December 13, 2018

কিশোরীগঞ্জে পুলিশের সাথে গ্রামবাসীর সংঘর্ষঃ পুলিশসহ আহত-২৫

মহিনুল ইসলাম সুজন,
ক্রাইমরিপোর্টার নীলফামারীঃ

নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার চাঁদখানা ইউনিয়নের চরকবন্দ গ্রামে একটি পোল্ট্রি ফার্মের নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে চার পুলিশ কনস্টবলসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার বিকাল থেকে চলা প্রায় তিনঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ চার রাউন- ফাকা গুলি ও চার রাউন- টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। আহতদের কিশোরীগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার ওই গ্রামে নর্থ পোল্টি ফার্ম নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীরের নির্মাণকাজ চলছিল। এসময় ভুয়া দলিলে জায়গা দখলের অভিযোগ এনে গ্রামবাসী ওই নির্মাণকাজে বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে নির্মাণ কাজ করতে চাইলে গ্রামবাসীর সঙ্গে নির্মাণকাজের সংশ্লিষ্টদের সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ সেই সংঘর্ষ থামাতে গেলে গ্রামবাসীর সঙ্গে-পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

এসময় পুলিশ কনস্টবল আব্দুল হামিদ, হারুন ও মাহবুব জুয়েলসহ পুলিশের চারজন সদস্য আহত হয়। অপরদিকে গ্রামবাসীদের মধ্যে আহত হয়েছেন- অজিফা বেগম (৪২), আছিয়া বেগম (৩৮), ফাতেমা (৪৭), নুর বানুসহ (৩৩) হাফিজার রহমান (৫২) , আবদাল হোসেন (৪৫), কানু বালা (৩৭), সহ প্রায় ২৫ জন।

আহত গ্রামবাসী হাফিজার রহমান  বলেন,‘নজুমামুদের পৈত্রিক জমিতে নর্থ প্লোট্রি ফার্মের মালিক ভুয়া দলিল দেখিয়ে দখল ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার সময় আমরা বাধা দেই।

এসময় ওই অন্যায়ের প্রতিবাদে গ্রামবাসী আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। কিন্তু পুলিশ এসে কিছু বুঝে উঠবার আগেই অতর্কিত ভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।আমাদেরকে লক্ষ কের পুলিশ গুলিও চালায়। পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে আবদাল হোসেন নামে একজনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষ অবস্হায়  ভর্তি করা হয়েছে।

চাঁদখানা ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান হাফি জানান, নিষেধ  করবার পরেও ফার্মের লোকজন প্রাচীর নির্মাণ করতে আসলে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পরে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

তবে সৈয়দপুর পুলিশের সার্কেল জিয়াউর হক জানান, সেখানে বিরোধপূর্ণ একটি জায়গায় একটি পোল্ট্রি ফার্মের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার সময় এলাকাবাসী বাধা দেয়। এতে ওই ফার্মের লোকজন কাজ বন্ধ করে চলে যায়। পরে সেখানে পুলিশ গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালায় গ্রামবাসী।

এতে চার পুলিম সদস্য আহত হয়ে  চিকিৎসাধীন রয়েছেন । পুলিশ চার রাউন- শর্ট গানের ফাকা গুলি ও চার রাউন- টিআর সেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।আর এ ঘটনায় কোন গ্রামবাসী সেখানে আহত হয়নি।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ১৬/০৭/২০১৬

Related posts