September 24, 2018

কী হবে ৫ জানুয়ারি >> ঢাকায় জনসভা বিএনপির

269642_1

আলোচিত-সমালোচিত ‘৫ জানুয়ারি’র আর ৯ দিন বাকি। ক্ষমতাসীন সরকারের তিন বছরপূর্তি।

বিএনপি জোট এ দিনকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। এই দিনে ঢাকাসহ সারা দেশে ফের ব্যাপক শোডাউন করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল। বিএনপি বলছে, ‘শান্তিপূর্ণ’ ও ‘গণতান্ত্রিক’ পন্থায় এ কর্মসূচি পালন করবে তারা। সারা দেশের উপজেলা-জেলা ও মহানগরে ওই দিন ‘কালো পতাকা’ মিছিল বের করা হবে। তবে ঢাকায় দুইদিন পর ৭ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার চিন্তা-ভাবনাও করা হচ্ছে। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে নতুন নির্বাচনের দাবি নিয়ে ৫ জানুয়ারির আন্দোলনে থাকলেও বিএনপি এখন নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার চায়। এ নিয়ে শিগগিরই নতুন প্রস্তাব দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবও ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে দিয়েছেন তিনি।

সূত্রমতে, ৫ জানুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ আদালতে হাজিরার দিন ধার্য রয়েছে। ওই দিন তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই দুইদিন পিছিয়ে ৭ জানুয়ারি ঢাকায় ‘বিশাল’ শোডাউনের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই এ কর্মসূচি করতে চায় দলটি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করা হবে দু-একদিনের মধ্যে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এক কালো অধ্যায়। ২০১৪ সালের এই দিনে বিনা ভোটে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এদিন শান্তিপূর্ণভাবে ঢাকাসহ সারা দেশে কর্মসূচি পালন করব। তবে কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ’

দলীয় সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারির কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ করতে দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। কালো দিবসকে ঘিরে সরকার যাতে কোনো ফায়দা লুটতে না পারে, সে ব্যাপারেও নেতা-কর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিহার করতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচিতে ‘পরিবর্তন’ আনতে চাইছে বিএনপি হাইকমান্ড। কর্মসূচি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে জনসাধারণকেও পাশে চায় বিএনপি। এ নিয়ে শিগগিরই দলের স্থায়ী কমিটি ও ২০-দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বেগম জিয়া। পাশাপাশি দল-সমর্থিত বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষের পরামর্শ নেবেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ৫ জানুয়ারি অবৈধ পন্থায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। প্রতি বছরই এই দিনে বিএনপির কর্মসূচি থাকে। এবারও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি থাকবে। সময় হলেই গণমাধ্যমে কর্মসূচি জানানো হবে। একই কথা বলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানও।

বিএনপির কূটনীতি সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা বলেন, ৫ জানুয়ারি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি বিদেশিদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বিএনপি। এ নিয়ে সরকার যেন ঘোলা পানিতে মাছ না শিকার করে, সে ব্যাপারে দৃষ্টি রাখা হবে। নিজেদের দাবি নিয়ে নির্বাচনের দাবির ব্যাপারে বিদেশিদের সমর্থন আদায়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে বেশ কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০১৪ এবং ২০১৫। পর পর দুই বছর এ দিনটি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। বিএনপি মনে করে, ‘অবৈধ’ পন্থায় ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতাগ্রহণ করে। ওই নির্বাচনকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ আখ্যা দেয় দলটি। এ নির্বাচনে অর্ধেকেরও বেশি (৩০০র মধ্যে ১৫৩ টি) আসনে প্রার্থী নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি জেলায়। শতাধিক মানুষের প্রাণহানিও ঘটে। বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত করতে ঘোষণা করে ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’। কিন্তু সরকার ইট ও বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে রাখে বিএনপি চেয়ারপারনের বাসভবন। পরবর্তীতে বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ফের কর্মসূচি দেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। আওয়ামী লীগ এ দিনকে ঘিরে পাল্টা কর্মসূচি দেয়। দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন নিয়ে তৈরি হয় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ৫ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করা নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়। বিকল্প হিসেবে আওয়ামী লীগ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান কর্মসূচি এবং বিএনপি নয়াপল্টনে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়। তবে বিএনপির নেতা-কর্মীরা যেন ঢাকায় প্রবেশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারেন, এজন্য রাজধানীর প্রবেশমুখে কড়াকড়ি আরোপ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের রাখা হয় কড়া নজরদারিতে। ৫ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে অবস্থানকালে বেগম খালেদা জিয়াসহ কার্যালয়ের সবাইকে অবরুদ্ধ করা হয়। কার্যালয়ের সামনে বালু-খোয়ার ট্রাক রেখে অবরোধ তৈরি করা হয়। গ্রেফতার হন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির শীর্ষনেতারা। অবরুদ্ধ অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দেশজুড়ে তৈরি হয় সংঘাতময় পরিস্থিতি। ওই সময় বিএনপি জোটের টানা ৯২ দিন অবরোধ চলে। প্রথম বর্ষপূর্তিকে ঘিরে তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহাণি ঘটে। কয়েক হাজার মানুষ আহত হন।
উৎসঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

Related posts