November 15, 2018

কারাগারে নিজামীর ফাঁসি প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে

ঢাকাঃ  যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসির দন্ডদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বদর বাহিনী প্রধান মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের যাবতীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে কোন্ কারাগারে ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে তা নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকাশ করা হচ্ছে না। নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা ও গাজীপুরের সুবিধাজনক কোন কারাগারে ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে শুক্রবার গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নিজামীর সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা। রিভিউ খারিজের পর এটিই প্রথমবারের মতো সাক্ষাত। সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনসহ পারিবারিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তবে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কিনা, সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।

শুক্রবার নিজামীর স্ত্রীসহ পরিবারের ৬ সদস্য সাক্ষাত করতে যান। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, এটি তাদের নিয়মিত সাক্ষাতের অংশ।

আইনী লড়াইয়ের সর্বশেষ ধাপে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের মামলায় ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হয়ে যায়। খারিজ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে তার স্ত্রী বেগম সামসুন্নাহার নিজামী, ছেলে ব্যারিস্টার নাজীব মোমেন ওরফে নাজিবুর রহমান ও নাঈমুর রহমান, পুত্রবধূ ছালোয়া ও রাইয়ান এবং মেয়ে মোহসিনা ফাতেমা দেখা করতে কারাগারে যান।

শুক্রবার বেলা এগারোটার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ যান তারা। এরপর নিয়মানুযায়ী সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের নিজামীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়। সাক্ষাতপ্রার্থীরা বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে নিজামীর সঙ্গে দেখা করতে যান। কারাগারের একটি কক্ষে দুপুর বারোটা পর্যন্ত প্রায় ৪০ মিনিট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজামী কথাবার্তা বলেন।

এ সময় তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা ও পারিবারিক নানা বিষয়াদি নিয়ে কথা বলেন। সাক্ষাত শেষে নিজামীর পরিবারের সদস্যরা এক সঙ্গে কারা চত্বর ত্যাগ করেন। নিজামী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর ৪০ নম্বর ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামির সেলে বন্দী।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেলার নাশির আহমেদ জানান, আদালতের রায়ের কপি শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কারাগারে পৌঁছেনি। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর নিজামীকে ওই রায় আনুষ্ঠানিকভাবে পড়ে শোনানো হবে। এরপর নিজামীর প্রাণভিক্ষার বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করবেন কী করবেন না, তা কারা কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাশিমপুর কারাগারের সেলে বসেই রিভিউ খারিজের রায়ের খবর রেডিওতে শোনেন নিজামী। ওই খবর শোনার পর থেকেই তার ভেতরে অস্বাভাবিক নানা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আদালতে আইনী লড়াইয়ের চূড়ান্ত ধাপে রিভিউ খারিজ হওয়ায় তার মৃত্যুদ- বহাল থাকছে। আইনী লড়াইয়ের সর্বশেষ এ ধাপ অতিক্রম করার ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকরে আর কোন বাধা থাকছে না। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

উৎসঃ   জনকণ্ঠ

Related posts