December 13, 2017

কীর্তনখোলায় ট্যাংকারে সংঘর্ষে ১২ লাখ লিটার তেল নদীতে

Captureঢাকা::

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ন পয়েন্টে সাড়ে ১২ লাখ লিটার জ্বালানীবাহি তেলবাহি ট্যাংকারের সাথে ফ্লাইএ্যাশ বোঝাই কার্গোর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় এই দুর্ঘটনায় দুটি জাহাজেরই সামনের অংশ বিধ্বস্ত হয় এবং ট্যাংকারের একাংশের তলানী ফেটে বিপুল পরিমাণ ডিজেল নদীর পানিতে ভেসে যায়। স্থানীয় শত শত দরিদ্র বাসিন্দারা নদীতে ভেসে যাওয়া হাজার হাজার লিটার তেল তুলে নিচ্ছে। তারা নদী থেকে ডিজেল তুলে বিক্রি করতে পারায় সেখানে উৎসব মুখর পরিবেশের সৃস্টি হয়েছে।

নদী থেকে তেল উত্তোলন করা রফিক বলেন, নদীতে হাজার হাজার লিটার ডিজেল তেল ভাসছে। ৩ ঘন্টায় ৪০ লিটার তেল উত্তোলন করতে পেরেছেন।

দুর্ঘটনার শিকার তেলবাহি ট্যাংকার এমভি ফজরের মাস্টার জামসেদুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে ডিজেল ও পেট্রোল নিয়ে বরিশাল যমুনা ডিপোতে আসছিলেন। তাদের ট্যাংকারে ৩ লাখ লিটার পেট্রোল ও সাড়ে ৯ লাখ লিটার ডিজেল ছিল। কার্গো জাহাজ তাদের ট্যাংকারে সজোরে আঘাত হানলে ডিজেলের চেম্বারে আঘাত হানলে কীর্তনখোলা নদীতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ সময় দ্রুত ডিজেল অন্য চেম্বারে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে কি পরিমাণ ডিজেল ক্ষতি হয়েছে খালাস না করা পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।

মেঘনা গ্রুপের কার্গো এমভি মা-বাবার দোয়া-২ এর সুকানী মো. এরশাদ বলেন, তারা ভারত থেকে কার্গোতে ফ্লাইএ্যাশ বোঝাই করে মংলা বন্দর হয়ে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানির স্রোতের কারণে তেলবাহি জাহাজের সংঘর্ষ হয়। এতে তাদের জাহাজের সামনের কিছু অংশ ক্ষতি হয়েছে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে ১২ লাখ লিটার জ্বালানি বোঝাই করে এমটি ফজর বরিশাল যমুনা অয়েল ডিপোর উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। অপরদিকে, ভারত থেকে ১ হাজার ৬৪ মেট্রিক টন ফ্লাইএ্যাশ বোঝাই করে এমভি মা-বাবার দোয়া-২ নামে একটি কার্গো ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। সকাল সাড়ে ৮টায় তেলবাহি ট্যাংকার ও কার্গোটি বরিশাল নদী বন্দর সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর মুক্তিযোদ্ধো সংলগ্ন এলাকা অতিক্রমকালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় এবং নৌযান দুটির সামনের অংশ বিধ্বস্ত হয়।

কীর্তনখোলা নদীর চরকাউয়া পয়েন্টে ফ্লাইএ্যাশবাহী জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের সংঘর্ষে তেল ছড়িয়ে পরেছে নদীতে। এতে দুটি নৌ-যান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কি পরিমান ডিজেল নদীতে ছড়িয়ে পরেছে তা এই মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দুর্ঘটনার শিকার ট্যাংকার এমটি ফজরের মাস্টার জামসেদুর রহমান।

মেঘনা গ্রুপের ফ্লাইএ্যাশবাহী কার্গো জাহাজ এমভি মা-বাবার দোয়া-২ এর স্টাফ মোঃ এরশাদ বলেন, তারা ভারত থেকে মংলা বন্দর হয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে স্রোতের কারণে তেলবাহী ট্যাংকারের সাথে তাদের জাহাজের সংঘর্ষ হয়। এ সময় নদী বন্দরে অবস্থান করা পারাবত-১২ লঞ্চের পেছনেও ধাক্কা লাগে। এ দুর্ঘটনায় তার কার্গোর প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দুর্ঘটনার শিকার ট্যাংকার এমটি ফজরের মাস্টার জামসেদুর রহমান বলেন, তারা ঢাকা থেকে ডিজেল ও পেট্রোল নিয়ে বরিশাল যমুনা ডিপোতে আসছিলেন। তাদের ট্যাংকারে তিন লাখ লিটার পেট্রোল ও সাড়ে নয় লাখ লিটার ডিজেল ছিলো। কার্গো জাহাজ তাদের ট্যাংকারে সজোরে ধাক্কা দিলে ডিজেল চেম্বারের বাম পাশের অংশ ফেটে ডিজেল নদীর পানিতে ছড়িয়ে যায়। তারা দ্রুত ডিজেল অন্য চেম্বারে ছাড়িয়ে নিয়েছেন। তারপরেও ক্ষতির পরিমাণ তেল ওঠানোর আগে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছেনা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মোঃ হানিফ জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গেলেও তেমন কোনো উদ্ধার কাজ করতে হয়নি। তবে নদীর অনেক জায়গায় তেল ভাসতে দেখা গেছে।

এ দুর্ঘটনার ফলে বরিশাল নদী বন্দর এলাকা থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদীতে তেল ছড়িয়ে পরেছে। এতে ওই এলাকার প্রায় দেড়শতাধিক লোককে নদী থেকে তেল উত্তোলন করতে দেখা গেছে।

বান্দ রোডের বাসিন্দা হালিম ফকির জানান, তিনিসজ স্থানীয় জনতা প্রায় দুই শতাধিক ব্যারেল ডিজেল নদী থেকে উত্তোলন করেছেন।

বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভিকের দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম সেলিম বলেন, খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে এসে দুর্ঘটনার শিকার দুটো জাহাজ তারা নিরাপদস্থানে নোঙর করিয়ে রেখেছেন। দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে পরবর্তীতে জানানো হবে।

Related posts