়ে গুদাম খালি করার ব্যাপারে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে যে প্রস্তাব তৈরি করেছে, তাতে চাল ১৫ থেকে ১৬ টাকা কেজি ও আটার খুচরা মূল্য ১৪-১৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পাশাপাশি ইউনিয়ন ও মহানগরের ক্ষেত্রে ওয়ার্ডে ওএমএস কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জানতে চাইলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মুশফেকা ইকফাৎ বলেন, আগামী মে থেকে বোরো সংগ্রহ শুরু হবে। কিন্তু বেশির ভাগ গুদামে বেশ ভালো পরিমাণে চালের মজুত আছে। বণ্টনব্যবস্থায় কিছু বদল এনে ওই চাল দ্রুত খালাস করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রতি টন চালের প্রকৃত মূল্য ৩৬ হাজার ৩৩৫ টাকা ৫০ পয়সা। চলমান ওএমএস কার্যক্রমে প্রতি টন চালে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তুকি দিয়ে ১৭ হাজার ৮৩৫ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ টাকা কেজি দরে ওএমএস চাল বিক্রি করতে গেলে প্রতি টনে ভর্তুকি দিতে হবে ২১ হাজার ৩৫৫ টাকা ৫০ পয়সা। এতে প্রতি মাসে সরকারকে ওই খাতে ভর্তুকি দিতে হবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা।

ওএমএসের জন্য ওই অতিরিক্ত ভর্তুকি কোথা থেকে আসবে—এ প্রশ্ন করলে খাদ্যসচিব মুশফেকা ইকফাৎ বলেন, এ জন্য সরকারকে খাদ্য বাবদ নতুন ভর্তুকি যাতে বাড়াতে না হয়, সেভাবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যেসব খাতে বিনা মূল্যে চাল-গম দেওয়া হতো, সেখানে কিছু শুভেচ্ছামূল্য নেওয়া যায় কি না, সে ব্যাপারে চিন্তা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ২৩ নভেম্বর সরকারের খাদ্য পরিধারণ ও মূল্যায়ন বিভাগ থেকে ‘দাম কমালে বিক্রি বাড়বে’ এই যুক্তিতে চাল ও গমের দাম এক দফা কমানো হয়েছিল। প্রতি কেজি ওএমএস চালের দর ২৪ টাকা থেকে কমিয়ে ২০ ও গমের দাম ১৯ টাকা করা হয়েছিল। কিন্তু এর পরে সাড়ে তিন লাখ টন ওএমএসের চালের মধ্যে মাত্র ৮১২ টন বিক্রি হয়েছে।

গত ১৩ নভেম্বর খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফয়েজ আহমেদ খাদ্যসচিবের কাছে এক চিঠিতে জানান, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ৭৮ হাজার টন বোরো চাল এখনো রয়ে গেছে। ১২-১৩ মাস ধরে এসব চাল গুদামে আছে। চিঠিতে তিনি বলেন, সাধারণত বোরো চাল ১০ মাস ও আমন চালের মান ১২ মাস পর থেকে কমতে থাকে। এ জন্য এসব চাল দ্রুত খালাস করা প্রয়োজন।

ইতিমধ্যে এই চিঠি দেওয়ারও প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেছে। ‘সরকারি খাদ্যশস্য পরিস্থিতির গত ৩১ জানুয়ারির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুদামে ২০১৩-১৪ সালে কেনা ২৩ হাজার ৪৫৪ টন বোরো ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কেনা ৮১ হাজার ২১০ টন আমন চাল অর্থাৎ সর্বমোট ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬৪ টন পুরোনো চাল রয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো
দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts