September 23, 2018

কি ছিল পাঁচ খুনের নেপথ্যে !

নারায়ণগঞ্জে পাঁচ খুন এখনো পারিবারিক দ্বন্দ্বের আবর্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। এখন পর্যন্ত নৃশংস এ খুনের সঙ্গে অন্য কোনো সমীকরণ মেলাতে পারছে না আইনশৃংখলা বাহিনী।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মূলত অর্থনৈতিক সংকট থেকে পারিবারিক বিরোধের সূত্রপাত। এর সঙ্গে পরকীয়া সন্দেহ এ বিরোধকে তিক্ত করে তোলে। এরই জের ধরে হত্যাকাণ্ড।
তবে এ ক্লু এখনো অনুমান নির্ভর। এর পক্ষে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তদন্তের প্রথম ধাপে সন্দেহভাজন হিসেবে মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এদের তিনজনের ফোনালাপের রেকর্ড উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ফোনালাপের রেকর্ড পাওয়া গেলেই খুনের রহস্য উন্মুচিত হবে।
পরকীয়া নাকি ঋণ?

হত্যাকাণ্ডের কারণ নিহত তাসলিমার ভাই মোশারফ ওরফে মোর্শেদুলের সঙ্গে শরিফুলের স্ত্রী লামিয়ার অনৈতিক সম্পর্ক নাকি ঋণের অর্থ। এ বিষয়টিতে এখনো পরিষ্কার নয় পুলিশ।
তবে পুলিশ ধারণা করছে, ১৫ লাখ ঋণে জর্জরিত পরিবারটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। পাওনাদারদের হুমকির মধ্যে একরকম আত্মগোপন করেছিল পরিবারটি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, যারা টাকা পান, তারা নাকি ওই পরিবারকে (নিহতদের) তাড়া করতেন। নারায়ণগঞ্জে আসার আগে তারা আরও দুই-তিনবার বাসা চেঞ্জ করেন। এর আগে তারা ঢাকায় কলাবাগানে থাকতেন।

তাসলিমার স্বামী শফিকুল ইসলাম মামলার এজাহারে বলেছেন, ঢাকার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা নাজমা আক্তার ও শাহজাহান এবং তার ভাগিনা মাহফুজ ওরফে মারুফ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

শফিকুল যুগান্তরকে বলেন, তার শ্যালক নিহত মোর্শেদ কলাবাগান এলাকায় ব্যবসায়িক কাজের জন্য নাজমা আক্তার ও শাহজাহানের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা ঋণ নেন। এ টাকার জন্য তারা নানা ধরনের হুমকি দিত। এছাড়া দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও তারা কয়েক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের ভাগিনা মাহফুজ ওরফে মারুফ তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নিহত লামিয়াকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিত। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে বিচার সালিশও হয়।
এদিকে এক সূত্র দাবি করেছে, মাহফুজ হত্যায় জড়িত থাকার কথা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে পুলিশ সুপার খন্দকার মহিত উদ্দীন তা অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তাছাড়া সব তথ্যই এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, তদন্তের স্বার্থে এখনই সবকিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

নিহত তাসলিমার স্বামী শফিকুল ইসলাম শফিক বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা করেছেন। এজাহারে তিনি ঢাকার কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা নাজমা আক্তার ও শাহজাহান এবং তার ভাগিনা মাহফুজ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইলে দুই শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন- গৃহবধূ তাসলিমা (৪০), তার ভাই মোর্শেদুল ইসলাম (২২), জা লামিয়া (২৫), ছেলে শান্ত (১০) ও মেয়ে সুমাইয়া (৫)।

Related posts