September 19, 2018

কাল কী হবে, কার পক্ষে যাবে?

আগামীকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সারাদেশে ২৩৪ টি পৌরসভার ভোট গ্রহণ। বিরোধীদল বিশেষ করে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীও তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা, এমনকি তাদের বাড়ি-ঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীনদের হামলা-ভাঙচুর, গুলি, হুমকি-ধমকি আর সন্ত্রাস সহিংসতার মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় নির্বাচনী পরিবেশ হয় উৎসব মুখর। নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করে খুশীর আমেজ। কিন্তু, বাংলাদেশ সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক হলেও পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোট গ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত টানা সংঘাত-সংঘর্ষের কারণে নির্বাচনী এলাকায় উৎসবের পরিবর্তে একটি ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

ভোটাররা নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কি না এনিয়ে শুধু সন্দেহ-সংশয়ই নয়, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেও রয়েছেন তারা। আনন্দ-উৎসবের পরিবর্তে ভোটারদের মধ্যে এখন ভয়-ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খবর নিয়ে জানাগেছে, সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং ভোটাররা নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে এমন আশ্বাস দেওয়া হলেও মানুষ তাদের কথায় কোনো ভাবেই আস্থা রাখতে পারছে না। কারণ, গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ৩ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেও সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে সুষ্টু নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঘটনা ঘটেছিল সম্পুর্ণ বিপরীত। তাই, ভোটাররা এখন আর সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচনের বুলি কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না।

বিশেষ করে গতকাল সোমবার নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ যে আহ্বান জানিয়েছেন, এটার পর ভোটারদের মনে সন্দেহ-সংশয় আরও বেড়ে গেছে। তারা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা শুধু কাগজে-কলমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সব কিছু চলছে সরকারের ইশারাতেই। নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুষ্টু পরিবেশ সৃষ্টি বর্তমান কমিশনের পক্ষে সম্ভব না।

এদিকে, সোমবার মধ্যরাত থেকেই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু, এর মধ্যেও বিভিন্ন জায়গায় আজ হামলা-ভাঙচুর ও প্রার্থীর বাড়িতে আগুন দেওয়ারও ঘটনা ঘটেছে।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, নির্বাচনের জন্য পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে নির্বাচন কমিশন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সাংবিধানিক ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। নির্বাচন কমিশনের তাতে বোধোদয় হয়নি। বরং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনাররা নির্বাচন নিয়ে এমন কিছু আচরণ করেছে যা হাস্যকর বলে আখ্যায়িত হয়েছে বিশিষ্টজনদের কাছে।

পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করছেন যে, তাদের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার কাজে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা বাধা দিচ্ছে। প্রচারের মাইক ভাঙচুর ও পোস্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রচারকর্মীদেরকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা মারধর করছে। গণসংযোগের সময় পুলিশ কর্মীদেরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশী তল্লাশির নামে তাদেরকে হয়রানি করছে। গ্রেফতারের ভয়ে প্রার্থীরা মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে পারছেন না। এমনকি প্রার্থীকে পর্যন্ত আহত-নিহত করা হয়েছে।

বিএনপির বক্তব্য হলো, ‘আমরা প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি সুষ্ঠু-অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষে সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে দিতে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের এসব অভিযোগ কোনো আমলেই নেয়নি। এতে তারা মুখে এখন যতই আশ্বাস দিক আদৌ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না, মানুষ ভোট দিতে পারবে কি না আমাদের যথেষ্ট সন্দেহ হচ্ছে।’

সরকারের চাপের কারণে যে নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছেন না এটা সকলের কাছেই স্পষ্ট।

আর এ কারণেই পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বর্তমান নির্বাচন কমিশন তা করতে পারছে না বলে সচেতন মানুষ মনে করছেন।

এ পর্যন্ত প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের যে ভূমিকা, তা যদি আগামীকাল ভোটের দিনও অব্যাহত থাকে তাহলে পৌর নির্বাচন যে সিটির মতো প্রশ্নবিদ্ধ হবে এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট, মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts