November 18, 2018

কারখানার ৩ মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ সূত্রঃ জমি দখলের অভিযোগ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর বনাঞ্চলের ১০০ বিঘারও বেশি জমি দখলের অভিযোগ অনুসন্ধানে সেখানে গড়ে ওঠা তিন শিল্পকারখানার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বনবিভাগের কর্মকর্তার মাধ্যমে জমা নিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপপরিচালক ও অনুসন্ধানী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সোবহান তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি হানিফ স্পিনিং লিমিটেডের মালিক মো. হানিফ, রহমত টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের মালিক মোহাম্মদ আলী এবং এএম টেক্সটাইল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। দুদক সূত্র বাংলামেইলকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে।

দুদকের আসা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈর রেঞ্জের আওতায় বোয়ালী, কাশিমপুর, বাড়ইপাড়া, মৌচাক, রঘুনাথপুর, চন্দ্রা ও গোবিন্দপুর নামের সাতটি বিট এবং ভান্নারা ও গোবিন্দপুর নামে দুটি সাব বিট রয়েছে। এসব রেঞ্জের চন্দ্রা বিট ও মৌচাক বিটে বন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে জবরদখলকৃত ভূমিতে অবৈধভাবে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- চন্দ্রা (পল্লী বিদ্যুৎ) এলাকার ছাত্তার টেক্সটাইল (এক দশমিক ৩৪ একর), খাড়াজোড়া এলাকার সমাহার প্যাকেজিং (৭ দশমিক ৬৮ একর), মৌচাক এলাকার শামসুদ্দিন স্পিনিং (৭ দশমিক ১৬ একর), যুগিরচালা এলাকার রহমত টেক্সটাইল (৪ দশমিক ৩৮ একর), মৌচাক এলাকার হাইড্রো অক্সাইড লিমিটেড (২ দশমিক ৩০ একর), শ্রীফলতলী এলাকার চৌধুরী মনোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী (২ দশমিক ৫০ একর), মৌচাক এলাকার হানিফ স্পিনিং লিমিটেড (৬ একর), হরিণহাটি এলাকার আজিজ ইন্টারন্যাশনাল (দশমিক ৫০ একর), চন্দ্রা এলাকার আহসান কম্পোজিট (দশমিক ৪৯ একর), অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার (দশমিক ৪২ একর), জামিয়া মাদানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা (দশমিক ৪২ একর), অ্যাপেক্স টেরিটাওয়াল মিলস (দশমিক ৪৬ একর), পূর্ব চন্দ্রা এলাকার জালাল টেক্সটাইল বর্তমানে ফেয়ার ট্রেড কারখানা (দশমিক ৭০ একর), কালামপুর এলাকার বিনোদন পার্ক শিল্পী কুঞ্জ (দশমিক ১০ একর), সিহাব জুট মিলস (দশমিক ৪০ একর), সদরচালা এলাকার এনএম টেক্সটাইল (এক একর), মৌচাক এলাকার কোকোলা ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেড (৩ দশমিক ৭৪ একর) ও করানী কম্পোজিট লিমিটেড। ওইসব বনাঞ্চল এলাকার ১০০ বিঘারও বেশি জমা দখলে আছে।

এছাড়া ওই দুটি রেঞ্জের হিসাবের বাইরেও উপজেলার সফিপুর, চা বাগান, ভান্নারা, আন্ধারমানিক, পাইকপাড়া, ফুলবাড়িয়া, পাবুরিয়াচালা, পূর্ব চন্দ্রা, চন্দ্রা (পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা), মৌচাক, রাখালিয়াচালা, মেদিআশুলায়, বাংলাবাজার, নাবিরবহরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রভাবশালীরা কখনও জোর করে, কখনও আবার বিভিন্ন কৌশলে রাতের আঁধারে সংরক্ষিত বনের মূল্যবান শাল (গজারি) গাছ কেটে দখল করে নিচ্ছে বন বিভাগের জমি। ওইসব দখলদারের সঙ্গে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত বলেও দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, এ অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট পাঁচটি শিল্পকারখানার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তলব করা হয়েছিল। ওই নোটিশ অনুযায়ী তাদের গত ৫ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাবাদের কথা ছিল। কিন্তু তারা পরবর্তীতে সময় চাইলে আজ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই অভিযোগে ইতোমধ্যে কালিয়াকৈর বনবিভাগের সহকারী কমিশনারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts