November 13, 2018

কিশোরকে হত্যা করলো মহিলা লীগ নেত্রীর স্বামী

কাজে আসতে দেরি করায় টঙ্গীতে এক মহিলা লীগ নেত্রীর স্বামী সুমন নামে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে হিমারদীঘি এলাকায় সুমনের ভাঙারি দোকানে। নিহতের নাম মোজাম্মেল হক মুজা (১৪)। গতকাল বিকালে হত্যাকারীর বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী নিহতের লাশ নিয়ে স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের বাসার সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে সুমন ও তার স্ত্রী মহিলা লীগ নেত্রী নাছরিনের ফাঁসি চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে।

পুলিশ ও নিহত মোজাম্মেলের মা বকুল জানান, সোমবার সকাল ১০টায় সুমনের লোকজন তিস্তা গেট এলাকায় নিহত মুজাকে ভাড়া বাসা থেকে ধরে এনে ভাঙারি দোকানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মালিক সুমনসহ ৪-৫ জন বেধড়ক পেটায়। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে তাকে দোকানের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। রাতে এলাকাবাসী ঘটনাটি টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে টঙ্গী মডেল থানা পুলিশের এসআই আবুল খায়ের রাত সোয়া ১টার দিকে দোকান থেকে টোকাই মজুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সুমন টঙ্গী থানা নেত্রী নাছরিন আক্তারের স্বামী হওয়ায় রহস্যজনক কারণে সারারাত মামলা না নিয়ে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে আপোষ-রফার চেষ্টা চালায়।

ঘটনার একদিন পার হলেও থানায় মামলা নেয়নি পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হলে গতকাল লাশের ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ সরকারি হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহত মোজাম্মেল হক মুজা ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার জালোয়া উত্তরপাড়া এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে। নিহত মোজাম্মেল স্থানীয় তিস্তা গেট এলাকায় হাবিবের বাড়িতে তার বাবা-মা’র সঙ্গে থাকতো। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী থানার এসআই আবুল খায়ের বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ পুলিশ রহস্যজনক কারণে এ ঘটনায় থানায় মামলা নিচ্ছে না। থানায় মামলা না নেয়ার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে গতকাল বিকালে স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেলের হস্তক্ষেপ কামনার জন্য তার বাড়ির সামনে এলাকাবাসী অবস্থান নেয়। পরে থানা পুলিশ সুষ্ঠু বিচার ও থানায় মামলা নেয়ার অ্বাশ্বাস দিলে তারা চলে যায়।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts