September 25, 2018

কার্ড জালিয়াতির নেপথ্য কাহিনীঃ হোতা ফরিদ লন্ডনে

বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথে কার্ড জালিয়াতির ‘মূল হোতা’ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ফরিদ নাবির।
কার্ড জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পিওটর সিজোফেন মাজুরেক নামের এক বিদেশি নাগরিক ও সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হলেও পালিয়ে গেছেন ওই ফরিদ নাবির।
গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্মকর্তাদের মতে পরিকল্পনার পাশাপাশি জালিয়াতি চক্রের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন নাবির। এ জন্য একাধিকবার বাংলাদেশে আসেন তিনি।
প্রথমে পিওটরের সঙ্গে ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসেন ফরিদ নাবির। গুলশানের হলিডে প্লানেটে অবস্থান করে ২০১৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা ছাড়েন তিনি। তবে পিওটর বাংলাদেশে থেকে যান।
দীর্ঘ এক বছর পর সর্বশেষ কার্ড জালিয়াতির জন্য ২০ জানুয়ারি ঢাকায় এসে আবারও হলিডে প্লানেট হোটেলে ওঠেন। ১৫ দিন অবস্থান করে ব্যাংকের কার্ড জালিয়াতির পর ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা থেকে লন্ডনে চলে যান নাবির।
হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ওই দিন সকাল ৮টা ১০ মিনিটে হলিডে হোটেল ছাড়েন ফরিদ। একটি নীল রঙের পাজেরো জিপে চড়ে বিমানবন্দরের দিকে রওনা হন তিনি।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহজাহান বুধবার রাতে বলেন,এই চক্রটি বাংলাদেশে আরও বড় ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। পিওটরসহ সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফরিদকে গ্রেফতারে আন্তর্জাতিক পুলিশের সহায়তা চাওয়া হতে পারে। রিমান্ডে তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে মামলার এ তদারকি কর্মকর্তা জানান।
একটি সূত্র বলছে, ফরিদ নাবির এখন লন্ডনে অবস্থান করছে। প্রথমে তার সঙ্গেই সিটি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তার পরিচয় হয়। পরে ফরিদের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে পিওটরেরও পরিচয় ঘটে। এরপর অন্য লোকজনের সঙ্গেও যোগাযোগ করে ফরিদ। লন্ডনে বসেও এ যোগাযোগ অব্যাহত রাখতো। এখন ফরিদের ব্যাপারে সেদেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গেও ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। বলা হয়েছে ফরিদকে নজরদারিতে রাখতে।
বাংলাদেশে ফরিদের বাড়ি সিলেটে শহরের পীরমহল্লা এলাকায়। জালিয়াতির এই কাজে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের সদস্য ইউক্রেনের এএনডি এবং রোমানিয়ার রোমিও। বাংলাদেশে ৩১ জানুয়ারি আসেন এএনডি ও রোমিও। রোমিও ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশ ছাড়েন। পরের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি চলে যান এএনডি। আর পিওটর এক বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন।
গত রোববার রাতে থমাস পিওটারকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ঘটনায় তিন ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। পিওটার জার্মানির নাগরিক হলেও মূলত তার কাছে থেকে একটি পোল্যান্ডের পাসপোর্ট পাওয়া যায়। এছাড়াও সে বিভিন্ন সময় একাধিক দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তিনটি ব্যাংকের চারটি এটিএম বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে গ্রাহকের তথ্য চুরি করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ লাখের অধিক টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংকের গুলশানের দুটি, ইউসিবির বনানীর একটি এবং সিটি ব্যাংকের মিরপুরের কালশি এলাকার একটি বুথ বিশেষ যন্ত্র বসিয়ে তারা গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ করে।

Related posts